ছ’মাস আগে পহেলগাম হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সেই অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও মডিউল ধ্বংস হয়েছিল। তার পর থেকেই সীমান্তের ওপারে শুরু হয় নতুন পরিকল্পনা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 November 2025 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) ফের সক্রিয় হচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan) মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আসা সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। জানা গেছে, লস্কর-ই-তইবা (LeT) ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি ফের সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন করে সমন্বিত হামলার ছক কষছে।
ছ’মাস আগে পহেলগাম হামলার (Pahalgam Attack) পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান (Operation Sindoor) করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সেই অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও মডিউল ধ্বংস হয়েছিল। তার পর থেকেই সীমান্তের ওপারে শুরু হয় নতুন পরিকল্পনা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের স্পেশ্যাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG) ও আইএসআই-এর সহযোগিতায় একাধিক লস্কর ও জইশ ইউনিট লাইন অব কন্ট্রোল (LoC) পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে জম্মু-কাশ্মীরে।
ড্রোনে নজরদারি, ফিদায়েঁ হামলার আশঙ্কা
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লস্করের এক ইউনিটের নেতা পাকিস্তানের দিক থেকে ড্রোনের (Drone) মাধ্যমে এলওসি-র দুর্বল জায়গাগুলির ছবি সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে ফিদায়েঁ হামলা বা অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলেই আশঙ্কা নিরাপত্তা বাহিনীর।
PoK-তে ফের সক্রিয় ‘বর্ডার অ্যাকশন টিম’
জঙ্গি ও প্রাক্তন সেনাদের নিয়ে গঠিত পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT) আবারও মোতায়েন করা হয়েছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK)। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই ইউনিটগুলিই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় সেনা ছাউনিতে হামলার চেষ্টা করতে পারে। সূত্রের খবর, অক্টোবরে পিওকে-তে জইশ, হিজবুল ও জামাত-ই-ইসলামি-সহ একাধিক সংগঠনের নেতারা আইএসআই-এর (ISI) সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—নিষ্ক্রিয় জঙ্গি সেলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, পুরনো কমান্ডারদের মাসিক ভাতা দিতে হবে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহতদের প্রতিশোধ নিতে নতুন হামলা চালানো হবে।
ফের সক্রিয় মাদক চক্র
লস্কর এখন কাশ্মীর উপত্যকায় স্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্গঠন করছে। একই সঙ্গে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থের জোগানও বাড়ানো হচ্ছে - যেমনটি এ বছর পাঞ্জাব ও রাজস্থানে দেখা গেছিল।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা
নতুন এই রিপোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকার 'গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা' হিসেবে দেখছে। উত্তর কমান্ডের সমস্ত সেক্টরে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর দ্বিতীয় ধাপও শুরু হতে পারে, যদি পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসের মদত অব্যাহত রাখে।