৫২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় অসমীয়া শিল্পী (Assamese singer) গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। গুয়াহাটিতে তাঁর শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
.jpg.webp)
জুবিন গর্গ (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 24 September 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া (Zubeen Garg Sudden Demise)। অসম সরকার তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। ৫২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় অসমীয়া শিল্পী (Assamese singer) গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। গুয়াহাটিতে তাঁর শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
ভক্তদের আবেগের কথা মাথায় রেখে অসম সরকার এবার এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুবিন গর্গের চিতাভস্ম এবার অনলাইনে বিতরণ করা হবে (Zubeen Garg’s Ashes To Be Distributed Online)। শুধু তাই নয়, কামারকুচিতে, যেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাহ করা হয়েছিল, সেখানে তৈরি হবে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ। জানা গেছে, কামারকুচি জোরহাটে জুবিন গর্গ (Zubeen Garg) তাঁর জীবনের বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন।
অসমের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী রণজ পেগু জানিয়েছেন, শ্মশানের ওই স্থানটি অবিলম্বে সুরক্ষিত করা হবে। তিনি বলেন, "যেখানে চিতা সাজানো ও দাহ করা হয়েছিল, সেই জায়গাটিকে আজ রাত থেকেই সুরক্ষিত করা হবে। অস্থায়ী ব্যারিকেড ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে, আর আজ রাত থেকেই দেওয়ালের কাজ শুরু হবে।" মন্ত্রী আরও জানান, "অসম সরকার একটি সহজ অনলাইন পোর্টাল চালু করবে, যেখানে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান আবেদন করে তাঁদের প্রিয় শিল্পীর চিতাভস্ম সংগ্রহ করতে পারবে। এই প্রক্রিয়াটি সংস্কৃতি বিভাগ তত্ত্বাবধান করবে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, "যদি প্রতিষ্ঠানগুলিকে অস্থি দেওয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকে এবং কোনও ব্যক্তিগত আবেদন আসে, সেক্ষেত্রেও তা বিবেচনা করে দেখা হবে। মৃত্যু-পরবর্তী ১৩তম দিনের যে সমস্ত রীতি-নীতি রয়েছে, তা জোরহাটে সম্পন্ন করা হবে। সেখানে একটি স্মৃতিসৌধও তৈরি হবে, শীঘ্রই জায়গা চূড়ান্ত করা হবে।"
মন্ত্রী জানিয়েছেন, 'আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কামারকুচির দাহস্থানে কাজ শুরু হবে।' মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) স্ত্রী গরিমা সাইকি গর্গ এবং পরিবারের অনুরোধে অস্থি জোরহাটে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে ১৩তম দিনের সব রীতি সম্পন্ন করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জোরহাটে আরও একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হবে।
আরও জানা গিয়েছে, "অস্থি থাকবে রাজ্যের সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের কাছে। আগামী দু'দিনের মধ্যেই পোর্টাল চালু হবে। যে কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবে। পরে যদি কোনও ব্যক্তিগত আবেদন আসে, বিভাগ তা-ও বিবেচনা করবে।"
অসম সরকারের এই উদ্যোগে জুবিন গর্গের অনুরাগীরা নিঃসন্দেহে আবেগপ্রবণ হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকার যে কোনও সুযোগ হাতছাড়া করছে না তাঁদের প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে, সেকথা বলাই বাহুল্য।