অসমের গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর উঠেছে বিশ্বাসভঙ্গ ও টাকা তছরুপের অভিযোগ। অবশেষে মুখ খুললেন তাঁর আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা। জানালেন, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন।

জুবিন (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 27 September 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গায়কের অকালমৃত্যুতে এখনও স্তম্ভিত ভক্তরা। কীভাবে শেষ হল জুবিন গার্গের জীবন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এর মধ্যেই তাঁর আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কখনও বলা হচ্ছে, জুবিনের টাকাপয়সার হিসাব নয়ছয় করেছেন তিনি, আবার কারও দাবি, গায়কের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতাও করেছেন। অবশেষে নীরবতা ভেঙে প্রথমবার সবকিছু নিয়ে মুখ খুললেন সিদ্ধার্থ।
অসম সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই ঘটনার পরই খোলাচিঠি লেখেন সিদ্ধার্থ শর্মা। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, জুবিনের প্রায় ৩৮ হাজার গান বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা ও সঙ্গীত কোম্পানির হাতে চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি হয়েছিল। লেখেন, 'আমি জুবিনদার জীবনে আসার অনেক আগেই তাঁর প্রায় সব গান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে বড় বড় হিট গানও রয়েছে। তিনি প্রায়ই আক্ষেপ করতেন যে, গান থেকে প্রযোজকেরা কোটি কোটি টাকা আয় করছেন, অথচ তিনি খুবই সামান্য পারিশ্রমিক পান। সংস্থাগুলির কাছে চাইলে এ তথ্য যাচাই করে নেওয়া যাবে।'
সিদ্ধার্থ আরও জানান, ২০২১ সালে জুবিন নাকি নতুন গানগুলির স্বত্ব নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ‘জুবিন গার্গ মিউজিক এলএলপি’। এই সংস্থার ৬০ শতাংশ মালিকানা ছিল জুবিনের। সিদ্ধার্থ বলেন, 'এই সংস্থা মাসিক কয়েক হাজার টাকা আয় করেছে মাত্র। সবটাই সংস্থার অ্যাকাউন্টে রয়েছে। এক টাকাও আমি ব্যক্তিগতভাবে নিইনি। জুবিনদার পরিবারের প্রাপ্য যাতে সঠিকভাবে তাঁদের হাতে পৌঁছয়, সেটা নিশ্চিত করব। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে তিনি যা আয় করতেন, সবই তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হত। সেই টাকা পুরোপুরি তাঁর স্ত্রী গরিমার হাতে তুলে দেওয়া হবে।'
সমস্ত অভিযোগের জবাবে সিদ্ধার্থ শর্মা স্পষ্ট বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে গুঞ্জন রটানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দুঃখজনক। বিশেষ তদন্তকারী দলের সঙ্গে আমি পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।'
'দয়া করে শান্তিতে তদন্ত হতে দিন। জুবিনদার প্রতি এটাই আমাদের কর্তব্য,' গায়কের অনুরাগীদের উদ্দেশে অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গুয়াহাটির দাতালপাড়ায় সিদ্ধার্থর বাড়িতে যখন বিশেষ দল তল্লাশি চালাতে আসে, তখনও চাঞ্চল্য ছড়ায়। সকাল সকাল পৌঁছনো সত্ত্বেও প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর তল্লাশি শুরু করতে সক্ষম হয় তদন্তকারীরা। তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।