গ্লোবাল স্টার হোক বা পাঞ্জাবি গায়ক, দিলজিৎ দোসাঞ্জ নামটাই যেন আলাদা ওজন রাখে। জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই যেন বিতর্কও পিছু নিচ্ছে তাঁকে।

১২৭টি কাট!
শেষ আপডেট: 13 July 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্লোবাল স্টার হোক বা পাঞ্জাবি গায়ক, দিলজিৎ দোসাঞ্জ নামটাই যেন আলাদা ওজন রাখে। জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই যেন বিতর্কও পিছু নিচ্ছে তাঁকে। এবার তাঁর সিনেমা ‘পঞ্জাব ৯৫’ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবিটি মূলত তৈরি হয়েছে মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনের উপর ভিত্তি করে। পঞ্জাবের অশান্ত সময়ে হাজার-হাজার মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা যিনি সামনে আনেন, সেই খালরার লড়াই এবং বলিদানকেই পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক হানি ত্রেহান।
তবে যতটা না আলোচনায় রয়েছে সিনেমার কনটেন্ট, তার চেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে এর উপর সেন্সর বোর্ডের কাঁচি। ভারতীয় সেন্সর বোর্ড CBFC এই ছবিতে ১২৭টি দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে! শুধু তাই নয়, 'পাঞ্জাব' শব্দটি নাম থেকে বাদ দিতে বলেছে বোর্ড। এমনকি ‘পাঞ্জাব পুলিশ’-এর বদলে শুধু ‘পুলিশ’ বলার নির্দেশ, এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামও সরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক হানি ত্রেহান বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ। তাঁর প্রশ্ন, ‘যদি গল্পটাই পাঞ্জাব নিয়ে হয়, তাহলে ‘পাঞ্জাব’ নাম থেকে কীভাবে বাদ দিই?’ তাঁর মতে, এতগুলো দৃশ্য বাদ দিলে ছবির আসল গল্পটাই হারিয়ে যাবে। ত্রেহান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি জোর করে এত কাটছাঁট করা হয়, তা হলে তিনি নিজেই ছবিটি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেবেন। তাঁর কথায়, ‘আমি এই ছবি সত্যতা আর সততার সঙ্গে তৈরি করেছি। এই ছবি রাজনীতি নয়, একজন সাহসী মানুষের লড়াই দেখায়, যিনি ২৫,০০০-এর বেশি নিখোঁজের তথ্য তুলে ধরেছিলেন বিশ্বের সামনে।’
জসবন্ত সিং খালরার স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালরাও সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ছবিটি তাঁদের পারিবারিক অনুমতি নিয়েই তৈরি হয়েছে এবং এতে কোনও বিভ্রান্তি বা ভুল তথ্য নেই। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাওয়াই উচিত।
হানি ত্রেহান বলছেন, ‘দেড়-দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু যদি শিল্পের মাধ্যমে আমরা নিজেদের কথা বলতে না পারি, তাহলে এই গণতন্ত্রের মানে কোথায়?”
ছবিটি এখন প্রশ্নের মুখে—এর আদৌ মুক্তি হবে কি না, কিংবা মুক্তি পেলেও আসল রূপে পৌঁছাবে তো দর্শকের কাছে? না কি সেন্সরের ছুরিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে একজন মানবাধিকার সংগ্রামীর বাস্তব জীবনকাহিনি? সময়ই দেবে সেই উত্তর।