দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম কোটা শ্রীনিবাস রাও—রবিবার (১৩ জুলাই, ২০২৫) ভোররাতে হায়দরাবাদে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

কোটা শ্রীনিবাস রাওয়ের প্রয়াত
শেষ আপডেট: 13 July 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম কোটা শ্রীনিবাস রাও—রবিবার (১৩ জুলাই, ২০২৫) ভোররাতে হায়দরাবাদে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার অভিনয়-জীবনে তিনি ছুঁয়ে গেছেন ৭৫০-এর বেশি চলচ্চিত্র। খলনায়ক, কৌতুক চরিত্র কিংবা গম্ভীর ভূমিকায়—যে ভূমিকাই হোক, তার অভিনয় ছিল চিরস্মরণীয়। তেলঙ্গনা উপভাষার অনন্য উচ্চারণ আর সংলাপ বলার ভঙ্গিমায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রতিটি দর্শকের হৃদয়ের কাছের মানুষ।
অভিনয় জীবনের সূচনা মঞ্চ থেকে হলেও, চলচ্চিত্রে পা দিয়েই বাজিমাত করেন কোটা। জন্মভূমি অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়া, তেলেঙ্গনা ভাষার দক্ষ ব্যবহারে তিনি আলাদা স্বাদ এনেছিলেন চলচ্চিত্রে। বিশেষ করে 'প্রতিঘটনা' ছবিতে রাজনীতিবিদের চরিত্রে তাঁর খলনায়ক-কাম-কৌতুক অভিনয় ছিল অনবদ্য। আর ‘আহা না পেল্লান্তা’ ছবিতে তাঁর হাসির দৃশ্য আজও দর্শকদের মনে হাসির বন্যা বইয়ে দেয়। রামগোপাল বর্মার ‘গায়াম’ ছবির সংলাপগুলো আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের খোরাক।
শুধু সিনেমাই নয়, রাজনীতিতেও একবার পা রেখেছিলেন কোটা। সহ-অভিনেতা ও বন্ধু বাবু মোহনের অনুপ্রেরণায় তিনি বিজেপি টিকিটে ১৯৯৯ সালে বিজয়ওয়াড়া থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। তবে পরে বুঝতে পারেন, রাজনীতি তাঁর স্থান নয়। সিনেমাতেই ফেরেন এবং সেটাকেই নিজের আসল ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
২০১৫ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করে। এছাড়াও নানা রাজ্য ও চলচ্চিত্র সংস্থা থেকে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে তখন, যখন তাঁর ছেলে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সেই শোক তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন, তারপর তাঁকে চলচ্চিত্রেও দেখা যায়নি তাকে।
আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ শোকস্তব্ধ। তেলেঙ্গনা মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি, সিনেমাটোগ্রাফি মন্ত্রী কোমাটিরেড্ডি ভেঙ্কট রেড্ডি, পরিবহন মন্ত্রী পোন্নাম প্রভাকর, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি এন. রামচন্দ্র রাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কোটা শ্রীনিবাস রাও শুধু অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক যুগের প্রবর্তক। তাঁর সংলাপে ছিল জীবন, অভিব্যক্তিতে ছিল বাস্তব, আর প্রতিটি চরিত্রে ছিল অভিনয়ের নতুন মাত্রা। আজ তিনি নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি, তার রসবোধ, তার চরিত্রচিত্রণ চিরকাল রয়ে যাবে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অমলিন অধ্যায়ে।