এ খবর পুরনো—সুপারস্টার জিতকে নিয়ে পরিচালক পথিকৃৎ বসু তৈরি করছেন এক ছবি, বলা ভাল বায়োপিক— ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’, যেখানে দর্শকরা জিতকে দেখবেন ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহের ভূমিকায়।

জিৎ-আবির। ছবি: এআই।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 13:40
এ খবর পুরনো—সুপারস্টার জিতকে নিয়ে পরিচালক পথিকৃৎ বসু তৈরি করছেন এক ছবি, বলা ভাল বায়োপিক— ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’, যেখানে দর্শকরা জিতকে দেখবেন ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহের ভূমিকায়। তবে ছবিটি নিয়ে যতটা উত্তেজনা, ততটাই ছিল চমকও। আর নতুন যে চমক তাতে যোগ দিল, তা হল এই ছবিতে থাকছেন না অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়!
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এ আবির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, পুলিশ অফিসার ইন্সপেক্টর দেবী রায়-এর ভূমিকায় অভিনয় করবেন। কিন্তু সূত্র বলছে, বেশ কিছু ছবির পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কারণে আবির ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অন্য এক সূত্রের মারফত যা জানা যাচ্ছে, অভিনীত চরিত্রের পুনরাবৃত্তি এড়াতেই তিনি এই ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এর আগে আবির ‘বহুরূপী’, ‘রক্তবীজ’, এবং ‘রক্তবীজ ২’-এর মতো ছবিতে একই ধরনের পুলিশ অফিসারের চরিত্রে কাজ করেছেন। তাই আবার একই ধরণের ভূমিকায় অভিনয় করতে কিছুটা দ্বিধাতেই ছিলেন তিনি।
‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ৬০-এর দশকের কলকাতাকে কেন্দ্র করে। গল্পের মূল নায়ক অনন্ত সিংহ—যিনি একসময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে।
স্বাধীনতা- তাঁর বিপরীতে ইন্সপেক্টর দেবী রায় চরিত্রটি আনা হয়েছে, যিনি তাঁকে ধরার উত্তর ভারতে সমাজের বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন পুলিশের চোখে ‘ডাকাত’। দায়িত্ব পান। ছবিতে আসে এক নতুন মোড়। অনন্তের সামরিক কৌশল, সংগঠনের মজবুত ভিত্তি এবং বুদ্ধিদীপ্ত কার্যকলাপ পুলিশের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পুরো ছবির বুনটে রয়েছে টানটান উত্তেজনা, বিশ্বাসঘাতকতা, আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব এবং এক ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে গভীর প্রশ্ন: তিনি কি শুধুই একজন বিপ্লবী? নাকি রাষ্ট্রবিরোধী এক দস্যু?
‘অনন্ত সিংহ’ চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে জিৎ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের চরিত্রে এর আগে কখনও কাজ করিনি। এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রটি যেমন জটিল, তেমনি অভিনয়গত দিক থেকে আমাকে ভেতরে ভেতরে বদলে দিচ্ছে।”
পরিচালক পথিকৃৎ বসুর কথায়, “অনন্ত সিংহ এমন একজন যোদ্ধা, যাঁর নাম ইতিহাসের পাতায় বড় অক্ষরে লেখা না হলেও, তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর কাহিনি তুলে ধরা জরুরি। আর ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আমি বহুদিন ধরে জিতদার ভক্ত। আমার কেরিয়ারের শুরুতে জিতদার সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলাম। এবার নিজে পরিচালনা করছি, আর তিনিই আমার মুখ্য অভিনেতা—এটা আমার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো।” ছবির চিত্রনাট্য লিখছেন অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্পণ গুপ্ত। শোনা যাচ্ছে ছবির সুরকার হিসেবে আবারও বাংলা ছবিতে কাজ করতে চলেছেন শান্তনু মৈত্র।
‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ নিঃসন্দেহে জিত-এর কেরিয়ারের এক মাইলস্টোন হতে চলেছে। অনন্ত সিংহের মতো এক জটিল, অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁকে দেখতে মুখিয়ে আছেন তাঁর অনুরাগীরাও।
অন্যদিকে, আবির চট্টোপাধ্যায়ের ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ থেকে সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে কিছুটা আফসোসের জায়গা তৈরি করতে পারে তাঁর ভক্তদের মধ্যে। নিজের অভিনয় বাছাইয়ে আবির সবসময়ই সচেতন—পুনরাবৃত্তি এড়াতে চরিত্র নির্বাচনে তাঁর কৌশলী পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য অন্য নতুন চমক দেবে বলেই প্রত্যাশা। আবিরের অনুপস্থিতি যদিও অনুভূত হবে, তবুও এই ছবি ঘিরে যে উচ্ছ্বাস, তা একেবারেই কম নয়। বাংলা সিনেমা পেতে চলেছে এক অন্যরকম গল্প, এক ভিন্ন স্বাদের চরিত্রচিত্রণ—যার কেন্দ্রে থাকবেন জিৎ, এবং আলোচনায় থাকবেন আবির।