একঘেয়েমিই কি অরিজিতের প্লেব্যাক ছাড়ার আসল কারণ? বিস্ফোরক মন্তব্য অনুরাগ কাশ্যপের।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 February 2026 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎই যেন এক যুগের অবসানের ঘোষণা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের প্রেম, বিচ্ছেদ, আকাঙ্ক্ষা, সব আবেগের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) যখন জানালেন, তিনি আর নতুন করে প্লেব্যাক গান গাইবেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নিজের মতামত জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ (Anurag Kashyap)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একই ধরনের গান বারবার গাওয়ার ক্লান্তিই হয়তো অরিজিতের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
অনুরাগের কথায়, “অরিজিৎ প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ সে একই জিনিস বারবার গাইতে গাইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সবসময় ব্রেকআপের গান। অথচ সে ভীষণ প্রতিভাবান একজন শিল্পী।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, অরিজিৎ শুধু গায়ক নন— ছবিতে, যেখানে অভিনয় করেছিলেন , সেখানে তিনি সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও একজন পরিচালক এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। অনুরাগের মতে, “অরিজিৎ শুধু হার্টব্রেকের গান গেয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না।”
পরিচালক আরও জানান, শিল্পী হিসেবে অরিজিতের অনুসন্ধিৎসা প্রবল। “আমরা একসঙ্গে কাজ করার সময় সে একটি গানের প্রায় একশোর বেশি সংস্করণ তৈরি করেছিল, কারণ আগে কেউ তাকে ওইভাবে গান গাইতে বলেনি। সে নিজের শর্তে কাজ করে। সঙ্গীত আত্মা থেকে আসে, আর সত্যিকারের শিল্পীরা আত্মা দিয়েই কাজ করেন। কিন্তু যদি তাদের নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে দেওয়া হয়, তাহলে তারা নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে না,” বলেন তিনি।
গত ২৭ জানুয়ারি, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই অরিজিৎ এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি লেখেন, “নতুন বছরের শুভেচ্ছা সবাইকে। এত বছর ধরে যে ভালবাসা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। জানাতে চাই, এখন থেকে আমি আর নতুন প্লেব্যাক কাজ নেব না। এই সফরটা দারুণ ছিল।”
অরিজিতের সঙ্গীতযাত্রা শুরু হয়েছিল রিয়ালিটি শো -এর মাধ্যমে। পরে ছবিতে ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে বলিউডে তাঁর আত্মপ্রকাশ। তবে জাতীয় স্তরে তাঁর উত্থান ঘটে -এর ‘তুম হি হো’ গান দিয়ে, যা সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের গানে পরিণত হয়।
এরপর একের পর এক স্মরণীয় গান—‘চান্না মেরেয়া’, ‘অগর তুম সাথ হো’, ‘রাবতা’, ‘কেশরিয়া’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘তেরা ইয়ার হুঁ ম্যাঁয়’, ‘তুঝে কিতনা চাহনে লাগা’—সবকিছুতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। এমনকি -এর ছবির গানেও তাঁর কণ্ঠ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।