টিনএজ বয়সেই মুম্বইয়ে কাজ করতে বাধ্য হন রেখা। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো একেবারেই সহজ ছিল না তাঁর জন্য।

রেখা
শেষ আপডেট: 18 May 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি সিনেমার প্রবীণ অভিনেত্রী রেখা খুব অল্প বয়সেই বলিউডে পা রাখেন। তামিল অভিনেতা জেমিনি গণেশন ও পুষ্পবালার মেয়ে হলেও, বাবার নাম বলিউডে তেমন সাহায্য করেনি তাঁকে। তখন পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। টিনএজ বয়সেই মুম্বইয়ে কাজ করতে বাধ্য হন রেখা। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো একেবারেই সহজ ছিল না তাঁর জন্য।
চলচ্চিত্র সাংবাদিক ইয়াসির উসমানের লেখা বই ‘Rekha: The Untold Story’-তে উঠে এসেছে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা। বইটির দাবি, ১৯৬৯ সালে ‘অঞ্জনা সফর’ নামে একটি সিনেমার শুটিং চলাকালীন (যার নাম পরে পালটে হয় ‘ডু শিকারি’), পরিচালক কুলজিত পাল, চিত্রগ্রাহক রাজা নাওয়াথে এবং অভিনেতা বিশ্বজিৎ মিলে একটি চুম্বনের দৃশ্য হবে বলে ঠিক করেন। কিন্তু এই চুম্বনের কথা নাকি জানতেন না রেখা।
বইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শট নেওয়ার সময় আচমকাই বিশ্বজিৎ রেখার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসেন। ক্যামেরা চালু থাকায় তাঁকে কিছু বলার সুযোগই মেলেনি। রেখা নাকি পুরোপুরি হতবাক হয়ে যান, এবং পরে ওই ঘটনার জন্য বিশ্বজিৎকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মনে করেন। যদিও বিশ্বজিৎ পরে বলেছিলেন, “এটা আমি আমার নিজের আনন্দের জন্য করিনি, চরিত্রের জন্য জরুরি ছিল।”
তবে এই ঘটনা নিয়ে অন্যরকম দাবি করেছিলেন পরিচালক কুলজিত পাল। তাঁর মতে, রেখা সেই দৃশ্য সম্পর্কে জানতেন এবং সম্মতিও দিয়েছিলেন। কুলজিতের ভাষায়, “রেখা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। আমি শুধু বলেছিলাম, এটা যেহেতু হিন্দি ছবিতে সাধারণত হয় না, তাই যদি কেউ প্রশ্ন করে, তখন তুমি বলবে, ‘আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি।’ কিন্তু ও দৃশ্যটা সম্পর্কে জানত।”
উল্লেখ্য, ‘ডু শিকারি’র শুটিং শুরু হলেও ছবিটি মুক্তি পায় প্রায় এক দশক পরে—১৯৭৯ সালে। তার মধ্যেই ১৯৭০ সালে ‘সাওন ভাদোঁ’ ছবির মাধ্যমে রেখার হিন্দি ছবিতে অভিষেক ঘটে। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘ধর্মাত্মা’, ‘ঘর’, ‘মুকাদ্দর কা সিকন্দর’, ‘মিস্টার নটওয়ারলাল’-এর মতো একাধিক সফল ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা পাকা করে নেন বলিউডে।