মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শেষবারের মতো ডা. সুনীল সেনের হাত ধরে উত্তম কুমার আবারও বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচান।” কিন্তু সময় ফুরিয়ে এসেছিল। ২৪ জুলাই ভোরে চিরনিদ্রায় চলে যান মহানায়ক। ২৪ জুলাই তাঁর মরদেহ আনা হয় গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। মহানায়কের প্রতি জনতার আবেগ সেদিন ইতিহাস হয়ে থাকে।

শেষ আপডেট: 4 January 2026 14:47
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর ৪৪ বছর পরেও উত্তম কুমার বাঙালির হৃদয়ে অমলিন। সময় বদলেছে, নায়কের সংজ্ঞা বদলেছে, কিন্তু মহানায়কের জায়গা আজও কেউ নিতে পারেননি। বাহুল্যহীন ব্যক্তিত্ব, ভুবনভোলানো হাসি আর গভীর চোখের চাহনিতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন রোম্যান্টিসিজমের চূড়ান্ত প্রতীক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছিল, মৃত্যুর কয়েক বছর আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন উত্তম কুমার। নিয়মিত চলত চিকিৎসা । ২৩ জুলাই ১৯৮০, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শেষ দিনের শুটিং চলাকালীন হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। কিন্তু অসাধারণ পেশাদারিত্বে তা বুঝতে না দিয়ে অভিনয় শেষ করেন। পরে এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকেব নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানেই পরপর তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। প্রয়োজনীয় একটি ইনজেকশনের অভাবে চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলেই জানা গিয়েছিল। গোটা শহর তোলপাড় করেও পাওয়া যায়নি সেই ইনজেকশন।
মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শেষবারের মতো ডা. সুনীল সেনের হাত ধরে উত্তম কুমার আবারও বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচান।” কিন্তু সময় ফুরিয়ে এসেছিল। ২৪ জুলাই ভোরে চিরনিদ্রায় চলে যান মহানায়ক। ২৪ জুলাই তাঁর মরদেহ আনা হয় গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। মহানায়কের প্রতি জনতার আবেগ সেদিন ইতিহাস হয়ে থাকে।
জানা যায়, মৃত্যুর আগে শেষবার সুচিত্রা সেনকে দেখতে চেয়েছিলেন উত্তম কুমার। সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তবে মৃত্যুর পর শেষ দর্শনে এসে মহানায়ককে মালা দেন সুচিত্রা সেন। সানগ্লাসে ঢাকা ছিল তাঁর চোখ। গলা ধরে এসেছিল মহানায়িকার। ঠিক সাত দিন আগেই সুচিত্রাকে ফোন করে দেখা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মহানায়িকা ছিলেন শুটিং-এ ব্যস্ত। ফলে শেষ দেখা হয়নি। মহানায়ক যে অসুস্থ ছিলেন, সেটা অনুভব করেছিলেন সুচিত্রা। জানিয়েও ছিলেন সেই কথা।
আজ আর তিনি নেই, তবে গোটা বাংলার দর্শকের মন জুড়ে রয়েছে গিয়েছে তাঁর ছাপ। বাংলা ছবি মানেই সাদা কালো ফ্রেমে কৃষ্ণেন্দু কিংবা সুধাংশু । বাঙালির স্মৃতি, আবেগ আর ভালোবাসায় মহানায়ক আজও অমর। আজও তিনি রূপলীপর্দার রাজা।