আজ মুক্তি পেল ‘প্রমোটার বৌদি’। আর এই ছবির মুক্তির দিনেই যেন নিজের অভিনেত্রীসত্তার নতুন এক অধ্যায়ের কথাই শোনালেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 February 2026 12:03
আজ মুক্তি পেল ‘প্রমোটার বৌদি’। আর এই ছবির মুক্তির দিনেই যেন নিজের অভিনেত্রীসত্তার নতুন এক অধ্যায়ের কথাই শোনালেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। (swastika Mukherjee)
দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে একটাই ভাবনা—স্থির হয়ে থাকা তাঁর স্বভাবে নেই। অতীতের সাফল্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে তিনি নারাজ। বরং তাঁর ইচ্ছে, প্রতিটি নতুন কাজ যেন আগের সবকিছুকে অতিক্রম করে যায়। তিনি চান না, কেউ বলুক তাঁর সেরা কাজ অনেক আগেই হয়ে গেছে। তাঁর কাছে অভিনয় মানেই ক্রমাগত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন তিনি। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, নানা মাধ্যমে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে। কিন্তু এই যাত্রার মাঝেও তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—তিনি এমন জায়গায় পৌঁছতে চান, যেখানে কোনও চরিত্রের কথা ভাবলেই প্রথম নাম হিসেবে উঠে আসবে তাঁরই নাম। তাঁর কথায়, যদি কোনও চরিত্রের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের মনে হয় স্বস্তিকা ছাড়া আর কেউ নয়, তাহলে সেটাই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি চান না, তাঁর জায়গায় সহজেই অন্য কাউকে বসিয়ে দেওয়া যায়। তিনি চান, তাঁর অভিনয়ের নিজস্বতা যেন অদ্বিতীয় হয়ে ওঠে।
এই ভাবনাই তাঁকে টেনেছে ‘প্রমোটার বৌদি’র দিকে। এই ছবির শান্তি চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কালিপটকা-র সীমার সঙ্গে শান্তির কোনও মিলই নেই। দুই নারী যেন দুই ভুবনের বাসিন্দা। শান্তির নিজস্ব উপস্থিতি আছে, নিজস্ব এক ব্যক্তিত্ব আছে। তাঁর ভাষায়, এই বৌদির মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ আভা—‘কেত আছে, রোয়াবি আছে, রেলা আছে’। যেন তিনি শুধু একজন চরিত্র নন, এক সম্পূর্ণ উপস্থিতি।
ছবির নামেই রয়েছে ‘বৌদি’ শব্দটি, আর সেই সূত্রেই উঠে আসে এক চিরচেনা অথচ কম বলা প্রশ্ন—বৌদির মন জিততে হলে দেওরদের কী করা উচিত? প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে ভেবেছিলেন স্বস্তিকা। তারপর শান্ত গলায় বলেন, ‘সবচেয়ে জরুরি হল একজন ভরসাযোগ্য সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে ওঠা‘।
‘বৌদি’ শব্দটির ব্যাখ্যাতেও তিনি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তাঁর কাছে এই শব্দের সঙ্গে কোনও লালসা বা উত্তেজনার সম্পর্ক নেই। বরং ‘বৌদি’ মানেই ঘনিষ্ঠ, মায়াভরা এক মানুষ—যিনি পরিবারের ভেতরে থেকেও আলাদা এক জায়গা দখল করে থাকেন।
কেন কমবয়সী ছেলেরা বৌদিদের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বৌদি এমন একজন, যিনি মায়ের মতো যত্ন নিতে পারেন, কিন্তু মা নন। আবার দিদির মতো কাছের, কিন্তু দিদির মতো কঠোর সম্পর্কের বাঁধনও নেই। এই সম্পর্কের মধ্যে এক অদ্ভুত ভারসাম্য থাকে—নির্ভরতা, বন্ধুত্ব আর গোপন কথার নিরাপদ আশ্রয়। নিজের প্রেমের গল্প, ব্যক্তিগত সংকট, এমনকি আর্থিক সমস্যার কথাও একজন সহজে বলতে পারে বৌদিকে। রাতে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে যাকে জানানো যায় নির্দ্বিধায়, তিনি বৌদি। এই সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় বিশ্বাস আর নির্ভরতার উপর।