নিজের ভাবনা বা অনুভূতি লুকিয়ে রাখার মানুষ নন তিনি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় মনের কথা বলতে দ্বিধা করেন না বলেই তাঁর প্রতিটি পোস্ট (Swastika Mukherjee Post) আলাদা করে নজর কাড়ে।

শেষ আপডেট: 9 February 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কখনও তাঁর অভিনয়ের জন্য, কখনও অকপট মন্তব্যে শিরোনামে উঠে আসেন তিনি। পর্দার বাইরেও কোনও মুখোশ নয়, স্বস্তিকা যেমন, ঠিক তেমনভাবেই থাকতে ভালবাসেন। আর সেই স্বতঃস্ফূর্ততাই তাঁকে নিয়ে চর্চার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় কখনও-কখনও।
সম্প্রতি শরীরচর্চা ও জীবনযাপনের বদলে পাল্টেছেন লুক। কিন্তু তারকাখ্যাতি বা ‘স্টারডম’-এর কোনও আলাদা আচরণ তাঁর মধ্যে দেখা যায় না। বেশিরভাগ সময়েই তিনি একেবারে সাদামাটা মানুষ—কখনও এলোমেলো চুলে পোষ্যকে নিয়ে ভেটেরিনারির কাছে ছুটছেন, তো কখনও বোনের সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় টোটো বা রিক্সায় নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন। স্বস্তিকার জীবনে আড়ম্বর নেই।
নিজের ভাবনা বা অনুভূতি লুকিয়ে রাখার মানুষ নন তিনি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় মনের কথা বলতে দ্বিধা করেন না বলেই তাঁর প্রতিটি পোস্ট (Swastika Mukherjee Post) আলাদা করে নজর কাড়ে। সম্প্রতি এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিয়েতেগিয়ে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। আর সেই পোস্টের কমেন্টেই যা লিখলেন, তা ঘিরে রীতিমত শোরগোল নেটপাড়ায়।
বন্ধুর বিয়েবাড়িতে পৌঁছনোর গল্পটাও ছিল স্বস্তিকার মতোই সহজ। আমলি থেকে টোটো চেপে বোলপুরের পথে রওনা দেন তিনি। মাথায় দেওয়ার মতো পছন্দের ফুল না পেয়ে টোটোচালকের সঙ্গে আলোচনা চলে—বাজার অনেক দূরে, তাই চলার পথেই চোখ রাখতে হবে। রাস্তার ধারে হঠাৎ নজরে পড়ে দেওয়াল বেয়ে ঝুলতে থাকা সূর্যের রঙের থোকা থোকা ফুল। টোটো থামিয়ে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ফুল ছেঁড়া, ব্যাগে রাখা কাঁটা দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে খোঁপায় গোঁজা—সবটাই যেন এক টুকরো তাৎক্ষণিক আনন্দ।
বিয়েবাড়ির হোটেলে ফিরে সেই ফুল তিনি খুলে রাখেন যত্ন করে। কারণ তাঁর কাছে ফুল শুধুই সাজের উপকরণ নয়—তা স্মৃতিও বটে। সেখানেই যা লিখলেন তাতেই বুক কেঁপে উঠল অনুরাগীদের। স্বস্তিকার কথায়, বাড়ির সবাই কে বলে রেখেছি, আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না হোক, ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে। ওরা আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। আমার সঙ্গে ওদের নিবিড় সম্পর্ক। শাড়িটার বয়স আমার মেয়ের চেয়েও বেশি, ২৭ বছর হবে। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মা কিনে দিয়েছিল। যত্ন করে রাখতে পারলে, আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন।
পোস্টে জীবনের দর্শনও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, যত্ন করে রাখলে সবই টিকে থাকে—শাড়ি হোক বা জীবন। এমনকি মৃত্যুর পরেও যেন তাঁকে ফুল দিয়েই বিদায় জানানো হয়, সেই ইচ্ছের কথাও অকপটে লিখেছেন স্বস্তিকা। কারণ ফুল তাঁর জীবনে নিত্যসঙ্গী, যার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর ও আন্তরিক।
সব মিলিয়ে, এই পোস্ট শুধুই সাজসজ্জার গল্প নয়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনদর্শন, স্মৃতি আর অনুভূতির মেলবন্ধনই ফের একবার ছুঁয়ে গেল পাঠকদের মন।