এই জল্পনার সূত্রপাত অবশ্য অরিজিতের নিজের একটি বড় ঘোষণার পর। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি জানান, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনও নতুন কাজ গ্রহণ করবেন না।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 9 February 2026 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজনীতিতে যখন ভোটের উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে, ঠিক সেই সময় অরিজিৎ সিংকে (Arijit Singh in Politices) ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে একাধিক জল্পনা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election) আসন্ন—এই আবহেই গায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও খবরের শিরোনামে গুঞ্জন ওঠে, তিনি নাকি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন। এমনকি বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনার কথাও ছড়িয়ে পড়ে। স্বভাবতই, এই খবর রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহল থেকে রাজনৈতিক শিবির, সর্বত্রই শোরগোল পড়ে যায়।
কোন খবর ছড়িয়ে পড়ে?
এই জল্পনার সূত্রপাত অবশ্য অরিজিতের নিজের একটি বড় ঘোষণার পর। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি জানান, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনও নতুন কাজ গ্রহণ করবেন না। কেরিয়ারের মধ্যগগণে দাঁড়িয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়কের এমন সিদ্ধান্ত অনেককেই চমকে দেয়। ভোটের বছরে এই ঘোষণা আসায়, কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন।
তবে অরিজিৎ সিং নিজে কখনওই রাজনীতির সঙ্গে নিজের নাম জড়াননি। বরাবরই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই শিল্পী সোশ্যাল মিডিয়াতেও খুব সীমিতভাবে সক্রিয়। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ তাঁর নিজের নামের কোনও অ্যাকাউন্ট নেই, তবে ‘WhoamI’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মাঝেমধ্যে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন। সেই অ্যাকাউন্টেই এক অনুরাগী সরাসরি প্রশ্ন করেন, তিনি কি সত্যিই রাজনীতিতে আসছেন?
কী জানালেন অরিজিৎ সিং?
ভোটমুখী জল্পনার মাঝেই সত্যি সামনে আনেন অরিজিৎ। কোনও রাখঢাক না রেখে তিনি লেখেন, “শুধু খবর বানিয়ে দেওয়া লোকের কাজ হয়ে গিয়েছে।” সঙ্গে আরও যোগ করেন, “আরে না রে বাবা। যা ইচ্ছে বলে লোকে।” এই মন্তব্যেই কার্যত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সমস্ত গুঞ্জনে ইতি টানেন গায়ক।

অন্যদিকে, প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণও তিনি আগেই পরিষ্কার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, একই ধাঁচের গান ও বানিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে করতে তিনি একঘেয়েমিতে ভুগছিলেন। স্বাধীনভাবে, নিজের শর্তে সঙ্গীত তৈরি করতেই তিনি এই বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সঙ্গীতকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাই এখন তাঁর লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, ভোটের মরশুমে অরিজিৎ সিংকে ঘিরে রাজনৈতিক রঙ চড়ানোর যে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা যে নিছকই গুজব—সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন গায়ক নিজেই। প্লেব্যাক থেকে দূরে সরে গেলেও, রাজনীতির ময়দানে নামার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই—এ কথা পরিষ্কার করে দিয়েই বাংলার ভোটের আবহে ছড়ানো সমস্ত জল্পনায় দাঁড়ি টানলেন জিয়াগঞ্জের শিল্পী।