শাহরুখকে কী নিয়ে সতর্ক করেছিলেন দেব আনন্দ?

দেব আনন্দ ও শাহরুখ খান
শেষ আপডেট: 15 January 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেব আনন্দ ও শাহরুখ খান, দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তি। সময় আলাদা, প্রেক্ষাপট আলাদা, তবু তাঁদের জীবনে এমন কিছু মিল রয়েছে, যা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। দু’জনেই ছিলেন তাঁদের সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রোমান্টিক হিরো। শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও দু’জনের মধ্যেই ছিল অবিরাম উদ্যম, কাজের প্রতি অদম্য টান এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।
৬০ বছর পেরিয়েও শাহরুখ খান নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলছেন। অন্যদিকে দেব আনন্দ ২০১১ সালে ৮৮ বছর বয়স পর্যন্ত অভিনয় ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই দুই তারকার জীবনের কিছু অজানা মুহূর্ত সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহন চুরিওয়ালা, যা অনুরাগীদের কাছে নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।
চুরিওয়ালা যে প্রথম ঘটনাটি স্মরণ করেন, তা ২০০৯ সালের। শিল্পপতি অনিল আম্বানির আয়োজিত এক পার্টিতে দেব আনন্দ লক্ষ্য করেন, তাঁর পাশের সারিতেই বসে ধূমপান করছেন শাহরুখ খান। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তেই শাহরুখ সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়ছিলেন। তখন দেব সাহেব স্নেহভরা কণ্ঠে বলেন, “শাহরুখ, বন্ধু তুমি এত সিগারেট খাও কেন? তুমি এত ভাল একটা ছেলে। এটা খাওয়া ছেড়ে দে।” উত্তরে শাহরুখ হেসে বলেন, “আমি চেষ্টা করব, স্যার।” চুরিওয়ালার কথায়, শাহরুখ দেব আনন্দকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন।
আরও একটি স্মরণীয় ঘটনার কথা উঠে আসে লন্ডনের এক পাঁচতারা হোটেল থেকে। দেব আনন্দ তখন কফি খাচ্ছিলেন। ঠিক পিছনের টেবিলে বসেছিলেন গৌরী খান ও সুজান খান। দেব আনন্দকে দেখে তাঁরা উচ্ছ্বসিত হয়ে এগিয়ে এলেও, প্রথমে দেব সাহেব তাঁদের চিনতে পারেননি। চুরিওয়ালা পরিচয় করিয়ে দিলে, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই আন্তরিক হাসি নিয়ে বলেন, “তোমাদের কে না চিনতে পারে? কেমন আছো?” এরপর গৌরী ও সুজান সঙ্গে সঙ্গে শাহরুখকে ফোন করে জানান, দেব আনন্দ তাঁদের চিনতে পেরেছেন এবং তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে। এই খবর শুনে শাহরুখও ভীষণ আনন্দিত হন। চুরিওয়ালার ভাষায়, “রেস্তরাঁয় মুহূর্তটা বেশ নাটকীয় হয়ে উঠেছিল।”
দেব আনন্দের কাছ থেকে শাহরুখ খান একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদর্শনও শিখেছিলেন, যার কথা তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমস উপলক্ষে ভারতীয় প্যারালিম্পিক দলের বিদায় অনুষ্ঠানে শাহরুখ জানান, তিনি কখনও ব্যর্থতাকে দীর্ঘ সময় মনে জায়গা দেন না। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও অনুশোচনায় সময় নষ্ট করেন না তিনি।
শাহরুখের কথায়, দেব আনন্দ একবার তাঁকে বলেছিলেন, “তোমাকে দেখলে মনে হয়, যদি তুমি কাজ থামিয়ে দাও, তাহলে তুমি হারিয়ে যাবে।” এই কথাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
শাহরুখ বলেন, এই শিক্ষাই তাঁকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। কোনও ছবি সফল হলেও তিনি তার গৌরবে ডুবে থাকেন না, আবার ব্যর্থতা এলেও হতাশায় ভেঙে পড়েন না। বরং সব পরিস্থিতিতেই তিনি নিজেকে নতুন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত রাখেন।