রহমান জানান, দক্ষিণী সঙ্গীতজগৎ থেকে বলিউডে পা রাখার পর দীর্ঘদিন নিজেকে ‘আউটসাইডার’ বলেই মনে হয়েছে তাঁর। ‘রোজা’, ‘বম্বে’ কিংবা ‘দিল সে..’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করলেও সেই অনুভূতি কাটেনি।

শেষ আপডেট: 15 January 2026 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান ভারতীয় সিনেমাকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় গান। তবু বলিউডে তাঁর যাত্রাপথ যে মসৃণ ছিল, একেবারে তা নয়। সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান, লড়াই এবং সাম্প্রতিক ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন রহমান।
রহমান জানান, দক্ষিণী সঙ্গীতজগৎ থেকে বলিউডে পা রাখার পর দীর্ঘদিন নিজেকে ‘আউটসাইডার’ বলেই মনে হয়েছে তাঁর। ‘রোজা’, ‘বম্বে’ কিংবা ‘দিল সে..’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করলেও সেই অনুভূতি কাটেনি। তাঁর মতে, আসল পরিবর্তন আসে সুভাষ ঘাইয়ের ছবি ‘তাল’-এর হাত ধরে। রহমানের কথায়, “তাল এমন একটি অ্যালবাম, যা সাধারণ মানুষের ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। উত্তর ভারতের বহু মানুষের মধ্যে আজও সেই সুর রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে।”
তিনি জানান, ‘তাল’-এর সঙ্গীতে পাঞ্জাবি, হিন্দি ও পাহাড়ি লোকসুরের মেলবন্ধন ছিল, যা একে সর্বজনীন করে তোলে। তবে একজন তামিল শিল্পীর পক্ষে হিন্দি ভাষায় সাবলীল হওয়া যে সহজ নয়, সেটাও স্পষ্ট করেন রহমান। ভাষার সঙ্গে আবেগের গভীর যোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সেই সময়ে পরিচালক সুভাষ ঘাই তাঁকে হিন্দি শেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রহমান উর্দু শেখার পথ বেছে নেন। তিনি জানান, ষাট ও সত্তরের দশকের হিন্দি ছবির গানের মূল ভিত ছিল উর্দু। পরে উর্দুর সঙ্গে উচ্চারণগত মিল থাকায় আরবি ভাষাও রপ্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সুখবিন্দর সিংয়ের সংস্পর্শে এসে পাঞ্জাবি সঙ্গীতের প্রতিও আকৃষ্ট হন।
নব্বইয়ের দশকে বলিউডে কাজ করার সময় কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা তামিল শিল্পীদের প্রতি বৈষম্য তিনি টের পেয়েছিলেন কি না, এই প্রশ্নে রহমান বলেন, হয়তো ঈশ্বর তাঁকে সেসব থেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতির বদল তিনি লক্ষ্য করেছেন। তাঁর মতে, গত আট বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার ভার অনেকটাই এমন মানুষের হাতে চলে গিয়েছে, যাঁরা সৃজনশীল নন।
রহমান আরও বলেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি তাঁকে প্রভাবিত না করলেও নানা গুঞ্জনের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। তবে এসব নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। সুরকারের কথায়, তিনি কাজের খোঁজে ছোটেন না। বরং বিশ্বাস করেন, তাঁর সততা আর পরিশ্রমই কাজ টেনে আনবে। “আমি পরিবারকে সময় দিতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। যা প্রাপ্য, সেটুকুই আমার কাছে আসে”— স্পষ্ট বলেন এ আর রহমান।