বলিউডে নতুন ছবি মানেই এখন একটা প্রশ্ন প্রায় নিশ্চিত—গল্পটা কি সত্যিই নতুন, নাকি আবার বিদেশি সিনেমার নকল?
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 15 January 2026 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে নতুন ছবি মানেই এখন একটা প্রশ্ন প্রায় নিশ্চিত—গল্পটা কি সত্যিই নতুন, নাকি আবার বিদেশি সিনেমার নকল? ঠিক এই প্রশ্নই এবার ঝড় তুলেছে আমির খান প্রযোজিত আসন্ন ছবি ‘Ek Din’-কে ঘিরে। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লভীর বলিউড অভিষেক, সঙ্গে জুনায়েদ খান—শুনলেই কৌতূহল তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু প্রথম পোস্টার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের একাংশের কটাক্ষ—“এটা তো নতুন কিছু নয়, পুরোপুরি থাই সিনেমার নকল!”
হ্যাঁ, বিষয়টা অস্বীকার করার উপায়ও নেই। ‘Ek Din’ আসলে থাইল্যান্ডের সুপারহিট রোমান্স-ড্রামা ‘One Day’-এর অফিসিয়াল রিমেক। রিমেক রাইটস কিনেই ছবিটি তৈরি হচ্ছে—কিন্তু তাতেই কি বিতর্ক থামে? অনেকের প্রশ্ন, বলিউড কি সত্যিই এতটাই গল্প-দরিদ্র হয়ে পড়েছে যে বারবার বিদেশি সিনেমার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে?
মূল থাই ছবির গল্প ছিল অদ্ভুত রকমের আবেগঘন। এক মহিলা হঠাৎ অস্থায়ী স্মৃতিভ্রমে আক্রান্ত হন, আর সেই সুযোগে তাঁর সহকর্মী—যিনি গোপনে তাঁকে ভালবাসেন—নিজেকে তাঁর প্রেমিক বলে পরিচয় দেন। মাত্র একদিনের জন্য হলেও তাঁর সঙ্গে স্বপ্নের মতো সময় কাটানোর জন্যই এই মিথ্যার আশ্রয়। ভালবাসা, প্রতারণা, স্মৃতি আর অপরাধবোধের জটিল সমীকরণ—এই নিয়েই তৈরি হয়েছিল ‘One Day’। আর ঠিক একই গল্পের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে বলিউডের ‘Ek Din’। তাহলে নতুনত্ব কোথায়?
তবু ছবির নির্মাতারা আত্মবিশ্বাসী। প্রযোজনায় আমির খান, পরিচালনায় নবাগত সুনীল পাণ্ডে—দাবি করা হচ্ছে, গল্পের আবেগ বলিউডি ছোঁয়ায় একেবারে নতুন রূপ পাবে। ছবির মুক্তির তারিখও ঘোষণা হয়ে গেছে—১ মে ২০২৬। কিন্তু দর্শক কি সত্যিই আগ্রহী আরেকটি রিমেক দেখতে?
প্রথম পোস্টার মুক্তির পর বিতর্ক যেন আরও জোরালো হয়েছে। নীলচে শীতের সন্ধ্যা, বরফঝরা রাস্তা, হাতে আইসক্রিম নিয়ে হাঁটতে থাকা দুই চরিত্র—দৃশ্যটা দেখে অনেকেই বলেছেন, “এ তো পুরো ২০০০ সালের রোমান্টিক ছবির কপি!” আবার কেউ লিখেছেন, “পোস্টার সুন্দর, কিন্তু গল্পটা পুরনো বোতলে নতুন মদ ছাড়া আর কিছু নয়।”
![]() | ![]() |
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়ার ঝড় থামছেই না। একদল বলছে, “সাই পল্লভীর মতো অভিনেত্রীর জন্য এর চেয়ে ভালো বলিউড ডেবিউ দরকার ছিল।” আবার আরেকদল প্রশ্ন তুলেছে, “জুনায়েদ খান কি এত ভারী আবেগের চরিত্র সামলাতে পারবেন?” কেউ আবার সরাসরি লিখেছেন, “আমির খান প্রযোজক মানেই কি সবকিছু মাফ হয়ে যাবে?”
তবু বিতর্কের মাঝেই ছবির পক্ষে একটা বড় যুক্তি রয়েছে—গল্পের আবেগ। ছোট ছোট মুহূর্ত, না বলা কথা, একদিনের ভেতর লুকিয়ে থাকা আজীবনের স্মৃতি—এই উপাদানগুলো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে বলেই নির্মাতাদের বিশ্বাস। ছবিতে দেখানো হবে, কীভাবে সামান্য একটি দিন দুটো মানুষের জীবন পুরো বদলে দিতে পারে।
কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—রিমেক মানেই কি আবেগের নতুন জন্ম, নাকি কেবল সহজ পথে সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা? বলিউডে মৌলিক গল্পের অভাব কি এতটাই প্রকট? দর্শক কি আরেকটি বিদেশি গল্পের ভারতীয় সংস্করণ মেনে নেবে?
সবকিছু ছাপিয়ে এখন একটাই কৌতূহল—‘Ek Din’ কি সত্যিই নতুন করে প্রেমের সংজ্ঞা লিখবে, নাকি শুধুই প্রমাণ হবে বলিউডের আরেকটি নিরাপদ, হিসেবি রিমেক প্রকল্প? উত্তর মিলবে পর্দায়। কিন্তু ততদিন বিতর্ক থামবে তো?