এ বিষয় ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এদিন বলেন, ‘গত এক মাসে যে সকল ছবি মুক্তি পেয়েছে, তা চলার মতো নয়। যে সকল স্টারদের ছবি দর্শকেরা দেখেন, যে সকল ব্যানারের ছবি দর্শকেরা পছন্দ করেন, তাঁদের ছবিকে ডিস্ট্রিবিউট করতে হবে সারা বছর ধরে। বর্তমানে পরীক্ষা শেষ, খেলাও শেষ, এখন ভাল ছবি মুক্তি পেতেই পারে।’

শেষ আপডেট: 11 March 2026 19:39
বুধবার সন্ধ্যায় ইম্পায় হয়ে গেল এক জরুরি বৈঠক। উদ্দেশ্য, বছরভর বাংলা ছবির মুক্তি। সম্প্রতি ছবি মুক্তির তারিখ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে বাংলার সিনেমাহল বন্ধের খবরে তোলপাড় হয়েছিল সিনেপাড়া। সেই মর্মে স্ক্রিনিং কমিটির কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়ে ছিল বাংলা ছবির প্রদর্শকেরা (exhibitor)। জানিয়েছিলেন তাদের সঙ্কটের কথা। সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রাইম ডেট অর্থাৎ ফেস্টিভ্যাল (হলিডে)শো সংক্রান্ত নীতি এবং বাংলা ছবির ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা তাঁদের আর্থিকভাবে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এ বিষয় ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এদিন বলেন, ‘গত এক মাসে যে সকল ছবি মুক্তি পেয়েছে, তা চলার মতো নয়। যে সকল স্টারদের ছবি দর্শকেরা দেখেন, যে সকল ব্যানারের ছবি দর্শকেরা পছন্দ করেন, তাঁদের ছবিকে ডিস্ট্রিবিউট করতে হবে সারা বছর ধরে। বর্তমানে পরীক্ষা শেষ, খেলাও শেষ, এখন ভাল ছবি মুক্তি পেতেই পারে।’
এদিন বৈঠকের সারমর্ম:
এই বৈঠক হয় স্ক্রিনিং কমিটির সঙ্গে প্রদর্শকদের, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসসহ আরও অনেকে। কিছুদিন আগে বেশ কয়েকটি বড় বড় সিনেমাহল ছবির অভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন হলমালিকরা। ইম্পার বক্তব্য, ‘প্রাইম ডেট নিয়ে বড় বেশি মাতামাতি হচ্ছে ছবি মুক্তির জন্য়ে। তাই প্রদর্শকদের আর্জি, ছবিগুলো যাতে একটি বিশেষ দিনে তিন-চারটে মুক্তি না করিয়ে, ৫২ সপ্তাহে ডিস্ট্রিবিউট করে দেওয়া হয়। তাতে সিনেমাহলগুলো চলবে, বাংলা ছবি বাঁচবে। তাই ইম্পার তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়, ছবি সারা বছর আসুক। শুধু প্রাইম ডেটে নয়।’
এরপর ‘দ্য ওয়াল’ প্রশ্ন তোলে, দেব যেমন নিজের ছবি মুক্তির দিনগুলো ঘোষণা করে দিয়েছেন, এক্ষেত্রে কি কোনও কথা হয়েছে? উত্তরে পিয়া সেনগুপ্ত জানান, জুন মাস পর্যন্ত ছবি মুক্তি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে, যেহেতু, ততদিন পর্যন্ত সিনেমা-ক্যালেন্ডার মুক্তি পেয়েছে। তারপর জুন-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার যখন স্ক্রিনিং কমিটি প্রকাশ্যে আনবে, তখন বলে দেওয়া হবে, কারা কারা আসছেন।
বাংলা ছবির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন প্রযোজকেরা। এই মিটিং-এ তাঁদের অনুপস্থিতি চোখে পড়ল। সেই বিষয় প্রশ্ন করা হলে, পিয়া সেনগুপ্ত সহমত প্রকাশ করে বললেন, ‘আজ এই বৈঠকে যে-যে প্রযোজকেরা আসেননি, তাঁদের আসা উচিত ছিল। কারণ এই সময়টা আমার মনে হয় প্রদর্শক ও প্রযোজকদের হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে চলা উচিত।’
প্রসঙ্গত, বছরভর এমন বহু সময় আসছে, যখন বাংলা ছবি নেই, হিন্দি ছবিও মুক্তি পাচ্ছে না—ফলে হল বন্ধ রাখা ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না। আবার উৎসবের সময় ঠিক উল্টো ছবি—সব বড় ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে, যার ফলে সারা বছরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অনিয়মিত মুক্তির কারণে হল চালানোর খরচ তোলা যাচ্ছে না, কর্মচারীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রদর্শকদের আবেদন, এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং স্ক্রিনিং কমিটি যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, বড় বাজেটের হিন্দি ছবি এলেও বাংলা ছবিকেই আগে প্রেক্ষাগৃহ দিতে হবে। এমনকি প্রাইম টাইমেও বাংলা ছবির প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। কিন্তু যখন সেই ছবি নেই, তখন নিয়ম মেনে চলাই হয়ে উঠছে অসম্ভব। ফলে হলমালিকরা কার্যত ডিফল্টারের মতো অবস্থায় পড়ছেন।
এই প্রসঙ্গে স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁরা বছরে মাত্র ১০-১১টি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময়কে সামনে রেখে মুক্তির ক্যালেন্ডার তৈরি করেছেন। কিন্তু বছরের বাকি ৫২ সপ্তাহের কথা ভাবাও জরুরি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত তারকা বলে দাবি করেন, তাঁরা কেন শুধুমাত্র উৎসবের সময়েই ছবি মুক্তি দিতে চান? তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ছবি তো যেকোনও সময়েই দর্শক টানতে পারে। অথচ উৎসবের সময়েই মুক্তির জন্য প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র হয়ে উঠছে যে, অপেক্ষাকৃত নতুন বা কম পরিচিত শিল্পীরা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি বারবার অনুরোধ করেছেন, শুধু পুজো বা বড় উৎসবের কথা না ভেবে, সারা বছর জুড়ে ছবি মুক্তির পরিকল্পনা করা হোক। কারণ, এই ভারসাম্য না থাকলে হল চালু রাখা সম্ভব হবে না, কর্মচারীরাও তাঁদের প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত হবেন। এদিনও বৈঠকে তেমনই আর্জি জানানো হয় ইম্পার পক্ষ থেকে।