যে সপ্তাহান্তে হাসি, আলো আর শুভক্ষণে ডুবে থাকার কথা ছিল স্মৃতি মান্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের, সেই উৎসবই আচমকা থমকে দাঁড়াল এক অদ্ভুত মোড়ে।

পলাশ-স্মৃতি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সপ্তাহান্তে হাসি, আলো আর শুভক্ষণে ডুবে থাকার কথা ছিল স্মৃতি মান্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের, সেই উৎসবই আচমকা থমকে দাঁড়াল এক অদ্ভুত মোড়ে।
২৩ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল জাঁকজমকেই। কিন্তু আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন স্মৃতির বাবা শ্রীনিবাস মান্ধানা, আর মুহূর্তেই স্থগিত হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত সেই বিয়ে। পরদিনই হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো পলাশকেও। যেন একের পর এক দুঃসংবাদ এসে সুখের আকাশ ঢেকে ফেলল। স্মৃতি ইনস্টাগ্রাম থেকে বিয়েসংক্রান্ত সব পোস্ট মুছে ফেললেন, আর পলাশের দিদি পলক অনুরোধ করলেন, “এই সময়ে পরিবারকে কিছুটা প্রাইভেসি দিন।”
ঠিক এমনই এক মুহূর্তে, আকস্মিক শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়ায়। একের পর এক ভাইরাল হতে লাগল কিছু স্ক্রিনশট—যেখানে দাবি, পলাশ নাকি অন্য এক মহিলার সঙ্গে গোপনে কথোপকথন চালাচ্ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে “মেরি ড’কোস্টা” নামে এক ব্যবহারকারী সেই কথোপকথনের ছবি প্রকাশ করেন; পরে অবশ্য তাঁর অ্যাকাউন্ট দ্রুত প্রাইভেট হয়ে যায়।
সেই চ্যাটে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে পলাশ ওই মহিলাকে সাঁতার কাটতে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। আর যখন মেরি প্রশ্ন করেন, “তুমি তো একটি সম্পর্কে আছ?”, পলাশের উত্তর আরও অনিশ্চয়তার—“কে বলেছে, সম্পর্কে থাকলে সাঁতার কাটা যায় না?” কথোপকথনে আরও উঠে আসে স্মৃতি ও পলাশের লং-ডিস্ট্যান্স সম্পর্কের প্রসঙ্গ, যেখানে তাঁকে বলতে দেখা যায়—দূরত্বে নাকি সম্পর্কে আগের টান কমে গেছে।
এমনও দেখা যায়, মেরির সঙ্গে দেখা করতে পলাশ খুবই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মেরি বলছেন, আশপাশের কেউ চিনে ফেলতে পারে—এই ভয়। আর তার উত্তরে পলাশ তাঁকেই আশ্বাস দিয়ে বলছেন, সমস্যা হবে না।
স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় ভাসতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া। কেউ লিখছেন—“পড়তে পড়তে মনের ভিতর কেমন একটা হল। একজন মানুষ কীভাবে এত ছলনা করতে পারে? স্মৃতির নাম, জন্মতারিখ, জার্সি নম্বর—সব ট্যাটু করা, আর পেছনে অন্য কাউকে দেখা করার প্ল্যান!”

বিয়ের আগে মেহেন্দি, গায়েহলুদ, সঙ্গীত—সবই রঙিনভাবে সেরে ফেলা হয়েছিল। সঙ্গীতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতেও। কিন্তু আনন্দের সেই আবহ হঠাৎই ভেঙে যায় যখন বিয়ের আসরে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্মৃতির বাবা। এরপর সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হন পলাশ; চিকিৎসার পর ছাড়া পেলেও সন্ধ্যায় তাঁর দিদি নিশ্চিত করেন—বিয়ে আপাতত স্থগিতই থাকবে।
আবার কেউ সন্দেহ করছেন এসবের সত্যতা নিয়েই—“এই যুগে ভুয়া স্ক্রিনশট বানানো কঠিন কিছু নয়।”
তবে বেশিরভাগ মন্তব্যেই ছিল একটাই সুর—সম্ভবত স্মৃতি বড় বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেছেন। পাশাপাশি তাঁর বাবার দ্রুত সুস্থতা কামনাও করেছেন বহু মানুষ।

এখন প্রশ্ন একটাই—বিয়ের স্থগিত হওয়া কি শুধুই স্বাস্থ্যজনিত আকস্মিকতার ফল? নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো সেই স্ক্রিনশটগুলির ভেতর লুকিয়ে আছে আরও গভীর অস্থিরতার গল্প? সত্যিই কি পলাশ প্রতারণা করেছেন, নাকি এগুলো কেবল গুজবের ঝড়?
উত্তর এখনো ধোঁয়াশা। স্মৃতি নীরব, পলাশও নীরব। কিন্তু নীরবতার এই পর্দার আড়ালে বাতাসে ভাসছে একটাই প্রশ্ন—স্বপ্নের বিয়ের পথে কি সত্যিই কোনো ছায়া পড়েছে, নাকি পুরো ঘটনাই কেবল কল্পিত ঝড়ের মেঘ?