সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর অন্যতম ‘পরিণীতা’। নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নিয়েছে, তা আর আলাদা করে বলার নয়। রাত আটটার স্লটে রায়ান-পারুলের রসায়ন দর্শককে যেমন বেঁধে রেখেছে, তেমনই পার্শ্ব চরিত্রগুলিও হয়ে উঠেছে ঘরে ঘরে আপন।

শেষ আপডেট: 25 November 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর অন্যতম ‘পরিণীতা’। নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নিয়েছে, তা আর আলাদা করে বলার নয়। রাত আটটার স্লটে রায়ান-পারুলের রসায়ন দর্শককে যেমন বেঁধে রেখেছে, তেমনই পার্শ্ব চরিত্রগুলিও হয়ে উঠেছে ঘরে ঘরে আপন। তাদের মধ্যেই অন্যতম প্রিয়াঞ্জলি দাস (Priyanjali Das)—পর্দায় যাকে দর্শক চেনে ‘পারুল’-এর কাছের বন্ধু ‘সুমেধা’ নামে। সোম থেকে রবি প্রতিদিনের গল্পের ভিড়ে কবে যে এক বছর ছুঁয়ে ফেলল ‘পরিণীতা’, টের পাননি অনেকেই। আর ঠিক এই সময়েই সামনে এল প্রিয়াঞ্জলির জীবনের এক বড় খবর—বিয়ে।
কিছুদিন আগেই আইনি বিয়ে ও বাগদান সেরেছিলেন নায়িকা। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। ধারাবাহিকে তাঁর ট্র্যাক আপাতত শেষ, রায়ান-পারুলের কর্মজীবন-সংগ্রামের পথে গল্প এগোচ্ছে নতুন মোড়ের দিকে। আর সেই ফাঁকেই বাস্তব জীবনের প্রেমকে পরিণতির পথে নিয়ে গেলেন ‘সুমেধা’, অর্থাৎ প্রিয়াঞ্জলি।
প্রেমিক শান্তনু চক্রবর্তী (Shantanu Chakraborty)—একটু লাজুক। ১১ বছর ধরে দু’জন দু’জনের পাশে থেকেছেন। সেই দীর্ঘ সম্পর্কই দিন কয়েক আগে পরিণতি পেল সাতপাকে। এক ভিডিয়োতে ধরা পড়েছে তাঁদের বিয়ের মুহূর্তগুলো।
লাল বেনারসীতে প্রিয়াঞ্জলি যেন আলো ছড়াচ্ছিলেন। গলায় সোনার চোকার, তার সঙ্গে মানানসই নেকলেস, কানে ঝুমকো, নাকে লম্বা নথ, কপালে টিকলি। হাতে শাঁখা-পলা, চুড়ি, বালা আর বড় আংটি—এক এক করে সম্পূর্ণ করেছে তাঁর সাজ। খোঁপায় ফুল সাজানো, মাথায় ভেল, গলায় সাদা-লাল গোলাপের মালা।
শান্তনুও ছিলেন রঙে-রঙে মিলিয়ে। লাল পাঞ্জাবির সঙ্গে ঘিয়ে রঙের ধুতি এবং ওড়না। শুভদৃষ্টি হল ফুলের চাদোয়ার নিচে, মুখ ঢেকে রাখা পানপাতা সরতেই দু’জনের চোখে চোখ। তারপর মালাবদল, সিঁদুরদান—সব রীতি মেনে দু’জনে হয়ে উঠলেন একে অপরের কাছে চিরস্থায়ী।
বিয়ের পরেও থামেননি শান্তনু। বরযাত্রীদের হাসি-হাসির মধ্যে নিজের নববধূকে কোলে তুলে পুকুর ডিঙানোর রীতিও পালন করলেন। আর আংটি খেলার খেলায় জমে উঠল ঘরোয়া আমেজ। এই সম্পর্কের শুরু? বছর কয়েক আগে স্যোশাল মিডিয়ার আড্ডাতেই। কিন্তু শুরু থেকেই প্রিয়াঞ্জলি স্পষ্ট ছিলেন—অর্ধেক কথা, অর্ধেক প্রতিশ্রুতি তাঁর পছন্দ নয়। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, যদি আমাকে বিয়ে করো তাহলেই আমি আছি।” সেই দৃঢ়তার হাত ধরেই এগিয়েছে তাঁদের প্রেম।
গত ১৪ নভেম্বর আইনি সই-সাবুদ সেরে ফেলেছিলেন দু’জন। সেদিনই হয়েছিল প্রথম মালাবদল। আর এবার সামাজিক বিয়েতে মিলল আনুষ্ঠানিক পূর্ণতা। যে প্রেম ১১ বছরের, তাকে আর কতদিন অপেক্ষায় রাখা যায়?