সেই সময়ে কলেজ জীবনে যখন অনেক তরুণই এনএসডি বা এফটিআইআই-র দিকে তাকাত, অঞ্জন দত্ত বেছে নেন তাঁর পথ। ১৯৭২ সাল, তিনি ঠিক করলেন, সিনেমা করবেন, মঞ্চাভিনয়ও করবেন, কিন্তু আইন নিয়ে পড়াশোনা নয়। বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে, তিনি তাঁর অভিনয়শিক্ষা নিতে ছুটে গিয়েছিলেন নাট্যকার বাদল সরকারের কাছে।

বাদল সরকার-অঞ্জন দত্ত।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 23:53
সেই সময়ে কলেজ জীবনে যখন অনেক তরুণই এনএসডি বা এফটিআইআই-র দিকে তাকাত, অঞ্জন দত্ত (Anjan Dutt) বেছে নেন তাঁর পথ। ১৯৭২ সাল, তিনি ঠিক করলেন, সিনেমা করবেন, মঞ্চাভিনয়ও করবেন, কিন্তু আইন নিয়ে পড়াশোনা নয়। বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে, তিনি তাঁর অভিনয়শিক্ষা নিতে ছুটে গিয়েছিলেন নাট্যকার বাদল সরকারের কাছে।
বয়স তখন ১৯-২০, অত কম বয়সে, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানান অভিনয় শিখবেন। প্রথমে বাদলবাবু একটু দ্বিধান্বিত ছিলেন, পরিশ্রমী তরুণ অঞ্জনের অনুরোধ-প্রত্যয় দেখে তি মাসের জন্য তাঁকে গাইড করতে রাজিও হন।
বাদল সরকারের (Badal Sircar) থিয়েটার দর্শন, ‘থার্ড থিয়েটার’ আন্দোলন, যা মঞ্চকে সাধারণ মানুষের ভিতর নিয়ে যায়, আলো, সেট বা কার্টেন নয়, বরং মানবিক দায়বোধ আর সরল বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। তিনি অঞ্জনকে শুধুমাত্র অভিনয় শেখাননি, তাঁকে শেখালেন ‘নিজেকে জানো’ — কে আমি, কেন আমি, আমার ভয়, আমার লজ্জা, আমার বিশ্বাস, আমার অবিশ্বাস; এসব প্রশ্ন-উত্তর খুঁজতে খুঁজতে তৈরি করেছিলেন চারিত্রিক গভীরতা।
অঞ্জন একাধিক সাক্ষাৎকারে এও বলেছেন, বাদল সরকারের স্ট্রিট থিয়েটার তাঁর আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিকোণকে এতটাই মনে ধরেছিল, যে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু ক্ষণ তাদের মতো কাজ করারও চেষ্টা করেছিলেন। বাদল সরকারের শিক্ষা ছিল তাঁর জীবনের ভিত্তি — একজন নাট্যশিল্পীর আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।
এক কথায় ‘গুরু’ ছিলেন বাদল সরকার, আর এবার যেন সেই সম্পর্কের প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে অঞ্জনের। মঞ্চ নয়, বড়পর্দাতেই শুরু হচ্ছে তাঁর গুরুদক্ষিণা। বাদল সরকারকে কেন্দ্র করে অঞ্জন দত্ত তৈরি করছেন নতুন ছবি ‘সারা দিন সারা রাত্তির’ (Sara Din Sara Rattir)—যা শুধু বায়োপিক নয়, এক গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশও বটে। সম্ভবত সেই কারণেই বাদলবাবুর স্মরণীয় নাটক ‘সারারাত্তির’-এর নামটিও ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জন দত্ত নতুন ছবির প্রসঙ্গ তুললেন। সাম্প্রতিক ছবিগুলিতে তাঁর মুখে যে একগাল দাড়ি দেখা যাচ্ছে, সে নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল—দাড়ি কাটতে এত দেরি কেন? অঞ্জন তখনই সত্যিটা জানান। বলেন, “বাদল সরকারকে নিয়ে আমি একটি ছবি করছি। সেখানে আমি আমার শিক্ষকের ভূমিকাতেই অভিনয় করছি।” বাদল সরকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরও যোগ করেন, “উনিশ বছর বয়সে বাদল সরকারই ছিলেন আমার অভিনয়ের প্রথম শিক্ষক। মৃণাল সেনকে পেয়েছি ২৫ বছর বয়সে। এ বছর আবার বাদলবাবুর জন্মের শতবর্ষ। তাই এই ছবি আমার কাছে শুধু ছবি নয়—একটা দায়িত্ব।”
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল এই ছবিতে ছোটবেলার ‘অঞ্জন‘ হয়ে কাকে দেখা যাবে? অঞ্জন দত্ত বললেন, ‘ভীষণ পরিশ্রম করতে হয়েছে, অঞ্জন দত্তর ছেলেবেলার চরিত্রের অভিনেতাকে খুঁজে বের করতে, অনেকটা সময় লেগেছে। শেষমেশ পাওয়া গিয়েছে, গায়কের ছেলে। শ্রীকান্ত আচার্য-এর পুত্র পুরব শীল আচার্য’ এখানেই শেষ নয়, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে কৌশিক সেনকে। প্রযোজনায় অঞ্জন দত্ত প্রোডকাশনস। আগামী ১লা ডিসেম্বর থেকে শুটিং শুরু হতে চলেছে ‘সারা দিন সারা রাত্তির’।