গ্রেফতারির সাতদিন আগেই উদয়পুর পুলিশ বিক্রম, শ্বেতাম্বরী-সহ আরও ছ'জনের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বলিউডের পরিচালক বিক্রম ভাট এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট (Vikram Bhatt and his wife arrested)। উদয়পুরের ইন্দিরা গ্রুপ অফ কোম্পানিজের মালিক ডাঃ অজয় মুরদিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় এই গ্রেফতারি বলে জানা গেছে।
ধৃত পরিচালক (Filmmaker Vikram Bhatt arrested) ও তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছে রাজস্থান পুলিশ। তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে উদয়পুরে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যেই দম্পতির মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে বলে খবর।
গ্রেফতারির সাতদিন আগেই উদয়পুর পুলিশ (Udaipur Police) বিক্রম, শ্বেতাম্বরী-সহ আরও ছ'জনের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস (Lookout Notice) জারি করেছিল। নোটিসে বলা হয়েছিল, সকল অভিযুক্তকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া যাবে না।
এই মামলার সূত্রপাত একটি প্রস্তাবিত বায়োপিক প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে। ডাঃ মুরদিয়া তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর জীবনী নিয়ে একটি বায়োপিক তৈরি করতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, বিক্রম ভাট এবং তাঁর স্ত্রী ২০০ কোটি টাকা লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডঃ মুরদিয়াকে ছবিতে বিনিয়োগের প্রলোভন দিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাঃ মুরদিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী বিক্রম, শ্বেতাম্বরী ছাড়াও এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের মেয়ে কৃষ্ণা ভাট (মুম্বই), দীনেশ কাটারিয়া (উদয়পুর), মেহবুব আনসারি (থানে), মুদিত বুটাট্টান (দিল্লি), গঙ্গেশ্বর লাল শ্রীবাস্তব (ডিএসসি চেয়ারম্যান) এবং অশোক দুবে (ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ, মুম্বাই)।
জানা যায়, গত বছর ২৫ এপ্রিল বৃন্দাবন স্টুডিও-তে বায়োপিক নিয়ে বিক্রম ভাটের সঙ্গে বৈঠক করেন মুরদিয়া। তখন বিক্রম জানান যে তিনি ছবিটি পরিচালনা করবেন এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে এই প্রজেক্টে সহযোগী হিসেবে থাকবেন। শ্বেতাম্বরী ভাটের নামে VSB LLP নামে একটি ফার্মের রেজিস্ট্রেশনও করা হয়।
এই অভিযোগ 'ভুল এবং ভিত্তিহীন' বলে পরিচালক দাবি করেছেন, 'পুলিশকে ভুল বোঝাতে হয়তো জাল নথি দেওয়া হয়েছে।' তাঁর আরও অভিযোগ, ডাঃ মুরদিয়া মাঝপথে সিনেমার কাজ বন্ধ করে দেন। বকেয়া টাকাও এখনও দেননি। সিনেমায় ব্যয় হওয়া কয়েক কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করা বাকি।' সেই বকেয়া এড়াতেই এই মিথ্য অভিযোগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন পরিচালক।
৫৬ বছরের এই চলচ্চিত্র পরিচালক বলেছেন, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং সমস্ত প্রমাণ পুলিশকে দেখানোর আশ্বাস দিয়েছেন, "আমার কাছে যা বলছি তার সম্পূর্ণ প্রমাণ আছে। পুলিশ যদি নথি চায়, আমি সব দেখাব। তারপর স্পষ্ট হবে কে ঠিক, কে ভুল।"