কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা জানান, একের পর এক অডিশন, কাজ হাতছাড়া হওয়া আর প্রত্যাখ্যান তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল।

শেষ আপডেট: 14 December 2025 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ হোক বা সম্পর্ক, বারবার “না” শুনতে শুনতে আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে। পেশাগত জীবনেও বারবার প্রত্যাখ্যান অনেকের কাছেই ভীষণ যন্ত্রণার। তবে সেই ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই যে তৈরি হয় জেদ, ধৈর্য আর মানসিক দৃঢ়তা (career failure resilience) - সেই কথাই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান (Vidya Balan career struggle rejection)।
আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে বিদ্যা বালান মানেই সাফল্য, খ্যাতি আর বলিউডের চেনা এক নাম। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না (Bollywood struggle)। Something Bigger টক শো-তে সঞ্চালক রদ্রিগো কানেলাস-এর সঙ্গে কথোপকথনে নিজের জীবনের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়ের কথা অকপটে শেয়ার করেছেন কাহানি-খ্যাত অভিনেত্রী।
“আমার বাবা-মা প্রার্থনা করতেন - একটা ছবি অন্তত চলুক”
কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা জানান, একের পর এক অডিশন, কাজ হাতছাড়া হওয়া আর প্রত্যাখ্যান তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। সেই সময় তাঁর বাবা-মাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
বিদ্যার কথায়, “আমার বাবা-মা তখন প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলেন, ‘ওর অন্তত একটা ছবি যেন ভাল চলে।’ এমনকী যদি ও অভিনেত্রী হিসেবে কেরিয়ারও না করতে পারে, তবু অন্তত একটা কাজ হোক। কারণ ওঁরা দেখছিলেন, আমি কতটা প্রত্যাখ্যান আর হতাশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত তো সব বাবা-মাই চান, তাঁদের সন্তান যেন সুখী থাকে।”
রাতের পর রাত কান্না, তবু হার না মানেননি বিদ্যা
সেই সময়টা কতটা কঠিন ছিল, তা আরও স্পষ্ট করে বলেন বিদ্যা। “আমি হাল ছাড়িনি। অনেক দিন এমন হয়েছে যে, রাতে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমোতে যেতাম। কিন্তু পরদিন সকালে উঠে নিজেকে বলতাম, ‘আরও একটা দিন, আজ কী হয় দেখা যাক।’”
হার না মানার মানসিকতা, 'আজ না হোক, কাল হবে' - এই বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন বিদ্যা।
প্রত্যাখ্যান মানেই ব্যর্থতা নয় (dealing with rejection mental health tips)
প্রত্যাখ্যান যে কতটা তীব্র আঘাত দিতে পারে, তা শুধু অভিনয় জগতেই নয় - চাকরির আবেদন, সৃজনশীল কাজ, এমনকী ব্যক্তিগত সম্পর্কেও আমরা সবাই কোনও না কোনও সময়ে অনুভব করি।
এই প্রসঙ্গে বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট দিব্যা শ্রীরাম কে আর বলেন,
“আজকের দুনিয়ায় ‘সাফল্য’ আসলে অনেক জটিল বিষয়। এর সঙ্গে অর্থ, প্রভাব আর ভাগ্যের একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাই প্রতিটা প্রত্যাখ্যানকে সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করা জরুরি। এতে বোঝা যায়, কোথায় দায় আমাদের, আর কোথায় পরিস্থিতির।”
তাঁর মতে, প্রত্যাখ্যান জীবনের স্বাভাবিক অংশ, এটা কখনওই একজন মানুষের মূল্য বা যোগ্যতা নির্ধারণ করে না।
ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যাখ্যান থেকে বেরিয়ে আসতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
১. অনুভূতিকে স্বীকার করুন
দুঃখ, রাগ বা হতাশা - যা মনে হচ্ছে, সেগুলো অস্বীকার করবেন না। মনের কথা লিখে ফেলুন, বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলুন, বা কোনও সৃজনশীল কাজে নিজেকে ডুবিয়ে দিন।
২. দৃষ্টিভঙ্গি বদলান
প্রত্যাখ্যানকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না ভেবে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন। হয়তো সময়টা ঠিক ছিল না, বা আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল।
৩. পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন
যদি সম্ভব হয়, কেন আপনাকে ‘না’ বলা হল, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। ফিডব্যাক পেলে তা ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগান। তবে অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা করবেন না।
৪. নিজের ইতিবাচক দিক মনে রাখুন
একটা ‘না’ আপনার সমস্ত সাফল্য বা গুণ মুছে দেয় না। আগের অর্জনগুলোকে মনে করুন।
৫. শিখুন ও নিজেকে বদলান
এই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন কিছু শিখুন। হয়তো নতুন কোনও দক্ষতা রপ্ত করা দরকার, বা পদ্ধতিটা একটু বদলাতে হবে।
৬. মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তুলুন
প্রত্যেকবার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠলে আপনি আরও শক্ত হন। পরের চ্যালেঞ্জ সামলানো সহজ হয়।
৭. ছোট সাফল্য উদ্যাপন করুন
বড় সাফল্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে ছোট জয়গুলোকে গুরুত্ব দিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
৮. এগিয়ে চলুন
একটা প্রত্যাখ্যানের কাছে থেমে যাবেন না। সামনে এগোন, নতুন সুযোগ খুঁজুন। সাফল্যের পথ একটাই নয়।
প্রতিটা নতুন দিনের সঙ্গে নতুন করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।