শোনা যায়, উত্তমকুমার নিজের খাওয়ার মেনু নিজেই বানাতেন। কোন দিনে কী খাবেন, সেই তালিকাও তৈরি করতেন। আর তাতে মাছ-মাংসের বাহারি পদ থাকতই।

উত্তমকুমার
শেষ আপডেট: 23 June 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমার ছিলেন নিঃসন্দেহে রসনা তৃপ্তিতে একেবারে আপাদমস্তক বাঙালি। তেলেভাজা, লুচি-পরোটা, বিরিয়ানি, চাউমিন, কিংবা চিংড়ি পাতুরি বা সরষে ইলিশ—রন্ধনপ্রণালির তালিকায় খুব কম জিনিসই ছিল যা তিনি উপেক্ষা করতেন। তবে রবিবার এলেই তাঁর চাই-ই চাই মায়ের হাতে বানানো ভেটকি মাছের কাঁটা চচ্চড়ি।
শোনা যায়, উত্তমকুমার নিজের খাওয়ার মেনু নিজেই বানাতেন। কোন দিনে কী খাবেন, সেই তালিকাও তৈরি করতেন। আর তাতে মাছ-মাংসের বাহারি পদ থাকতই। তবে এই বিপুল খাবারের তালিকার বাইরেও ছিল এক বিশেষ দুর্বলতা—রসগোল্লা। উত্তমের ঘনিষ্ঠদের দাবি, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা ডিনার—যে কোনও খাবার শেষ হত এক বা একাধিক রসগোল্লা দিয়ে। এমনকী এমন দিনও নাকি কেটেছে, যখন সারা দিন তিনি শুধুই রসগোল্লা খেয়ে কাটিয়ে দিতেন।
কিন্তু ১৯৬৭ সালে প্রথম হার্ট অ্যাটাক বদলে দিল সবকিছু। ডাক্তারি পরামর্শে একে একে বিদায় নিতে শুরু করল প্রিয় সব খাবার। ঝাল-মশলা ভরা সুস্বাদু রান্নার বদলে রোজকার মেনুতে এল মুরগির স্টু আর স্যুপ। আর তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হল রসগোল্লা।
তবে মহানায়কের ভালবাসা কি এত সহজে বিদায় নেয়? রসগোল্লা ছাড়তে মন মানল না উত্তমের। আর তাই চিকিৎসকদের চোখে ধুলো দিয়ে বের করলেন অভিনব উপায়—রসগোল্লার উপর নুন ছিটিয়ে খেতে শুরু করলেন তিনি! তাঁর ধারণা ছিল, এতে রসগোল্লার ক্ষতি হবে কম, আর রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
শেষমেশ চিকিৎসকের কানেও পৌঁছায় এই কৌশলের কথা। কড়াভাবে তিনি নিষেধ করেন মহানায়ককে। আর এবার আর কোনও অভিনব কৌশলে না গিয়ে নির্দেশই মানেন উত্তম—একজন বাধ্য রোগীর মতো।