শনিবার ইমপার অফিসে বসেছিল স্ক্রিনিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পুরো টলিপাড়ার চোখ ছিল সেদিকে।

শেষ আপডেট: 30 November 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ইমপার অফিসে বসেছিল স্ক্রিনিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পুরো টলিপাড়ার চোখ ছিল সেদিকে। কারণ, এই বৈঠকের উপস্থিতির তালিকাই বলে দেয় তার গুরুত্ব—দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অতনু রায়চৌধুরী, নিসপাল সিং রানে, রানা সরকার, শতদীপ সাহা, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, পরিবেশক পঙ্কজ লাডিয়া, ক্যামেলিয়ার তরফে নীলাঞ্জন বসু, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস—সবাই ছিলেন মুখোমুখি আলোচনার টেবিলে।
আগের বৈঠকেই তিনটি বড় নিয়ম আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। প্রথমত, কোনও উৎসব বা উদ্যাপনের সময়ে একসঙ্গে তিনটির বেশি ছবি মুক্তি পাবে না—দর্শকের মনোযোগ ও হলের সুবিধার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়ত, কোন প্রযোজনা সংস্থা কতগুলি ছবি বানাচ্ছেন, তার উপর নির্ধারিত হবে সেই সংস্থা কতটি প্রাইম টাইম শো পাবে। তৃতীয়ত, এক প্রযোজনা সংস্থা পরপর সব উৎসবে তার ছবি রিলিজ করতে পারবে না—বাজারে ভারসাম্য রাখতেই এমন নিয়ম।
এই নিয়মগুলো মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে ২০২৬ সালের বাংলা ছবির রিলিজ ক্যালেন্ডারের প্রাথমিক খসড়া। ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, পরের বৈঠকে ক্যালেন্ডারটি চূড়ান্ত করে সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, আগামী বছর থেকেই টলিপাড়ার রিলিজ-নীতিতে বড়সড় পালাবদল আসছে, সেটা একপ্রকার পাকাপোক্ত।
শনিবারের বৈঠকে আরও কিছু কড়া নির্দেশনা উঠে এসেছে। প্রাইম টাইম শো পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার বাজেটই মূল মাপকাঠি। পিয়ার স্পষ্ট ঘোষণা—যে ছবি অন্তত ২ কোটির বাজেটে তৈরি হবে, তারাই প্রাইম টাইমের শো পাবে। ২ কোটির কম বাজেটের ছবির জন্য সেই দরজা বন্ধ। শুধু তাই নয়, বহু বছরের পুরোনো শুট করা ছবিও আর প্রাইম রিলিজ ডেটে জায়গা পাবে না। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তৈরি ছবি চলবে ২০২৬-এর প্রাইম রিলিজ ডেটে। আর ২০২৬ সালে তৈরি ছবি চলবে সেই বছরেই।
দেখতে দেখতে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ যেন নতুন নিয়মের বাঁধনে আরও সাজানো পথে হাঁটতে চলেছে। প্রশ্ন তবে একটাই—এই কড়া নীতিমালার দৌড়ে কে এগিয়ে যাবে আর কে হারিয়ে যাবে আলো-আঁধারির ভিড়ে?