স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, পেয়েও গিয়েছিলেন। তাহলে নতুন করে ডাকাতির অভিযোগ কেন? ইন্সপেক্টর দূর্গা রায়—অর্থাৎ টোটা রায় চৌধুরীর মুখে এই প্রশ্ন উচ্চারণ হতেই যেন অন্ধকার ভেদ করে পর্দায় আবির্ভাব ঘটে সেই কিংবদন্তি নামটির—অনন্ত সিংহ।

শেষ আপডেট: 30 November 2025 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, পেয়েও গিয়েছিলেন। তাহলে নতুন করে ডাকাতির অভিযোগ কেন? ইন্সপেক্টর দূর্গা রায়—অর্থাৎ টোটা রায় চৌধুরীর মুখে এই প্রশ্ন উচ্চারণ হতেই যেন অন্ধকার ভেদ করে পর্দায় আবির্ভাব ঘটে সেই কিংবদন্তি নামটির—অনন্ত সিংহ। এভাবেই শুরু হয়েছে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ (keu bole biplobi keu bole dakat)-এর ঝকঝকে রয়্যাল রিভিল ভিডিও। আর বিশেষ দিন বলেই হয়তো, নিজের জন্মদিনে জিৎ ভক্তদের হাতে তুলে দিলেন তাঁর নতুন ছবির প্রথম ঝলক। মাত্র ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে অনন্তকে যে ঠিক কোন খাপে ফেলা যায়—বিপ্লবী, না কি দস্যু—সেটা বোঝাই কঠিন।
কিন্তু স্পষ্ট একটাই—অনন্ত সিংহকে জিৎ (Jeet, Superstar Jeet)যেন এক অন্য আঙ্গিকে, অচেনা ছায়ায় দেখাতে চলেছেন। পরিচালক পথিকৃৎ বসুও তা-ই মনে করিয়ে দিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘অনন্ত সিংহ এমন এক যোদ্ধা, যাঁর নাম ইতিহাসে বড় করে লেখা না থাকলেও, তাঁর অবদান বিস্মৃত হওয়ার নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে এই গল্প পৌঁছনো জরুরি।” ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আরও যোগ করেছেন, জিৎ তাঁর প্রথম দিককার কাজের সঙ্গী—সহকারী পরিচালক থাকাকালীন। তাই নিজের পরিচালিত ছবিতে জিৎকে প্রধান চরিত্রে পাওয়া তাঁর কাছে নিখাদ স্বপ্নপূরণ। ছবির চিত্রনাট্য লিখছেন অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্পণ গুপ্ত, আর বাংলা ছবিতে আবার ফিরছেন সুরকার শান্তনু মৈত্র।
এ বছর মে মাসেই প্রকাশ্যে এসেছিল, পথিকৃতের পরিচালনায় ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এ জিৎ ফুটিয়ে তুলবেন বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবনগাথা। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক সেই অনন্ত—যিনি স্বাধীনতার পর সমাজের ন্যায়বিচারহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের চোখে হয়ে ওঠেন ‘ডাকাত’। ছবিতে তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে ইন্সপেক্টর দূর্গা রায় চরিত্রটিকে—যিনি অনন্তকে গ্রেফতারের দায়িত্ব পান। এখান থেকেই শুরু হয় গল্পের রোমাঞ্চকর মোড়।
অনন্তের যুদ্ধকৌশল, তাঁর সংগঠনের দৃঢ় ভিত্তি, আর তাঁর সূক্ষ্ম রাজনৈতিক মেধা পুলিশের কাছে চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গোটা কাহিনিতে মিশে থাকে বিশ্বাসঘাতকতা, উত্তেজনার স্রোত, আদর্শ বনাম বাস্তবতার সংঘর্ষ, আর এক মানুষের পরিচয় নিয়ে জটিল প্রশ্ন—তিনি সত্যিই কি বিপ্লবী? নাকি রাষ্ট্রের চোখে একজন ভয়ংকর দস্যু?
যদিও টিজারে টোটো রায় চৌধুরীকে দেখা যায়নি, অভিনেতা আগেই জানিয়েছিলেন কেন এই চরিত্র তাঁকে টেনেছিল। তাঁর মতে, “চিত্রনাট্য দারুণ। চরিত্রটার ভিতরে কাজ করার মতো অনেক স্তর আছে। শারীরিক ক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা—সবই লাগবে। আর পথিকৃতের কাজে আমি বরাবরই স্বস্তি পাই।” কলকাতা, ঝাড়খণ্ড, ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম—বহু ল্যান্ডস্কেপে শুটিং হয়েছে।
পিরিয়ড ড্রামাটির মেকআপ সামলেছেন সোমনাথ কুণ্ডু, আর সুরে আবার শান্তনু মৈত্র। মাস্টারদা সূর্য সেনের তত্ত্বাবধানে কীভাবে অনন্ত ধীরে ধীরে স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন, সেই পথচলা তুলে ধরা হবে ছবিতে। পরে সামাজিক দুর্নীতি আর ব্যর্থতার হতাশা তাঁকে ঠেলে দেয় ব্যাংক ডাকাতির পথে—তবে নিজের লাভের জন্য নয়, বঞ্চিত মানুষের কাছে সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মানসে। এদিকে ইন্সপেক্টর দুর্গা রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে ধরার দৌড়ে নামে। গল্প এগোয় ক্লাইম্যাক্সের দিকে, বাড়তে থাকে টানটান উত্তেজনা।
নন্দী মুভিজ-এর প্রযোজনায় ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে অনন্ত সিংহর চরিত্রে জিৎকে দেখতে মুখিয়ে আছে দর্শক। তবে শেষ প্রশ্নটা এখানেই—ইতিহাসের পাতায় উপেক্ষিত এই মানুষটিকে কি আমরা সত্যিই চিনি? নাকি আমাদের অজান্তেই এক ‘বিপ্লবী’কে যুগ যুগ ধরে ‘ডাকাত’ বলেই ডেকে যাচ্ছি?