রগরগে-টগবগে। খিস্তি-খুন। চুরি-জোচ্চুরি। মিথ্যে-ঢপ। সেক্স-ট্যাবু! ম্যাকগাফিন—ব্যাড ফেলাস! মোদ্দা কথা ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’একটি ‘জগা খিচুড়ি’ ছবি। সব আছে, কিন্তু সব মিলিয়ে অনেক কিছু নেইও...

দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 17:39
নানা মুনির নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান
রগরগে-টগবগে। খিস্তি-খুন। চুরি-জোচ্চুরি। মিথ্যে-ঢপ। সেক্স-ট্যাবু! ম্যাকগাফিন—ব্যাড ফেলাস! মোদ্দা কথা ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ একটি ‘জগা খিচুড়ি’ ছবি। সব আছে, কিন্তু সব মিলিয়ে অনেক কিছু নেইও...
বিশদে আসা যাক, ওই গত চোদ্দ নভেম্বরের আসপাশে... জয়ব্রতর ছবি মুক্তির আগের এই সময়টাতে নানা বিতর্কে জড়িয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থতি তৈরি হয়। মুক্তির তারিখ পিছনো-সেন্সর সংশয়। ছবি ঘিরে তুমুল কিউরিসিটি। আর সেই কিউরিসিটিকে কাজে লাগিয়ে বড় পর্দায় নামল এমন এক সিনেমা, যা থ্রিলার, সাইকাডেলিক, যা পাল্প, আবার যা নোয়ার, আবার স্ল্যাপস্টিক কমেডিও বটে। অন্যদিকে হিংস্রতাও কম নেই। ছিটকে আসা রক্ত, বাস্তবতার সঙ্গে মিল খায় না। এবং এই দ্বন্দ্বই দর্শককে একই সঙ্গে অ্যাট্রাক্ট করেছে, আবার দিশেহারাও।

এই ছবির গল্প সহজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের এক কুড়ি কোটি টাকার পুরনো মদের বোতল—এক ধরণের অদ্ভুত ‘ম্যাকগাফিন’ (এই শব্দটার আসল অর্থ একটি কাল্পনিক বস্তু, কৌশল, বা ঘটনা যা প্লটের প্রেরণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পের অর্থের সাথে অপ্রাসঙ্গিক)। মদের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হালকা সৃজিত মুখুজ্জের ছোঁয়া পেতে পারেন দর্শক।

সে যাই হোক...এই বোতলটিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা, আর খুন। প্রতিটি চরিত্রের নাম, চালচলন, কথার ফাঁকে-ফাঁকে খুচরো খিল্লিপনা রয়েছে—সব মিলিয়ে ছবিতে তৈরি হয়েছে এমন এক রংচঙে, চনমনে মুড, যা ছবিটাকে জমিয়ে রাখে।
প্রত্যেকের অভিনয় ভাল। রুদ্রনীলই অনেকটা জুড়ে রয়েছেন ছবিতে, যা অবশ্যই, ভাল কথা। কিন্তু কেন এত ‘পরিচয়’-এর প্রয়োজন ছিল? প্রশ্ন উঠে আসে বারবার। কিছু জায়গায় অদরকারী। নেটফ্লিক্সের প্রায় সব সিরিজে অভিনেত্রী রাধিকার মতো ছিলেন অনেকটা। এবং সে কারণেই কিছু ইনটেন্স সিন, ‘সিন’ হয়ে উঠতে পারেনি।
হাসাহাসির দৃশ্যের গতি মাঝে-মাঝে পিছলে গিয়েছে, ধরে নিয়েছে পরক্ষণে। আর মারপিটের একটি বিশেষ কিছু সিনের ‘অ্য়ানিমি’ প্রশংসনীয়। যতদূর জানা গিয়েছে, ছবির ‘ফান্ড ক্রাঞ্চ’-এর কারণে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু যা হয়েছে, ভালই হয়েছে। অভিনেতাদের অনেকেই বাড়তি প্রশংসার যোগ্য, যেমন অমিত দাস, অনুরাধা, সৌরভ এবং ঋষভ। পায়েল আগাগোড়া মিষ্টি মেয়ে হয়েই থেকেছেন। কিন্তু ছবিতে ‘ধুরন্ধর’ হয়েছেন—রিচা সত্যিই ‘রিচ ইন লুকস’।
তবে, যা তাঁর থেকে এক্সপেক্টেড ছিল, এবং আনএক্সপেক্টেডলি যিনি ফেল করলেন, তিনি রাহুল। কিছু দৃশ্যে মনে হয়েছে, তিনি ‘প্রেজেন্ট’ কিন্তু অভিনয়ে ‘ব্লান্ট’।

পরিচালনা-চিত্রনাট্যে জয়ব্রত দাসের প্রচেষ্টা স্পষ্ট। টাইটেল থেকে এন্ড ক্রেডিট। মেপে সাজিয়েছেন। ‘ট্যারান্টিনো’ চুরি করে, তাঁকেই আবার উৎসর্গ করেছেন ছবি! এটা নিজস্ব স্টাইলাইজেশন। বিজিএম—গল্পকে ঝাঁকিয়ে দেয়। আসলে ট্রান্সেন্ড করতে থাকে সিনের পরতে-পরতে। দর্শকদের কাছে ছবির একটা তীব্রতা হয়তো, ধাক্কা দেবে, কিন্তু গতে বাঁধা ছবি যাঁদের পছন্দ তার আশাহত হবেনই।
জয়ব্রত ‘লম্বি রেস কা ঘোড়া’। প্রথম ছবিতে ‘স্টুডেন্ট’ হয়ে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ পেয়েছেন। করেওছেন। কিন্তু বাংলার প্রযোজনা সংস্থাগুলো সে সুযোগ তাঁকে আগামী দিনে তা দিতে পারলে ভাল! আর না পারলে আরও ভাল...
ভাত ডাল আর বিরিয়ানির ফারাক তো থাকবেই!
ছবিতে অসামঞ্জস্য কিছু? অবশ্যই আছে, যেমন ছবির সময়সীমা কমানো যেত। রুদ্রনীলের ক্লোজ মোনোটানাস শট। এডিটিং আরও টানটান হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এগুলো ছাড়া সব ঝাঁজালো, রক্তাক্ত এবং দেখার মতো। পারিবারিক ছবি এটি নয়। মোটেই নয়।