কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো পর থেকেই তাঁকে নানা কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে—এ কথা শ্রীময়ী চট্টরাজ অকপটে বহুবার জানিয়েছেন।

কাঞ্চন-শ্রীময়ী।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো পর থেকেই তাঁকে নানা কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে—এ কথা শ্রীময়ী চট্টরাজ অকপটে বহুবার জানিয়েছেন। বয়সের ব্যবধান, সমাজের প্রশ্ন, চারপাশের বিদ্বেষ—সবই যেন তাঁকেই নিশানা করে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানোর মতো শক্তি তিনি কোথায় পেয়েছেন? ঠিক সেই উত্তরই দিলেন অভিনেত্রী, বাবা-মায়ের ৪২তম বিবাহবার্ষিকীর দিনে।
২১ নভেম্বর, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে শ্রীময়ী লিখলেন—“আজ আমার বাবা-মায়ের ৪২তম বিবাহবার্ষিকী। আমাকে সবাই দেখে জানতে চায়, সম্পর্ক বলতে আমি কী বুঝি, বিয়ে নিয়ে আমার ধারণা কী, বয়সের ফারাক নিয়ে কেন কোনও দ্বিধা ছিল না আমার… এর সব উত্তর একটাই—আমার মা-বাবার সম্পর্কই আমার কাছে সম্পর্কের শ্রেষ্ঠ পাঠশালা।” জানালেন—মা-বাবার মধ্যেও ছিল প্রায় দশ বছরের বয়সের পার্থক্য। তবু ৪২ বছরের দাম্পত্যে কোনওদিন তিনি দেখেননি হাঙ্গামা, অপমান, তিক্ত শব্দের বিনিময়। খারাপ-ভালো মুহূর্ত এসেছে, গেছে—কিন্তু কোনওদিন তাঁদের সম্পর্ক টলেনি। সেই শান্ত, সুস্থ পরিবেশের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি ও তাঁর দিদি—যেখানে শৈশব সত্যিই শৈশব ছিল।
মায়ের কথা বলতে গিয়ে যেন আবেগ আর গর্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। শ্রীময়ীর কথায়—মা কোনও অফিসে চাকরি করেননি ঠিকই, কিন্তু বাড়িটাকে আগলে রাখা যে কী বিশাল দায়িত্ব, তা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। বাবা কখন ফিরছেন, কী খাবেন, বাচ্চাদের কোন শিক্ষক ভালো হবে, কোন খাবারটা সামনে ধরতে হবে, কার জ্বর হলে পুরো রাত জেগে থাকতে হবে—এসবই মায়ের নিত্যদিনের অবদান। কখনও স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, কখনও টিউশনে নিয়ে যাওয়া, এমনকি একসময় শুটিং করার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা—মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা জীবনের যে কোনও পরীক্ষাতে মা ছিলেন তাঁর প্রথম ভরসা।
বাবার ভূমিকা আবার ছিল একেবারে উল্টো—তিনি সামলেছেন বাইরের দুনিয়া। সংসারের প্রয়োজন, স্কুল-টিউশনের ফি, নতুন জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ—সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। আজও নাতনিদের খেলনা থেকে শুরু করে স্ত্রীর জন্য কোন গয়না বা কোন শাড়ি প্রয়োজন, সবই সামলে চলেন তিনি। এই দু’জন মানুষ তাই শ্রীময়ীর কাছে শুধু ‘মা’ বা ‘বাবা’ নয়—দুটি শক্ত স্তম্ভ, দুটি আশ্রয়।
নিজের প্রজন্মের সঙ্গে তুলনা করে শ্রীময়ী লিখলেন—আজকের দিনে এত ধৈর্য কারও নেই। তিনিও অনেক সময় অভিমান করেন, চিৎকার করেন; তবু মায়ের কাছেই শিখেছেন—কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে সংসার চালাতে হয়, কিভাবে সবরকম পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। খুব কম বয়সে মা হয়েছিলেন তিনি, আর সেই শক্তিটাও পেয়েছিলেন নিজের পরিবার থেকেই।
শেষে কাঞ্চন পত্নী যেন অনেক দিনের জমানো ভালোবাসা উজাড় করে দিলেন—“আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আমার মা-বাবা জাঁকজমক চান না, বড় করে কোনও বার্ষিকী বা জন্মদিন তাঁরা উদযাপন করেন না। তাঁদের সুখ শুধু এটুকুতেই—দুই মেয়ে, জামাই, নাতনিদের নিয়ে শান্তিতে থাকার নামই তাঁদের উদযাপন। আজও মা আমার মেয়েকে নিয়ে রাত জাগে। আমাদের হাসিই তাঁদের পরম সুখ।”
অভিনেত্রী আরও যোগ করেন—তাঁর বাবা-মা সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন না, তবুও তিনি এই পোস্ট লিখেছেন ঠিক এই কারণে—অনেক অনুভূতি মুখে বলা যায় না, শুধু লেখা যায়। লিখে তিনি বলতে চেয়েছেন—“যেভাবে আমাদের ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছো, সেভাবেই থাকো সারা জীবন। তোমাদের কাছে আমাদের আরও কিছু চাওয়ার নেই। শুভ বিবাহবার্ষিকী—তোমাদের সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হোক।”
এক মুহূর্তে পরিষ্কার হয়ে যায়—শ্রীময়ীর চোখে সম্পর্ক মানে ফুল-চকলেট-ছবির প্রদর্শনী নয়; সম্পর্ক মানে সেই নীরব ছায়া, যেটা দিনের শেষে মাথার ওপর থাকে। সম্পর্ক মানে ঠিক তাঁর মা-বাবার মতো—অটুট, ধৈর্যশীল, স্নেহময়।