প্রায় ৩০ হাজার টাকার কফিতে চুমুক দেওয়ার পর যদি প্রথম প্রতিক্রিয়াই হয়—‘এ যে একেবারেই ফিকে!’ তাহলে জিভ ছাড়িয়ে মনে তিক্ততা আসাটাই স্বাভাবিক!

দিলজিৎ
শেষ আপডেট: 28 May 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেস্তরাঁয় গিয়ে সাড়ে তিনশো টাকা দিয়ে বাটার চিকেন খেলে বাবা-মায়ের ছকবাঁধা অনুযোগ—এত টাকা দিয়ে মাত্র চার পিস! রেস্তরাঁয় না এলেই ভাল হত। বাড়িতে বসে সবাই মিলে ভরদুপুরে মাংস-ভাত খেতাম!
রেস্তরাঁ বা ক্যাফের খাবারের সঙ্গে দামের সঙ্গতির কথা ভাবতে গেলেই মাঝেসাঝে ধোঁকা খেতে হয়। আমি, আপনি—সক্কলে খাই। এবার এই তালিকায় জুড়ে দিন বিখ্যাত পাঞ্জাবি গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের নামও! তিনি অবিশ্যি পাঞ্জাবের কোনও দোকান নয়, গিয়েছিলেন লন্ডনে। সেখানকার সবচেয়ে দামি কফি চেখে দেখতে। ঢুকলেন হ্যাট মাথায়, হইহই করে। কিন্তু বেরলেন তেতো মুখে। তিতকুটে কফি মুখ মারেনি। প্রায় ৩০ হাজার টাকার কফিতে চুমুক দেওয়ার পর যদি প্রথম প্রতিক্রিয়াই হয়—‘এ যে একেবারেই ফিকে!’ তাহলে জিভ ছাড়িয়ে মনে তিক্ততা আসাটাই স্বাভাবিক!
সম্প্রতি সেটাই হয়েছে পাঞ্জাবি গায়ক-অভিনেতার সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে সবাই রসিকতা করতে পারে না। দিলজিৎ পারেন। আগেও করেছেন। সেই কোভিডকালে। যখন ঘরবন্দি অবস্থায় একের পর ভিডিও ছাড়তেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলছেন, কখনও পছন্দের ডিশ রাঁধতে গিয়ে উৎকট অবস্থা হচ্ছে! এসবের ভিডিওই আপলোড করতেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে হাসির রোল উঠত।
এবারও তা-ই হয়েছে। রিল আপলোড করেছেন ইনস্টাগ্রামে। দিলজিৎ গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন ক্যাফের দিকে। মনে খুশির বুদ্বুদ! সোল্লাসে বলে উঠছেন—‘আজ এখানে এসেছি লন্ডনের সবচেয়ে দামি কফি খেতে। চেখে দেখব জাপানের টিপিকা কফি। খুব দামি!’
মাথায় হ্যাট। গায়ে দামি জ্যাকেট। চোখে সানগ্লাস। সেই অবস্থাই হইহই করে ঢুকলেন ক্যাফেতে। কীভাবে কফি সার্ভ করা হল, তুলে ধরলেও তাও। কিন্তু দামের ব্যাপারটা মাথায় খচখচ করে চলেছে! তাই চিমটি কাটার ছলে বলে ফেলেন, ‘ওরা এত দাম নিচ্ছে, তবু সবকিছু মেপেজুপে দিচ্ছে। সত্যি খাঁটি কিছু খেতে চলেছি। আজ আর কিচ্ছু খাব না। কারণ এক একটা চুমুকের দামই ৭ হাজার টাকা!’
এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! কাপ মুখে তুলে প্রথম চুমুক! ৩০ হাজার টাকার কফি, ৭ হাজার টাকা পিছু প্রতি চুমুক! অথচ মুখে দিতেই বদলে যায় দিলজিতের হাবভাব। বিরস বদনে বলে ওঠেন, ‘আমার কি আলাদা কিছু অনুভব করা উচিত? কিন্তু এই কফি যে বড্ড পানসে!’
হাসতে হাসতে ঢুকেছিলেন দিলজিৎ। বেরিয়ে এলেন তিতকুটে মুখে। ‘শুধু কফি নয়, বোঁদে-লাড্ডু নিয়ে এসো’ বলে যিনি পাড়া মাথায় করেছিলেন, তিনিই সাফ সাফ ঘোষণা করে দিলেন--‘এই টাকায় তো ভারতে সেজেগুজে বিয়েতে যাওয়া যায়!’
অর্থাৎ, লন্ডনে গিয়েও ছবিটা পাল্টাল না। গল্পটা শেষমেশ রেস্তরাঁর বাটার চিকেন বনাম বাড়ির মাংস-ভাতেই এসে দাঁড়াল।