এই ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে নানা প্রশ্ন। অস্কারের কৌলিন্য হারানো নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। আবার অনেকে বলছেন, বিষয়টা শুধু সম্প্রচার মাধ্যম বদলের নয়, বরং সময়ের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার।

শেষ আপডেট: 18 December 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল, যখন সোনালি সন্ধ্যায় লাল গালিচায় পা ফেলতেন তাবড় হলিতারকারা। রবার্ট ডি নিরো, ক্যাথরিন হেপবার্ন কিংবা মেরিল স্ট্রিপের একঝলক দেখতে উৎসুক থাকতেন আট থেকে আশি। রুপোলি পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি মানেই বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উৎসব। সোনালি মূর্তি হাতে উচ্ছ্বাস, দীর্ঘ করতালি, আবেগে ভেজা বক্তৃতা—অস্কার মানেই ছিল আভিজাত্যের চূড়ান্ত মঞ্চ।
কিন্তু সময় বদলেছে। আর সেই বদলের স্রোতেই এ বার দিশা পাল্টাতে চলেছে অস্কার। টেলিভিশনের পর্দা ছেড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার অনুষ্ঠান পা রাখতে চলেছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ১৯৭৬ সাল থেকে টানা সরাসরি সম্প্রচার করে আসা এবিসির সঙ্গে প্রায় অর্ধশতকের সম্পর্ক ভাঙতে চলেছে অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের। ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৯ সাল থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অস্কার অ্যাওয়ার্ডের সরাসরি সম্প্রচার হবে ইউটিউবে।
এই ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে নানা প্রশ্ন। অস্কারের কৌলিন্য হারানো নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। আবার অনেকে বলছেন, বিষয়টা শুধু সম্প্রচার মাধ্যম বদলের নয়, বরং সময়ের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার। নতুন প্রজন্মকে আর নির্দিষ্ট সময়ে টিভির সামনে বসিয়ে রাখা যায় না। তারা কনটেন্ট দেখে নিজের সময়ে, নিজের শর্তে, নিজের স্ক্রিনে অস্কারের দিকে মুখ ফেরাতেই এই সময়োপোযোগী ভাবনা কি আদপে দূরদর্শীতার প্রতীক নয়?
অ্যাকাডেমির প্রেসিডেন্ট লিনেট হাওয়েল টেলর এবং চিফ একজিকিউটিভ বিল ক্রেমারও বিষয়টি গোপন রাখেননি। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, এই অংশীদারিত্ব অস্কারকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দর্শকসমুদ্রের কাছে পৌঁছে দেবে। ভবিষ্যতের সিনেমা-উদযাপন যে এই পথেই হবে, সে বিশ্বাসও তাঁদের রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে অঙ্কের হিসেব। এবিসির কাছে অস্কার ছিল লাভজনক ব্যবসা। প্রতি বছর প্রায় দশ কোটি ডলার খরচ করে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হত প্রায় চৌদ্দ কোটি ডলার। কিন্তু গত কয়েক বছরে রেটিং তলানিতে ঠেকেছে। কমেছে দর্শক, কমেছে বিজ্ঞাপন আয়ও। আগে অস্কারের অনুষ্ঠান দেখতে টিভির সামনে বসতেন প্রায় সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষ। চলতি বছরে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি।
তাই খোলা আকাশের খোঁজে ডিজিটাল দিগন্তে পা বাড়িয়েছে অস্কার। ইউটিউব সেই শ্বাসপ্রশ্বাস কতটা জোগাতে পারবে, তার উত্তর দেবে সময়ই।