Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়ের

মনোজ-জয়দীপের দ্বৈরথ স্ক্রিন ছেড়ে উঠতে দেবে না, বিরক্তি লাগবে শুধু শেষের ক্লিফহ্যাঙ্গারে

আমাজন প্রাইম ভিডিওয় ফিরেছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ (The Family Man Season 3)। রাজ নিদিমোরু ও কৃষ্ণা ডি কে (রাজ-ডিকে)–র তৈরি এই জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলারের থার্ড সিজনের গল্পের ক্যানভাস আরও বড়, আরও জটিল এবং অনেক বেশি ব্যক্তিগত। 

মনোজ-জয়দীপের দ্বৈরথ স্ক্রিন ছেড়ে উঠতে দেবে না, বিরক্তি লাগবে শুধু শেষের ক্লিফহ্যাঙ্গারে

আমাজন প্রাইম ভিডিওয় ফিরেছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ (The Family Man Season 3)

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 21 November 2025 14:35

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাজন প্রাইম ভিডিওয় ফিরেছে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ (The Family Man Season 3)। রাজ নিদিমোরু ও কৃষ্ণা ডি কে (রাজ-ডিকে)–র তৈরি এই জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলারের থার্ড সিজনের গল্পের ক্যানভাস আরও বড়, আরও জটিল এবং অনেক বেশি ব্যক্তিগত। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূ-রাজনীতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সীমান্তের ওপারে ছড়িয়ে থাকা গোপন চক্র—সব মিলিয়ে আগের দু’টি সিজনের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে খেলেছে টিম ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ৩’।

গল্প: গুপ্তচরই এখন পলাতক (Family Man season 3 review)

নাগাল্যান্ডে এক মিশন গিয়ে বিপদে পড়েন অফিসার শ্রীকান্ত তিওয়ারি (মনোজ বাজপেয়ী)। ঘটনাচক্রে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন সন্দেহভাজন, তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এনআইএ—যাদের জন্য তিনি কাজ করেন—তারাই এবার তাঁর পেছনে লেগেছে।

শ্রীকান্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবার আর সঙ্গী জে কে তলপাড়ে (শরীব হাশমি)–কে নিয়ে। অন্য দিকে ভারত-মায়ানমার-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্তের জাল বুনছে চোরাচালানকারী ও কনট্রাক্ট কিলার রুকমা (জয়দীপ অহলাওয়াত)। তার আন্তর্জাতিক ‘হ্যান্ডলার’ মীরা (নিমরত কৌর)। এই ষড়যন্ত্র ঠেকানোই এখন শ্রীকান্তের কাছে দেশের নিরাপত্তা বাঁচানোর পাশাপাশি নিজের নাম সাফ করার একমাত্র পথ।

তৃতীয় সিজনে শ্রীকান্তের পরিবার এখন তাঁর গোপন পেশার কথা জানে। তবুও স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ঠাণ্ডা, অবিশ্বাস আর অসম্পূর্ণ কথোপকথন ধুলোর আস্তরণের মতো জমে আছে। মেয়ে ধৃতি (অশ্লেষা ঠাকুর) ও ছেলে অথর্ব (বেদান্ত সিনহা)ও বুঝতে পারে, বাবার মুখে যত কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি গোপন করে রাখে।

এই ঘরোয়া অস্বস্তির মাঝেই রাজ-ডিকে–র সিগনেচার হাস্যরস দুর্দান্তভাবে কাজ করেছে। শ্রীকান্তের ক্লান্তি, বিরক্তি অথচ অদ্ভুত রকম মানবিক মানুষটা দর্শককে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়ে না।


নতুন প্রতিপক্ষ রুকমা: সাদা-কালোর মাঝখানে ধূসর এক ভিলেন

জয়দীপ অহলাওয়াতের রুকমা চরিত্রটি তৃতীয় সিজনের বড় পাওনা। রুকমা নিষ্ঠুর, ঠাণ্ডা মাথার, আবার একদিকে প্রাক্তন প্রেমিকার ছেলের প্রতি মমতাশীল। অর্থাৎ নিছক একরোখা ভিলেন নন। তাঁর চরিত্রে মানবিকতা আর অপরাধবোধ মিলেমিশে যে ধূসরতা তৈরি হয়েছে, তা শ্রীকান্তের ঠিক বিপরীতধর্মী এক আয়না।

নিমরত কৌর–এর মীরা চরিত্রও নৈতিকভাবে বেশ দ্ব্যর্থপূর্ণ, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থের জটিল অন্ধকারে ঘোরাফেরা করে। তাঁদের রসায়ন স্ক্রিনে মন কাড়ে, যদিও সিরিজ সেই দিকে খুব বেশি এগোয় না।

শরীব হাশমির জে কে এখনও সিরিজের অন্যতম চরিত্র। তাঁর বিয়ের সম্ভাবনা, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েন, আর শ্রীকান্তের সঙ্গে অদম্য বন্ধুত্ব—সব মিলিয়ে ভারী প্লটের মাঝখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো কাজ করে।
এবার একটু বেশি জায়গা পেয়েছে টাস্‌ক টিমের প্রত্যেক সদস্য। তাঁদের সন্দেহ, দ্বিধা, অফিস রাজনীতি—সব মিলিয়ে সংস্থার ভেতরের ভাঙনও চোখে পড়ে। এক জায়গায় জে কে–র সামনে শ্রীকান্ত খুলে বলেন করিমের (আব্রার কাজি) কেসে কী ভয়াবহ ভুল করেছিলেন তাঁরা, আর সেই অপরাধবোধ কীভাবে আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেখানে স্পষ্ট হয়—তিনি শুধু গুপ্তচর নন, অপরাধবোধে জর্জরিত এক সাধারণ মানুষও।


উত্তর-পূর্বের প্রেক্ষাপট, ভিজুয়াল ও সাউন্ডের আলাদা শক্তি

এই সিজনের বড় আকর্ষণ উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকেশন। পাহাড়ি রাস্তা, সীমান্ত এলাকা, জঙ্গলে ভরা দুর্গম অঞ্চল—সব মিলিয়ে ক্যামেরা দারুণ ভাবে ধরেছে অঞ্চলটার সৌন্দর্য আর অস্থিরতা দুটোই। ভূ-রাজনীতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ, দীর্ঘ দিনের সংঘাতে ক্লান্ত সাধারণ মানুষের ছবি—এসবই গল্পকে বাস্তব মাটিতে দাঁড় করায়।

গান ও সাউন্ডট্র্যাকের দিক থেকেও চমক আছে। সচিন-জিগারের মূল টাইটেল ট্র্যাক ছাড়াও এবার বিশেষ আকর্ষণ নাগামিজ ভাষায় তৈরি টাইটেল মিউজিক, যেটা উত্তর-পূর্বের প্রেক্ষাপটে তৈরি সিরিজকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

তবে মনোজ বাজপেয়ী আবারও প্রমাণ করেছেন, শ্রীকান্ত তিওয়ারি চরিত্রটি যেন তাঁর জন্যই লেখা। তিনি শ্রীকান্তের মধ্যেই বেঁচেছেন, বাঁচছেন। ধুরন্ধর, অক্লান্ত এক দুঁদে অফিসার। বিশ্বাসঘাতকতার বোধ, ক্লান্তি, রাগ, ভালবাসা—সব একসঙ্গে ধরে রাখলেও তাঁর মধ্যে থাকা ‘মজার মানুষটা’ কোথাও হারিয়ে যায় না।

জয়দীপ অহলাওয়াত রুকমা চরিত্রে ভয়ঙ্কর অথচ অদ্ভুতভাবে মানবিক। ভয় দেখাতে যেমন পারেন, তেমনি কোথাও মনে করিয়ে দেন—সে-ও মানুষ, শুধু অন্য পথে চলে গেছে। শরীব হাশমি মূল প্লটের অন্ধকারের মধ্যে আলো জ্বেলে রেখেছেন। সিমা বিশ্বাস, প্রিয়মণী, নিমরত কৌর, গুল পনাগ—সকলেই নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে ফ্যামিলি ম্যান সিজন থ্রিতে কোনও খামতি নেই। টানা তিনটে সিজন টানটান? না, মোটেও তা নয়। সব ভালো সত্ত্বেও তৃতীয় সিজন পুরোপুরি নিখুঁত নয়। মাত্র সাতটি এপিসোড হলেও দু-একটা এপিসোড কিছুটা টেনে নেওয়া, ফিলার ধরনের মনে হয়। চিত্রনাট্যের কিছু মুহূর্তে মনে হয় যেন ইচ্ছাকৃত ভাবে ‘মিম বানানোর মতো’ ডায়লগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্য বানানো দৃশ্য ঢোকানো হয়েছে। এতে কাহিনি খানিকটা অনুমেয় হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় বিরক্তি লাগতে পারে শেষ পর্বে। ধীরে ধীরে জমিয়ে তোলা থ্রিলারের পরিণতি হিসেবে দর্শক যে ধরনের ক্লোজার চান, তা মেলে না। বরং জনপ্রিয়তার সূত্র ধরে আবারও ঝুলিয়ে রাখা ক্লিফহ্যাঙ্গার—যা অনেক দর্শকের কাছেই বিরক্তিকর লাগতে পারে।

‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ৩’ এখনও এমন এক সিরিজ, যেখানে হাসি আর টেনশন পাশাপাশি চলে, পরিবার আর দেশের নিরাপত্তা সমান গুরুত্ব পায়, আর মনোজ বাজপেয়ী–জয়দীপ অহলাওয়াত–শরীব হাশমির অভিনয় পর্দা ছাড়তে দেয় না। তবে শেষের দিকের কিছু পূর্বনির্ধারিত মোড় আর অতিরিক্ত ক্লিফহ্যাঙ্গার মিলিয়ে তৃতীয় সিজনটিকে ৫-এর মধ্যে সাড়ে ৩ দেওয়া যেতে পারে। প্রথম দু’টি সিজনের ভক্ত হলে, তৃতীয় সিজনও আপনাকে বেঁধে রাখবে—হাসাবে, চিন্তায় ফেলবে, আর শেষে হয়তো একটু রাগও হবে, কারণ চতুর্থ সিজনের জন্য অপেক্ষা না করে উপায় থাকবে না।


```