দিন কয়েক আগের এক সাধারণ বিকেল। বালিগঞ্জ থেকে নিউটাউনের দিকে দাদার বাড়ি রওনা দিতে নিজের পুত্র আদিকে নিয়ে অ্যাপ ক্যাবে উঠেছিলেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায় (Sudipa Chatterjee)।

সুদীপা।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগের এক সাধারণ বিকেল। বালিগঞ্জ থেকে নিউটাউনের দিকে দাদার বাড়ি রওনা দিতে নিজের পুত্র আদিকে নিয়ে অ্যাপ ক্যাবে উঠেছিলেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায় (Sudipa Chatterjee)। নিজস্ব গাড়ি ছিল না, তাই সমাধান হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন অ্যাপ পরিষেবা। কিন্তু সেই স্বাভাবিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায়—যেখানে একসময় দাঁড়াল হাতাহাতি, আর পিছনের সিটে কাঁদতে কাঁদতে কেঁপে উঠল ছোট্ট আদি।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভ্লগে নিজের ভাষায় গোটা ঘটনাই পরে তুলে ধরেছেন সুদীপা। বলেছিলেন, বন্ডেল রোডের দোকান থেকে ওঠার সময় রীতিমতো নিশ্চিন্ত ছিলেন। মাঝপথে মিষ্টির দোকানে দু’-এক মিনিট থামার পরিকল্পনাও ছিল। তিনি ড্রাইভারকে অনুরোধ করেছিলেন—‘‘পাঁচ মিনিট দাঁড়ান তো।’’ কিন্তু সেখানেই বাধল প্রথম বিতণ্ডা। চালকের জবাব—নতুন ‘স্টপ’ যোগ করতে হবে! সুদীপার প্রশ্ন, ‘‘আমার তো জানা নেই এগুলো কী করে করতে হয়। দু’মিনিটের জন্য কেনই বা করব? আপনি নিজেই তো যোগ করে দিতে পারেন!’’ এই তুচ্ছ কথাটাই মুহূর্তে রূপ নেয় তর্কে, তারপর চড়তে থাকে সুর, উত্তপ্ত হতে থাকে পরিবেশ।
সুদীপার অভিযোগ, পার্ক সার্কাস ধরে মা উড়ালপুল দিয়ে নিউটাউনের পথে তিনি যে রুটটি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন তা অমান্য করে চালক হঠাৎই গাড়ি ঘুরিয়ে দেন অন্যদিকে। আপত্তি তুলতেই আচমকা শুরু গালিগালাজ। এমনকি নাকি হুমকি ছুড়ে দেন—‘মজা দেখাব’। মুহূর্তেই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সুদীপা দাবি করেছেন, চালক নাকি তাঁর দিকে তেড়ে আসেন, এবং বাধ্য হয়েই তিনি আত্মরক্ষায় চালকের পিঠে ঘুষি মারতে বাধ্য হন।
এই সমস্ত বিশৃঙ্খলার মাঝেই ছোট্ট আদিদেব পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, শিশুমনে কী ভয়াবহ দাগ কাটতে পারে মুহূর্তের এমন আতঙ্ক। বাড়ি ফিরে পরদিনও সে নাকি আতঙ্কে কেঁপে উঠছিল। পরে বাবা-মা মিলেই তাকে বোঝান—রাস্তার অনিশ্চয়তা জীবনেরই অংশ, সব মানুষ একই রকম নয়, সব ঘটনা মনভোলানোও নয়। সিনেমায় যেমন নানা রকম ঘটনা দেখা যায়, সেটাকেই উদাহরণ দিয়ে শিশু মনটাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়। আজ হয়তো স্কুলে গিয়ে সে অভিজ্ঞতার গল্পই শোনাচ্ছে বন্ধুদের—যেমনটা বাচ্চাদের হয়েই থাকে।
ঘটনার পরে কী পদক্ষেপ নিলেন তিনি? প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল সোমবার কড়েয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবেন। গাড়ির নম্বরও মনে রেখেছিলেন। তাঁর তোলা ভিডিও ইতিমধ্যেই উঠে আসে ইউটিউব চ্যানেলে। কিন্তু পরে জানালেন, অভিযোগ জানানো আর লাগেনি। কারণ কোম্পানির পক্ষ থেকেই তাঁকে জানানো হয়েছে—ড্রাইভারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেল, মেসেজ সবই এসেছে। প্রয়োজনে সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থা। তাই তিনি আর থানায় যাননি। তাঁর কথায়, ‘‘গরিব মানুষটা হয়তো যথেষ্টই শাস্তি পেয়েছে। অতটা নির্মম হতেই হবে এমন নয়। তাই ছেড়ে দেওয়া ভালো।’’