দীর্ঘ চার বছরের পথচলা। কখনও থেমে গেছে ক্যামেরা, কখনও শেষ হয়ে গেছে ফান্ড। মাঝপথে ভেঙে পড়েছে আশা, আবার নতুন করে জেগেছে বিশ্বাস। বারবার ভাঙা আর গড়া— এই ওঠাপড়ার গল্পই আজ গড়ে তুলেছে এক ছবিকে, নাম— ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’।

ছবিতে রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, রাহুল ও অমিত সাহা।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ চার বছরের পথচলা। কখনও থেমে গেছে ক্যামেরা, কখনও শেষ হয়ে গেছে ফান্ড। মাঝপথে ভেঙে পড়েছে আশা, আবার নতুন করে জেগেছে বিশ্বাস। বারবার ভাঙা আর গড়া— এই ওঠাপড়ার গল্পই আজ গড়ে তুলেছে এক ছবিকে, নাম— ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’।
পরিচালক জয়ব্রত দাশের এই ছবির জন্ম যেন এক যুদ্ধজয়ের কাহিনি। অগণিত বাধা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া— সব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যে ছবি দাঁড়িয়েছে, তা নিখাদ টিমওয়ার্কের প্রতীক। পাশে ছিলেন ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, আবার ফাইনাল ল্যাপে হাত ধরেছেন সৌম্য সরকার ও প্রমোদ ফিল্মসের কর্ণধার প্রতীক চক্রবর্তী।
এই ছবিতে রয়েছেন একঝাঁক দুর্দান্ত অভিনেতা— রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, পায়েল সরকার, ঋষভ বসু, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, অমিত সাহা ও অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও দেখা যাবে রানা বসু ঠাকুর ও অঞ্জন রায় চৌধুরীকেও। প্রতিটি চরিত্রেই রয়েছে আগুন, রয়েছে কাঁচা সত্যের গন্ধ।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবির ট্রেলার— মাত্র দুই মিনিট ৫২ সেকেন্ডের, অথচ তাতে যেন গোটা ছবির রক্তগরম করা তীব্রতা! টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ট্রেলারের প্রতিটি ফ্রেমে লুকিয়ে আছে অন্ধকার, প্রতারণা আর অপরাধের ছায়া। একেবারে “A story of crime, chasing deceit and grime. A never-before-seen Bengali pulp action thriller.”
জয়ব্রত দাশ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন— “এমন বোল্ড ছবি বাংলা আগে দেখেনি।” ট্রেলার যেন সেই কথারই প্রমাণ রাখল। তবে পথটা সহজ ছিল না— ৫৪টি কাটছাঁটের পর অবশেষে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র মিলেছে ছবির, সঙ্গে ‘অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট’। ছবি মুক্তি পাবে ১৪ নভেম্বর ২০২৫, অর্থাৎ শিশু দিবসের দিনেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। তবে পরিচালক আগেভাগেই হাসতে হাসতে সতর্ক করেছেন, “এই ছবি সপরিবারে দেখতে যাবেন না!”
ফান্ড শেষ, শুট থেমে যাওয়া, সময়ের সঙ্গে লড়াই— সব পেরিয়ে অবশেষে যে ছবি তৈরি হলো, তা শুধু এক সিনেমা নয়, এক দল স্বপ্নবাজ মানুষের জেদ, ভালোবাসা আর একাগ্রতার ফসল। সেই স্বপ্নই এখন পর্দায় রং পেতে চলেছে। যেখানে প্রতিটি দৃশ্যের ভেতর লুকিয়ে আছে না-বলা যন্ত্রণা, প্রতিটি সংলাপের পেছনে এক পরিচালকের অবিচল লড়াই। আর তাই ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ শুধু একটি সিনেমা নয়— এটি এক অসমাপ্ত স্বপ্নের পর্দায় পুনর্জন্মও বটে।