অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) ‘হেনস্থা’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় জামিন পেলেন তনয় শাস্ত্রী। শনিবার আদালত তাঁকে এই মামলায় জামিন দিলেও এখনই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না তিনি।

মিমিকাণ্ডে তনয় শাস্ত্রীর জামিন
শেষ আপডেট: 7 February 2026 21:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) ‘হেনস্থা’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় জামিন পেলেন তনয় শাস্ত্রী (Mimi Chakraborty harassment case)। শনিবার আদালত তাঁকে এই মামলায় জামিন দিলেও এখনই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না তিনি। কারণ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশকে হেনস্থার আরও একটি মামলায় এখনও তাঁর জামিন মেলেনি। সেই কারণে বিচারক আরও চারদিন তনয়কে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে। ততদিন বনগাঁ সংশোধনাগারেই থাকতে হবে তনয় ও তাঁর দুই সঙ্গীকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জানুয়ারি। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ নিমন্ত্রণ ছিল অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর। সংগঠকদের অভিযোগ, মিমি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে, রাত পৌনে ১২টা নাগাদ মঞ্চে পৌঁছন। অথচ অনুষ্ঠান করার অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্তই। ঠিক এই কারণে মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ আরও, সেই সময় মিমিকে অপমান ও হেনস্থা করা হয়েছিল। ঘটনার পর বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় (Bongaon case update)।
এরপর অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে ধরতে গেলে পুলিশকেও বাধার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং তনয়কে থানায় নিয়ে যেতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে (Tanay Shastri arrest)। এরপর পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে হেনস্থার দায়ে আলাদা মামলা রুজু হয় তনয়-সহ আরও দু’জনের বিরুদ্ধে।
২৯ জানুয়ারি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশকে বাধা দেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত তনয় শাস্ত্রী ও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। ৩০ জানুয়ারি তাঁদের আদালতে তোলা হলে পুলিশ সাত দিনের হেফাজত চায়, যদিও বিচারক চার দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এই জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে ৩ ফেব্রুয়ারি ফের আদালতে তোলা হয় ধৃতদের। পুলিশ আবার সাত দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন জানায় এবং শ্লীলতাহানির ধারাও যোগ করার প্রস্তাব দেয়। যদিও তনয়-পক্ষের জামিনের আবেদন সেদিন খারিজ হয়ে যায়। আদালত ফের চার দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন এবং মিমি চক্রবর্তীর (Mimi Chakraborty) গোপন জবানবন্দি নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই জবানবন্দি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।
অবশেষে শনিবার মিমি চক্রবর্তীর করা মামলায় জামিন পেলেও পুলিশের কাজে বাধা ও হেনস্থার মামলায় মুক্তি মেলেনি তনয়ের। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি।