গ্রেফতারির পরই অসুস্থ তনয় শাস্ত্রী। হাসপাতালে শুয়েও মিমিকে হুমকি!

মিমি চক্রবর্তী, তনয় শাস্ত্রী
শেষ আপডেট: 30 January 2026 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া, হেনস্তা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী (Tanay Shastri)। গ্রেফতারির পরই অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে (Bongaon incident) ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অসুস্থতার মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় তনয়। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি মিমিকে লক্ষ্য করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। যদিও এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “একজন মানুষকে যতটা গুরুত্ব দেওয়ার কথা নয়, তার থেকেও বেশি গুরুত্ব আমরা দিয়ে ফেলেছি।”
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় ছিল একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১০টা থেকে তাঁর পারফরম্যান্সের সময় নির্ধারিত থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন। ফলে মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত প্রায় পৌনে ১২টা বেজে যায়। প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চলার সময়সীমা ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সেই কারণেই তাঁকে মাঝপথে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষের।

এই ঘটনার পর বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগে তিনি জানান, অনুষ্ঠানের মাঝেই ক্লাবের এক কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে পড়েন এবং তাঁর গান থামিয়ে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি অপমানিত ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাসের বক্তব্য, “মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে কোনও রকম অসম্মানজনক আচরণ করা হয়নি। তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা এবং মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা তাঁর কাছে অপমানজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা তাঁকে যথাযথ সম্মান দিয়েই বিদায় জানিয়েছি।”
মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনার তিন দিন পর, বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে বনগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের সময় পুলিশকে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। তনয় শাস্ত্রীর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন মহিলা জড়ো হয়ে পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন। ঠেলাঠেলির মধ্যেই পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তনয় শাস্ত্রীকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসে।
পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রী-সহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বনগাঁ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।