গত ২৯ মার্চ, তালসারির সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই জলে নামতে হয়েছিল রাহুল ও শ্বেতাকে। কিন্তু সেই দৃশ্যই মুহূর্তে রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 6 April 2026 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে, তবু শোক আর প্রশ্ন—দুটোই যেন সমানভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ায়। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তার মাঝেই ধীরে ধীরে সামনে আসছে নানা প্রতিক্রিয়া। এতদিন নীরব থাকার পর অবশেষে ন্যায়বিচারের দাবিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র।
গত ২৯ মার্চ, তালসারির সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই জলে নামতে হয়েছিল রাহুল ও শ্বেতাকে। কিন্তু সেই দৃশ্যই মুহূর্তে রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। দু’জনেই জলে তলিয়ে যান, আর তারপরটা সকলের জানা। সেই ক্ষত এখনও স্পষ্ট তাঁর সহ-অভিনেত্রীর চোখেমুখে—রাহুলের মৃত্যুর পরই সামনে এসেছিল এক মর্মান্তিক ভিডিয়ো। যেখানে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায় শ্বেতাকে।
এরপর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে কোনও মন্তব্য করেননি শ্বেতা। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। সেই নীরবতা ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা। তবে এবার শিল্পী সংগঠন আর্টিস্ট ফোমার (Artist Forum) ও ফেডারেশনের ডাকা কর্মবিরতির পাশে দাঁড়িয়ে, পরোক্ষে হলেও নিজের অবস্থান জানালেন তিনি। শুটিং বন্ধ রাখার ডাক দিয়ে করা পোস্ট শেয়ার করে নিয়ে তিনি যেন বুঝিয়ে দিলেন—ঘটনার বিচার চাওয়ার দাবিতে তিনিও উপস্থিত।
অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে তাঁর ফোন বর্তমানে তাঁর কাছে নেই। তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি শ্বেতা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি, চলছে চিকিৎসা, দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাঁর এই অবস্থান কি প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ? তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট—নীরবতার আড়াল ভেঙে ধীরে ধীরে সামনে আসছে সত্যের খোঁজ, আর সেই খোঁজে শামিল হচ্ছেন প্রত্যেকেই, নিজ নিজ জায়গা থেকে। রাত পোহালেই কর্ম বিরতিতে যাচ্ছেন শিল্পীরা। ফলে চাপ বাড়ছে প্রযোজনা সংস্থার ওপর। এখন দেখার রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত কোন পথে এগোয়।