রাহুলের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য থেকে টলিউডের প্রতিবাদ মিছিল, কোথাও দেখা যায়নি অম্বরীশকে। তা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছিল। অবশেষে প্রায় এক সপ্তাহ পর মুখ খুললেন অভিনেতা। ভাঙা গলায় দ্য ওয়ালকে বললেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাহুলকে এই অবস্থায় দেখার ক্ষমতা আমার ছিল না। আমি সহ্য করতে পারতাম না।’

শেষ আপডেট: 6 April 2026 17:41
জয়িতা চন্দ্র
‘একই ঘরে বসতাম আমরা, কী করে সেখানে ফিরি বলুন?’
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের (Rahul Arunoday Banerjee News) দুদিনের মাথাতেই দুটি ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য (Ambarish Bhattacharya)। রাহুলের সঙ্গে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে কাজ করছিলেন তিনি। শেষ দেখা, ২৯ মার্চ দুপুর পৌনে তিনটেয়। তারপর নিজের প্যাকআপ হয়ে যাওয়ায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অম্বরীশ। ‘মাঝ পথে আসে ফোন...’, তারপর থমকে গিয়েছিল অভিনেতার পৃথিবী।
২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee Death)। এই দুর্ঘটনার সময় ও কিছুক্ষণ আগে, স্পটে উপস্থিত ছিলেন একাধিক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অম্বরীশ ভট্টাচার্য। যদিও দুর্ঘটনার আগে তাঁর অংশের শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল।
রাহুলের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য থেকে টলিউডের প্রতিবাদ মিছিল, কোথাও দেখা যায়নি অম্বরীশকে। তা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছিল। অবশেষে প্রায় এক সপ্তাহ পর মুখ খুললেন অভিনেতা। ভাঙা গলায় দ্য ওয়ালকে বললেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাহুলকে এই অবস্থায় দেখার ক্ষমতা আমার ছিল না। আমি সহ্য করতে পারতাম না।’
অম্বরীশের কথায়, “আমাদের দুপুর তিনটেয় প্যাকআপ হয়ে যায়। শুধু নায়ক-নায়িকার দৃশ্য বাকি ছিল। রাহুলের সঙ্গে আমরা শেষ শট দিই আড়াইটে, পৌনে তিনটে নাগাদ। তারপর আমরা কলকাতার দিকে রওনা দিই। অনেকটা এগিয়ে আসার পরই খবরটা পাই। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।”
এরপরই বড় সিদ্ধান্ত নেন অম্বরীশ। অভিযুক্ত প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে দুটি প্রজেক্টে কাজ করছিলেন তিনি। এক ‘চিরসখা’, দুই ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। চিঠি দিয়ে দুই ধারাবাহিক থেকেই সরে দাঁড়ালেন অম্বরীশ। বললেন, আমি আমার তরফ থেকে দুটি ধারাবাহিক থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি। ঘটনার পর আমি শোকস্তব্ধ। রাহুল আমার বন্ধু ছিল। আমি পাড়িনি। ওই এক জায়গায় গিয়ে শুটিং করা আমার পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। এখন মনে হচ্ছে যতদিন না এর সঠিক সমাধান হবে, আর করবও না। তবে এই খবরটা আমি প্রচার করতে চাইনি, কারণ এটা আমার ব্যক্তিগত প্রতিবাদ।
২৯ মার্চ সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক খবর সকলের সামনে উঠে আসতে থাকে, তাতে নানাজনের নান মত চোখে পড়ে। কারও কথার সঙ্গে কারও কথার কোনও মিল ছিল না। ক্ষোভ উগরে অম্বরীশ বলেন, ‘পরস্পর বিরোধী কথা। অপ্রাত্যাশিত। বিবৃতিগুলো দেওয়ার সময় আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টা আমার কাছে আরও বেশি ধাক্কার ছিল, কারণ গত দু’মাস ধরে আমরা একই ঘরে বসতাম। যাওয়ার আগের দিনও ও আমাকে একটি বই উপহার দিয়েছিল। সেই ঘরে ফেরা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অম্বরীশ বলেন, ‘যতক্ষণ না যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ সত্যিই কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাই চাই দোষীরা শাস্তি পাক এবং এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক।’