এক সময় টেলিভিশনের পর্দায় রান্নাঘরের আড্ডায় ঢুকে পড়তেন তিনি—ঘরের মেয়ের মতোই। প্রতিদিনের জীবনে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর এক অদ্ভুত আত্মীয়তা তৈরি হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 7 January 2026 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় টেলিভিশনের পর্দায় রান্নাঘরের আড্ডায় ঢুকে পড়তেন তিনি—ঘরের মেয়ের মতোই। প্রতিদিনের জীবনে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর এক অদ্ভুত আত্মীয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই সুদীপার জীবন আজও আলোচনায়, কখনও তাঁর কাজের জন্য, কখনও আবার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কারণে। তবে সম্প্রতি তিনি যা শেয়ার করে নিলেন, তা যেন নিছক একটি পোস্ট নয়—একটি সম্পর্কের গোপনীয় ঘোষণা!
সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই দুটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন সুদীপা (Sudipa chatterjee)। একটিতে, লাল বেনারসির আভিজাত্যে মোড়া তিনি—সোনালি ওড়নায় ঢাকা মাথা, গলায় রজনীগন্ধার সুবাসমাখা মালা, আর শরীরজুড়ে সোনার গয়নার দীপ্তি। পাশে সাদা পাঞ্জাবিতে শান্ত, স্থির অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। অন্য ছবিটি আরও পুরনো—যেন সময়ের অ্যালবাম থেকে তুলে আনা। দু’জনেরই বয়স তখন কম, চোখেমুখে অনিশ্চিত স্বপ্ন আর তরুণ ভালোলাগার ছায়া। অফ-হোয়াইট শাড়িতে সুদীপা, অগ্নিদেবের পাশে দাঁড়িয়ে—দু’জনের মাঝখানে অনুচ্চারিত ভবিষ্যৎ।
এই দুই ছবির সঙ্গে লেখা ক্যাপশনই আসল গল্প। সুদীপা লিখলেন, আজ তিনি নাকি এক গোপন কথা বলছেন—তাঁর নাকি দু’টো বিয়ে। কিন্তু চমকটা সেখানেই, দু’বারই একই মানুষের সঙ্গে। সুযোগ যতবার আসবে, তিনি ততবারই অগ্নিদেবকেই বেছে নেবেন। হাজার ‘প্রিন্স চার্মিং’-এর ভিড়েও তাঁর পছন্দ একটাই। ভালোবাসার এই স্বীকারোক্তির সঙ্গে কৃতজ্ঞতাও—বছরের পর বছর তাঁকে সহ্য করার জন্য, তাঁর ভবঘুরে জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অগ্নিদেবকে ধন্যবাদ। আর মুচকি হাসির মতোই যোগ করেন, আজ কিন্তু তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নয়।
এই সম্পর্কের শুরুটা ধারাবাহিকের সেটে। ‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’ কাজ করতে গিয়েই আলাপ। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞ পরিচালক-প্রযোজক অগ্নিদেবের প্রতি টান জন্মায় সুদীপার। বয়সের ব্যবধান ছিল একুশ বছরের, কিন্তু মন আর বিশ্বাসের দূরত্ব ছিল না। ২০১০ সালে প্রথমবার আগুনের সামনে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা। সেই সময় সুদীপার বাবা গুরুতর অসুস্থ। একটাই ইচ্ছে ছিল—মেয়ের বিয়ে দেখে যাওয়া। সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়েই তড়িঘড়ি সেই বিয়ে। কিছুদিন পরেই বাবার চিরবিদায়—স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সেই প্রথম ‘হ্যাঁ’।
অগ্নিদেবের জীবনে অবশ্য এই বিয়ে প্রথম নয়। তার আগেও তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্ক সুখের হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল আইনি লড়াই। ২০০০ সালে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা করেন তিনি। আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হতে সময় লেগে যায় বহু বছর। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে আইনত আলাদা হতেই সুদীপা ও অগ্নিদেব রেজিস্ট্রি করে নেন তাঁদের দ্বিতীয় বিয়ে। এক মানুষ, এক সম্পর্ক—কিন্তু দু’বার সামাজিক ও আইনি স্বীকৃতি। তাই ভালোবাসার হিসেবেও দু’বার হানিমুন।
এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও এক আবেগের অধ্যায়। অগ্নিদেবের প্রথম বিয়ে থেকে জন্ম নেওয়া ছেলে আকাশ। সৎমায়ের জায়গা নিতে চাননি সুদীপা কখনও। বরং বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মা হওয়ার চাপ নয়, বরং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। আজও আকাশকে দেখা যায় সুদীপা-অগ্নিদেব আর তাঁদের ছেলে আদিদেবের সঙ্গে—একটি পরিপূর্ণ পরিবারের মতোই।