২০১৩ সালে ‘রাঞ্জনা’ দিয়ে যে আবেগের আগুন জন্মেছিল, তার আঁচ আজও নিভে যায়নি। তারপর ‘অতরঙ্গি রে’, আর তারপর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরে ইশক মেঁ’—প্রতিটি ছবিতে প্রেম, বেদনা, আত্মসমর্পণ আর ভাঙা মনের ভাষা নতুন করে শিখিয়েছেন আনন্দ এল রাই ও ধনুষ।

শেষ আপডেট: 7 January 2026 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৩ সালে ‘রাঞ্জনা’ দিয়ে যে আবেগের আগুন জন্মেছিল, তার আঁচ আজও নিভে যায়নি। তারপর ‘অতরঙ্গি রে’, আর তারপর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরে ইশক মেঁ’—প্রতিটি ছবিতে প্রেম, বেদনা, আত্মসমর্পণ আর ভাঙা মনের ভাষা নতুন করে শিখিয়েছেন আনন্দ এল রাই ও ধনুষ।
এই জুটির সিনেমা মানেই দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাওয়া এক রেশ। তাই তাঁদের পরপর সাফল্যের পর ফের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনামাত্রই অনুরাগীদের কল্পনায় ঢেউ তুলেছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু বলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে—এবার নাকি প্রেমের গল্প পা রাখতে চলেছে ইতিহাসের মাটিতে, রক্ত-মাটির গন্ধমাখা এক ভিন্ন ধারার সিনেমায়।
শোনা যাচ্ছে, আনন্দ এল রাই ও ধনুষ নাকি এবার হাত মেলাতে চলেছেন এক বিশাল ক্যানভাসের পিরিয়ড অ্যাকশন-রোম্যান্সে। আবেগ থাকবে, থাকবে সম্পর্কের গভীর টান—কিন্তু তার সঙ্গে যুক্ত হবে বিস্তৃত ভিজ্যুয়াল স্কেল, যুদ্ধ, সংঘর্ষ আর সময়ের ভার।
একাধিক সূত্রের মতে, লক্ষ্য একটাই—আনন্দের চেনা মানবিক গল্প বলার ভঙ্গিকে অক্ষুণ্ণ রেখে তাকে মিশিয়ে দেওয়া বড় পর্দার জাঁকজমক ও নাটকীয়তার সঙ্গে। ধনুষের ক্ষেত্রেও এই ছবিটি হতে পারে এক নতুন অধ্যায়—যেখানে জনপ্রিয়তা আর শিল্পীসত্তার ভারসাম্য রেখে তিনি ঢুকে পড়বেন এক সম্পূর্ণ নতুন সিনেম্যাটিক ভূখণ্ডে।
আরও জানা যাচ্ছে, ‘তেরে ইশক মেঁ’-র বিপুল সাফল্যের পরই এই পরিকল্পনা দানা বাঁধে। আবেগনির্ভর কাহিনি অবশ্যই থাকবে, কারণ সেটাই আনন্দ এল রাইয়ের গল্প বলার মূল সুর। তবে এবার আর শুধুই তীব্র প্রেমকথা নয়—সময়ের পর্দায় দাঁড়িয়ে এক বৃহৎ প্রেম ও সংঘাতের কাহিনি বলাই নাকি লক্ষ্য। প্রজেক্টটি নাকি বিশাল পরিসরে নির্মিত হবে, আর সেই কারণেই পরিচালক ও অভিনেতা—দু’জনেই ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত।
‘তেরে ইশক মেঁ’—২০২৫ সালের অন্যতম সর্বাধিক আয় করা ছবি হিসেবে এই সিনেমা ১০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্যের শিরোপা পেয়েছে। বেনারসের পটভূমিতে শঙ্কর ও মুক্তির প্রেম—যেখানে ভালবাসা কখনও সারিয়ে তোলে, কখনও ভেঙে দেয়, আবার কখনও সম্পূর্ণ বদলে দেয় মানুষকে—দর্শকের মনে গভীর দাগ কেটেছে। ধানুশের বিপরীতে ছিলেন কৃতি শ্যানন, আর সুরের জাদু বুনেছিলেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান, যিনি আনন্দ এল রাইয়ের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো কাজ করলেন এই ছবিতে।
ছবি মুক্তির পর থেকেই এক আশ্চর্য আলোচনা শুরু হয়—অনেকেই লক্ষ্য করেন, তেরে ইশক মেঁ-এর শঙ্করের মধ্যে যেন কোথাও লুকিয়ে আছে ‘রাঞ্জনা’-র কুন্দনের ছায়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নেয় নানা ফ্যান থিওরি—এই ছবি কি তবে ‘রাঞ্জনা’-র এক আত্মিক উত্তরসূরি? সেই জল্পনাও এই জুটির চারপাশে রহস্য আর কৌতূহলের পরত আরও ঘন করেছে।
এই তিনটি ছবিই আলাদা সময়ে সাফল্যের গল্প লিখেছে। ‘রাঞ্জনা’ ছিল ধনুষের হিন্দি ছবিতে অভিষেক, যা বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ‘অতরঙ্গি রে’ কোভিডের সময় সরাসরি ওটিটিতে মুক্তি পেয়েও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের অন্যতম বেশি দেখা ছবিতে পরিণত হয়েছিল—সেখানে ধনুষের সঙ্গে ছিলেন সারা আলি খান ও অক্ষয় কুমার। আর ‘তেরে ইশক মেঁ’ সেই ধারাবাহিক সাফল্যের সাম্প্রতিকতম সংযোজন।
বর্তমানে আনন্দ এল রাই নিজেও থেমে নেই। তাঁর প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে ‘তু ইয়া মেঁ’—শানায়া কাপুর ও আদর্শ গৌরব অভিনীত এই ছবি আসছে ভ্যালেন্টাইনস ডে উইকএন্ডে। পাশাপাশি রয়েছে ‘নখরেওয়ালি’, যেখানে প্রথমবার পর্দায় দেখা যাবে অংশ দুগ্গল ও প্রগতি শ্রীবাস্তবকে। অন্যদিকে ধনুষ ‘তেরে ইশক মেঁ’-এর আগে ‘ইডলি কড়াই’ ছবিতে অভিনয় ও পরিচালনা দুটোই করেছেন, আর সম্প্রতি শেষ করেছেন তাঁর ৫৪তম ছবি ‘ডি৫৪’-এর শুটিং, যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মামিথা বাইজু।
সব মিলিয়ে, যদি সত্যিই এই নতুন প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু আরেকটি ছবি নয়—আনন্দ এল রাই ও ধনুষের সৃজনশীল সম্পর্কের এক বড় বিবর্তন।