টলিউডে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার গল্প নতুন কিছু নয়। বহু তারকার জীবনে একাধিক সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে এসেছে-গিয়েছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না হয়েই।
, Sreemoyee Chattoraj.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 7 January 2026 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার গল্প নতুন কিছু নয়। বহু তারকার জীবনে একাধিক সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে এসেছে-গিয়েছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না হয়েই। অথচ সেই একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাঞ্চন মল্লিকের ব্যক্তিগত জীবন যেন বারবার জনসমক্ষে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
পঞ্চাশে পা দিয়ে তৃতীয়বার বিয়ে—এই একটি তথ্য তাঁর পরিচয়ের আগে এসে দাঁড়িয়েছে বহুদিন ধরে। প্রশ্ন, কটাক্ষ, বিচার—সব মিলিয়ে অভিনেতার জীবনের ব্যক্তিগত অধ্যায় যেন একপ্রকার জনতার সম্পত্তি হয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে বসে প্রথমবার নিজের মতো করে, সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan mullick, Sreemoyee Chattoraj, Sreemoyee Chattoraj Mullick)।
কথা বলতে গিয়ে কাঞ্চনের গলায় ছিল না অভিযোগ, ছিল উপলব্ধি। তিনি বললেন, মানুষ কেবল উপরটুকুই দেখে বিচার করে। অথচ একটি নৌকার আসল অবস্থা বোঝে সেই মাঝিই, যে প্রতিদিন তাকে চালায়। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন হয়তো বলতেই পারে, মাঝির অদক্ষতায় নৌকা ডুবছে। কিন্তু নৌকার কোথায় কতটা ফাটল, তার গভীরতা বা বিস্তার—সেই সত্যি জানার অধিকার কেবল মাঝিরই থাকে। সম্পর্কও ঠিক তেমনই। বাইরে থেকে দেখা চিত্র আর ভেতরের বাস্তবতা কখনও এক হয় না।

কাঞ্চন বলেন, সমাজে এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা জীবনে অসংখ্য সম্পর্ক, অসংখ্য শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতার ভিতর দিয়ে গিয়েছেন। ‘অনেকেই আছে যারা ৩০ বার ফুলশয্যা ৪০ বার হানিমুন করেছে, কিন্তু যেহেতু আমি অফিসিয়ালি তিনবার বিয়ে করেছি তাই সবসময় আমাকেই কথা শুনতে হয়। কিন্তু একটা সময় যখন সম্পর্কে আর কিছু থাকে না তখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো বলে আমি মনে করি।’ বলেন কাঞ্চন, তাঁর সোজাসাপ্টা বিশ্বাস—যে সম্পর্কে আর প্রাণ নেই, টান নেই, সম্মান নেই, সেখানে জোর করে থেকে যাওয়া ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। সেই মুহূর্তে বেরিয়ে আসাই তিনি সৎ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।
কাঞ্চন এটাও অস্বীকার করেন না যে কোনও সম্পর্ক ভাঙার দায় একতরফা হয় না। তালি কখনও এক হাতে বাজে না। কিন্তু আজ আর তিনি অতীতের প্রতিটি ক্ষত, প্রতিটি সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে চান না। কারণ বোঝাতে গেলেই সেই সম্পর্কগুলিকে আরও ছিন্নভিন্ন করা হয়, আরও কাটাছেঁড়া চলে। তাই তিনি বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মান।
এই আত্মকথার সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে শ্রীময়ীর প্রসঙ্গে। কাঞ্চন অকপটে স্বীকার করেন, জীবনের এক পর্যায়ে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেই অন্ধকার সময়ে শ্রীময়ী ভালোবেসে তাঁর ভাঙা সত্তাটাকে আবার জোড়া লাগিয়েছেন। মজা করে বলেন, তিনি নাকি শ্রীময়ীকে ভয়ই পান। কিন্তু সেই ভয়ের মধ্যেই আছে গভীর আস্থা—কারণ কাঞ্চন জানেন, শ্রীময়ী ছাড়া তাঁকে সামলানোর মতো, বোঝার মতো আর কেউ নেই। তাই আজ তাঁর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তেই শ্রীময়ীর কথাই শেষ কথা হয়ে ওঠে।
তবুও সমাজ থেমে থাকেনি। শ্রীময়ীকে বিয়ে করার পর থেকে কটাক্ষ বেড়েছে। এমনকি তাঁদের ছোট্ট সন্তানকেও রেহাই দেয়নি প্রশ্নবাণ। এক সন্তান থাকা সত্ত্বেও কেন পিঙ্কির সঙ্গে বিচ্ছেদ—এই প্রশ্ন বারবার ছুড়ে দেওয়া হয়েছে কাঞ্চনের দিকে, যেন সন্তানের অস্তিত্বই সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকে অস্বীকার করার হাতিয়ার।