কথায় বলে, বয়স শুধু সংখ্যা—ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা কিছু অঙ্কমাত্র। তবু গ্ল্যামারের দুনিয়ায় সেই সংখ্যাটুকু লুকিয়ে রাখতেই নায়িকাদের সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা থাকে।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, বয়স শুধু সংখ্যা—ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা কিছু অঙ্কমাত্র। তবু গ্ল্যামারের দুনিয়ায় সেই সংখ্যাটুকু লুকিয়ে রাখতেই নায়িকাদের সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা থাকে। কিন্তু সময় নিজস্ব নিয়মে এগোয়। উইকিপিডিয়ার হিসেবে আগামী মাসেই ৪২ ছুঁতে চলেছেন পায়েল সরকার। অথচ তাঁর চোখেমুখে আজও সেই পরিচিত দীপ্তি—যে দীপ্তি একসময় বাংলা বাণিজ্যিক ছবির পর্দায় তাঁকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
এক সময় পায়েল মানেই হিট জুটির ভরসা। দেব থেকে সোহম, আবির থেকে আরও অনেক জনপ্রিয় তারকা—একাধিক নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি উপহার দিয়েছেন বক্স অফিস কাঁপানো ছবি। ‘প্রেম আমার’, ‘লে ছক্কা’, ‘বোঝে না সে বোঝে না’—এই ছবিগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শুধু সাফল্যের গল্প নয়, এক তরুণী নায়িকার উত্থানের ইতিহাস। তবে সময়ের স্রোত কখনও মসৃণ হয় না। গত কয়েক বছরে তাঁর কেরিয়ার যেন খানিক দুলেছে, থেমেছে, আবার এগিয়েছে। তবু সম্প্রতি ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ পায়েলের বোল্ড উপস্থিতি ফের প্রমাণ করেছে—তিনি এখনও নজর কাড়তে জানেন, এখনও চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পান না।
পর্দার বাইরে কিন্তু ছবিটা অন্যরকম। যেখানে অনেকেই নতুন জীবনের অধ্যায় শুরু করছেন, সেখানে পায়েল এখনও একা। তনুশ্রী চক্রবর্তী সদ্য নিজের ‘আইবুড়ো’ তকমা ঝেড়ে ফেললেও, পায়েলের জীবনে এখনও ছাদনাতলার ঘণ্টা বাজেনি। কেন? এই প্রশ্নটাই যেন বছরের পর বছর তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।
পায়েলের প্রেমের তালিকায় নাম কম নয়, তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত ইতিহাসে সেই প্রেম ছিল ওপেন সিক্রেট। রাজ-মিমি-শুভশ্রীর ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তারও আগে রাজের জীবনে জায়গা করে নিয়েছিলেন পায়েল। একসঙ্গে কাজ, একসঙ্গে সাফল্য, আর অদৃশ্য এক বন্ধন—সব মিলিয়ে সেই সম্পর্ক ছিল গভীর, দীর্ঘস্থায়ী। তবু শেষ পর্যন্ত তা পূর্ণতা পায়নি। কখনও প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও, বিচ্ছেদের পর ঘনিষ্ঠ মহলে পায়েল নাকি বলেছিলেন—জীবনকে দেখার চোখ দু’জনের আলাদা ছিল, তাই এই প্রেমের পরিণতি অন্যরকম হওয়াই ছিল স্বাভাবিক।
পরে ‘যমের রাজা দিল বর’ ছবির পরিচালক আবির সেনগুপ্তর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও গল্প থেমে যায় মাঝপথে। বারবার ভালোবেসেছেন পায়েল, বারবার কাছে টেনেছেন মানুষকে, কিন্তু কোনও সম্পর্কই শেষ ঠিকানায় পৌঁছয়নি।
একবার ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকপট হয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছিল—এত বছর পরেও কেন সিঙ্গল? পায়েলের উত্তর ছিল বাঙালি মধ্যবিত্ত বাস্তবতার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেছিলেন, বাঙালি পরিবারের বাবারা ভীষণ পজেসিভ। শুধু মনের মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া নয়, তার চেয়েও কঠিন বাবা-মায়ের মনের মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া। নিজের কথায় তিনি হেসে যোগ করেছিলেন—এখনও তো বাবা-মায়ের পছন্দের ছেলেটাই খুঁজে পাচ্ছেন না।
সেই কথোপকথনের মাঝেই তিনি টেনে এনেছিলেন সানার প্রসঙ্গ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে বল ঠেলে দিয়ে পায়েল বলেছিলেন—ধরা যাক, বড় হয়ে সানা একদিন এসে বলল, সে কাউকে ভালোবাসে। তখন বাবার পৃথিবীটা কতটা এলোমেলো হয়ে যাবে, তা কি কল্পনা করা যায় না? মহারাজ অবশ্য ফাঁদে পড়েননি। সটান জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিদেশে থাকা মেয়ে তাঁকে খুব একটা পাত্তা দেয় না। তবে সানার প্রেমিককে দশটা প্রশ্ন করবেন ঠিকই, কিন্তু আপত্তি থাকবে না—আর কোনও প্রেমই তাঁর নিজের জগৎ বদলে দিতে পারবে না।