প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই শুধু জাতীয় পতাকার গর্ব নয়, সেই সঙ্গে কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। সোমবার সেই মুহূর্তই ধরা দিল রাজভবনের মঞ্চে।

শেষ আপডেট: 27 January 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই শুধু জাতীয় পতাকার গর্ব নয়, সেই সঙ্গে কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। সোমবার সেই মুহূর্তই ধরা দিল রাজভবনের মঞ্চে। বাংলার গভর্নর সিভি আনন্দ বোসের হাতে ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নরস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড তুলে নেওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত হলেন পরিচালক সুজিত রকার ও তেলুগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা মোহনবাবু। রাষ্ট্রীয় এই বিশেষ দিনে রাজ্যপালের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজ, সংস্কৃতি ও শিল্পজগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। (Shoojit Sircar, Mohan Babu, Republic Day)
জাতীয় দিবস উদযাপনের আবহে যখন সম্মানের মুকুট উঠল প্রাপকদের মাথায়, তখন আবেগ ধরা পড়ল তাঁদের কথাতেই। ‘পিকু’-খ্যাত পরিচালক সুজিত সিরকার এই স্বীকৃতিকে শুধু ব্যক্তিগত প্রাপ্তি হিসেবে দেখেননি। এএনআইকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টই জানালেন, এই সম্মান তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। একজন পরিচালক হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা যে আরও গভীর হল, সেটাই তাঁর কথায় সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, এই পুরস্কার তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বেশি করে ভালো সিনেমা বানানোর প্রেরণা দেবে।
সমান উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল দক্ষিণী অভিনেতা মোহন বাবুর কণ্ঠেও। জীবনে প্রথমবার গভর্নর অ্যাওয়ার্ড হাতে পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেছেন। তাঁর কাছে এই সম্মান যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ। অনুষ্ঠানে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার কথাও তিনি আলাদা করে উল্লেখ করেন। বাংলাকে তিনি শুধু একটি রাজ্য হিসেবে দেখেননি—তাঁর কথায়, বাংলা একটি মহান জায়গা, আর সেই মাটিতে এই সম্মান পাওয়া তাঁর কাছে গর্বের।
এই অনুষ্ঠানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিলেন সন্তুর মায়েস্ত্রো তরুণ ভট্টাচার্য। চলতি বছর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়া এই শিল্পীকেও এদিন গভর্নর অ্যাওয়ার্ডে সম্মান জানানো হয়। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, পদ্মশ্রীর খবর পাওয়ার মুহূর্তটা তাঁর জীবনের এক অবিস্মরণীয় আনন্দের সময়। সেই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি। তবে তাঁর কথায় সবচেয়ে জোর পেয়েছে দায়িত্বের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, পুরস্কার শুধু আনন্দ এনে দেয় না, সেই সঙ্গে কাজের দায়ও বাড়ায়। সেই দায়বদ্ধতা নিয়েই তিনি ভবিষ্যতে আরও মন দিয়ে সন্তুর সাধনা করতে চান।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মোট ১৩১ জন পদ্ম সম্মানপ্রাপকের নাম ঘোষণা করেছেন। সেই তালিকায় যুগ্মভাবে পদ্মভূষণ সম্মানে (মরণোত্তর) জায়গা পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ও কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের এই দিনটি তাই শুধু জাতীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। কাজ, সাফল্য আর দায়িত্বের স্বীকৃতিতে ভর করে রাজভবনের মঞ্চ থেকে ফিরে এল এক স্পষ্ট বার্তা—সম্মান যত বড়ই হোক, তার সঙ্গে দায়িত্বও ততটাই গভীর। আর সেই দায়িত্ব নিয়েই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার করলেন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির এই তিন গুরুত্বপূর্ণ মুখ।