শ্রীনগরের লাল চক থেকে শুরু হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ‘শতক ধ্বজ যাত্রা’। ঐতিহাসিক এই সূচনায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

শেষ আপডেট: 10 February 2026 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীনগরের লাল চক থেকে শুরু হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ‘শতক ধ্বজ যাত্রা’। ঐতিহাসিক এই সূচনায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম লাল চকে গেরুয়া পতাকা ওড়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। (shatak, RSS, shatak film)
কাশ্মীর থেকে যাত্রা এগিয়ে যায় জম্মুর দিকে। সেখানে স্থানীয় মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনা আরও স্পষ্ট করে দেয় যাত্রার মূল বার্তা—সেবা, শৃঙ্খলা ও ঐক্য। ডা. কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার এবং গুরুজি গোলওয়ালকরজির আদর্শে গড়ে ওঠা সংঘের শত বছরের পথচলার ইতিহাস ও মূল্যবোধ এই যাত্রার মধ্য দিয়েই তুলে ধরা হচ্ছে।
শতক ধ্বজ যাত্রার প্রথম পর্ব শেষ হয় লুধিয়ানায়। সেখানে ঢোলের তালে তালে অনুষ্ঠিত হয় একটি সমাবেশ। শতবর্ষের প্রতীক হিসেবে আয়োজন করা হয় ১০০ জন বাইকারের একটি র্যালি। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা জানানো হয়।
এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রযোজক বীর কাপুর বলেন, লাল চকে যাত্রার সূচনা তাঁর কাছে গভীর গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। তাঁর কথায়, ‘শতক’ ছবির মাধ্যমে এবং এই যাত্রার মধ্য দিয়ে সংঘের শত বছরের সেবামূলক কাজ ও দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
এই শতবর্ষ উদযাপনের ভাবনাকেই বড় পর্দায় তুলে ধরছে ফিচার ফিল্ম *শতক: সংঘের ১০০ বছর*। দেশের গঠন ও নিঃস্বার্থ সেবার এক শতক পূর্তিকে স্মরণ করে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ দেশজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দীর্ঘ যাত্রাপথ, সংগঠনের অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা, আদর্শ এবং দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিসরে তার ভূমিকা এই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ছবিটির পরিচালনায় রয়েছেন আশিস মল্ল। ধারণা ও ভাবনায় অনিল ধনপত আগরওয়াল। অ্যাসোসিয়েট প্রযোজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পবন সিন্ধি। বীর কাপুরের প্রযোজনায়, Ada 360 Degree LLP-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবির সহ-প্রযোজক আশিস তিওয়ারি এবং অ্যাসোসিয়েট প্রযোজক কবীর সদানন্দ।
ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়েছে দিল্লির ঝান্ডেওয়ালানের কেশব কুঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে। সেখানে RSS-এর সরসংঘচালক ডা. মোহন ভাগবত আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেন ছবির দুটি গান—‘ভারত মা কে বচ্চে’ এবং ‘ভগওয়া হ্যায় মেরি আইডেন্টিটি’। এই গানগুলি ছবির ভাবনা ও সংঘের আদর্শকে দেশাত্মবোধক সুরে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. ভাগবত সংঘের শতবর্ষের নিরবচ্ছিন্ন কর্মযাত্রার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, কীভাবে নিরব, অবিরাম প্রচেষ্টাই এই আন্দোলনের আসল শক্তি—‘না রুকে, না থাকে, না ঝুকে’।
নির্মাতাদের মতে, ‘শতক’ শুধু একটি ছবি নয়, এটি লক্ষ লক্ষ স্বয়ংসেবকের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাঁদের সেবা ও ত্যাগ দেশের গর্বের অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে এই ইতিহাস দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে দেশজুড়ে পরিবারগুলিকে। ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই এই ছবির মূল উদ্দেশ্য।