শাহরুখ–সলমন–আমির প্রমাণ করে দিলেন, বয়স নয়—স্টারডমই আসল।

আমির খান, সলমন খান ও শাহরুখ খান
শেষ আপডেট: 27 December 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের ইতিহাসে ১৯৬৫ সালটি এক বিশেষ মাইলফলক। কারণ এই এক বছরেই জন্ম নিয়েছিলেন তিন খান। যাঁরা পরে বদলে দিয়েছেন হিন্দি সিনেমার সংজ্ঞা। নাম শাহরুখ খান, সলমন খান ও আমির খান। সময় এগিয়েছে, ক্যালেন্ডার বদলেছে। আজ তাঁরা প্রত্যেকেই ৬০ বছরে পা রেখেছেন। সাধারণ কর্মজীবনে যেখানে এই বয়স মানেই অবসর আর বিশ্রাম, সেখানে বলিউডের এই ‘ত্রয়ী’ প্রমাণ করে দিচ্ছেন, বয়স তাঁদের কাছে শুধুই একটি সংখ্যা।
এক সময় হিন্দি সিনেমায় একটা অলিখিত নিয়ম ছিল। নায়ক মানেই তরুণ, আর বয়স বাড়লেই কেন্দ্রীয় চরিত্র থেকে সরে যেতে হবে। সেই নিয়মেই বড় হয়েছেন অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে ঋষি কাপুর, বিনোদ খান্নারা। অমিতাভ বচ্চনের কথাই ধরা যাক। পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছনোর আগেই তাঁর ক্যারিয়ারে ভাটা পড়তে শুরু করেছিল। রাজনীতিতে পা রাখা, নব্বইয়ের দশকের ভিএইচএস যুগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা এবং নতুন মুখের চাহিদা। সব মিলিয়ে তিনি এক সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ষাটে পৌঁছে তাঁকে টেলিভিশনে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র আশ্রয় নিতে হয়, আর বড় পর্দায় ‘মোহাব্বতে’-র মতো ছবিতে সাইড রোলে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।
ঋষি কাপুর বা বিনোদ খান্নার ক্ষেত্রেও চিত্রটা আলাদা ছিল না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ধীরে ধীরে মূল নায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতায় রূপান্তরিত হন। কিন্তু শাহরুখ–সলমন–আমিরের গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি।
আজ রণবীর কাপুর, রণবীর সিংদের মতো তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি সত্ত্বেও এই তিন খান এখনও বক্স অফিসে রাজত্ব করছেন। তার কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করেছেন- নিজস্ব কৌশলে।
আমির খান শুরু থেকেই ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। বছরে একটি ছবি করার ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেখিয়ে দেন, সংখ্যার চেয়ে মানই আসল। ‘লগান’-এর মতো ছবি সেই সাহসের ফল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও সংযত করেছেন, দর্শকের সঙ্গে একটা সরাসরি ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করেছেন।
সলমন খানের জীবনেও এসেছে খারাপ সময়। দুই হাজার দশকের শুরুতে তাঁর ক্যারিয়ার কার্যত টালমাটাল। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি বুঝে নেন নিজের দর্শকদের পালস। ‘ওয়ান্টেড’, ‘দাবাং’-এর মতো ছবি দিয়ে তিনি আবার নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
শাহরুখ খানের গল্পটা আবার একটু আলাদা। ২০১৫ সালের পর একের পর এক ছবি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আলো থেকে সরে যান। কিন্তু সেই নীরবতাই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে নতুনভাবে অ্যাকশন হিরো হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রচারের ঝলকানি থেকে দূরে থেকে দর্শকদের মনে তৈরি করেন এক ধরনের কৌতূহল—একটা FOMO, যা আজ তাঁর ছবির সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
এদিকে নতুন প্রজন্মও থেমে নেই। ‘অ্যানিম্যাল’ বা ‘ধুরন্ধর’-এর মতো ছবিতে সাফল্য পাচ্ছেন রণবীর কাপুররা। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, আজ থেকে কুড়ি বছর পর, ৬০ বছরে পৌঁছে কি তাঁরা তিন খানের মতোই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবেন? ফিল্ম বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে একটা কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। শাহরুখ–সলমন–আমির যে দৃষ্টান্ত তৈরি করে দিলেন, তাতে বলিউডে ‘নায়ক’ হওয়ার বয়সের সীমা চিরতরেই বদলে গেল। আজকের হিন্দি সিনেমায় ৬০ আর শেষ নয়, বরং সেটাই নতুন শুরু।