অভিনেতা নয়, এক অনুভূতি: ছয় দশকেও কেন সলমন খান বক্স অফিসের নিয়ম ভাঙেন

ভাইজান একাই একশো
শেষ আপডেট: 27 December 2025 13:10
একটা সময় ছিল, যখন বলিউডে শুক্রবার মানেই ছিল খানদের যুদ্ধ। শাহরুখ, সলমন আর আমির, এই তিন নামের মধ্যে বক্স অফিসের হিসেব কষা হত। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, এই প্রশ্নেই চলত চর্চা। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ তিন খানই নিজেদের আলাদা আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে। আর ৬০ বছরে পা দিয়ে সলমন খান এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ নন, বরং তিনি নিজেই।
অভিনয় নয়, আবেগের নাম সলমন
সলমন খানের জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমার হিট-ফ্লপের অঙ্কে ধরা যায় না। তাঁর তারকাখ্যাতি তৈরি হয়েছে দর্শকের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক গভীর সম্পর্ক থেকে। ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ কিংবা ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এর প্রেমিক থেকে ‘ওয়ান্টেড’-এর রাধে, ‘দাবাং’-এর চুলবুল পান্ডে বা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর সহজ সরল নায়ক, সলমন কেবল চরিত্রে অভিনয় করেননি, তিনি একেকটা প্রজন্মের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছেন।

পর্দায় তাঁর প্রবেশ মানেই হলঘরে আলাদা উত্তেজনা। সংলাপ শোনার আগেই দর্শক জানে, এটা ভাইজানের ছবি। সেই নিশ্চিন্ত বিশ্বাসটাই তাঁকে আলাদা করে দেয়।
আজও যার বিকল্প নেই...
৬০ বছরে এসে সলমনকে আর কিছু প্রমাণ করার নেই। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা এসেছে, যাবে। কিন্তু এমন কেউ নেই, যে তাঁর মতো বিশাল ফ্যানবেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কানেকশন তৈরি করতে পেরেছে। অন্য অভিনেতারা যেখানে কেরিয়ার পরিকল্পনায় ব্যস্ত, সলমনের লড়াই সেখানে অন্য জায়গায়, নিজের তৈরি করা প্রত্যাশার সঙ্গে।
আজ তাঁর প্রতিটি নতুন ছবি তুলনা পায় তাঁরই পুরনো ব্লকবাস্টারের সঙ্গে। আর সেখানেই বোঝা যায়, তিনি কতটা আলাদা। কারণ এই তুলনা করার মতো অতীত অন্য কারও নেই।

ফ্লপেও থামেন না ভাইজান
সব ছবি যে সফল হয়েছে, তা নয়। ‘টিউবলাইট’, ‘রেস ৩’ বা ‘সিকান্দার’-এর মতো ছবি সমালোচকদের মন জিততে পারেনি। কিন্তু তাতেও সলমনের দর্শক মুখ ফেরাননি। কারণ এখানে সিনেমার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভাই ফ্যাক্টর’। দর্শক জানে, গল্প যেমনই হোক, পর্দায় সলমন মানেই নির্দিষ্ট কিছু অনুভূতি। অ্যাকশন, সংলাপ, সেই চেনা 'সোয়্যাগ'। তারা আসলে সিনেমা দেখতে নয়, সলমনকে দেখতে আসে। এই জায়গাটাই তাঁকে বক্স অফিসের নিয়মের বাইরে নিয়ে যায়।
নিজের উত্তরাধিকারেই বন্দি
সলমন আজ আর একজন অভিনেতা নন। তিনি নিজেই একটি ঘরানা। দশকের পর দশক ধরে দর্শকের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক তাঁকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে ব্যর্থতাও তাঁকে একা করে দিতে পারে না। তাঁর ভক্তরা শুধু উদযাপনই করে না, প্রয়োজনে পাহাড়ের মতো পাশে দাঁড়ায়।

এই বয়সে এসে সলমনের সামনে আর নতুন কোনও জয়ের তাড়া নেই। পাহাড়ের চূড়ায় তিনি বহু আগেই পৌঁছে গিয়েছেন। এখন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে কেবল নিজের তৈরি করা এক বিশাল ইতিহাস, একটা লেগ্যাসি, যা প্রতিদিন তাঁকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এই লড়াই কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নয়, এই লড়াই তাঁর নিজের সঙ্গেই।
দশকের পর দশক ধরে দর্শকের হাত ধরে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলাদা পৃথিবী। সেখানে নায়ক শুধু পর্দার চরিত্র নয়, নায়ক এক অনুভূতি। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সেই অনুভূতির জায়গায় এতটুকু ফাঁক পড়েনি। প্রত্যেকটা নতুন ছবি মুক্তির আগে প্রশ্নটা আর থাকে না। হিট হবে কি না। প্রশ্নটা হয়, সলমন এবার নিজেকে কতটা ছাড়িয়ে যেতে পারবেন।
শেষ পর্যন্ত তাই তুলনার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না। কারণ সলমন খানের সঙ্গে তুলনা করার মতো আর কেউ নেই। তিনি নিজেই তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেই কারণেই ৬০ ছুঁয়েও, সময়ের সমস্ত হিসেব-নিকেশকে অগ্রাহ্য করে, বক্স অফিসে ভাইজান আজও 'একাই একশো'।