নতুন ছবির কাজ নিয়ে যখন টানা ব্যস্ত সুপারস্টার জিৎ, ঠিক তখনই আচমকা থমকে গেল শুটিং। সেটে গুরুতর চোট পেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হল ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর শুটিং। খবর অনুযায়ী, পরশু দিনের শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শেষ আপডেট: 17 December 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ছবির কাজ নিয়ে যখন টানা ব্যস্ত সুপারস্টার জিৎ, ঠিক তখনই আচমকা থমকে গেল শুটিং। সেটে গুরুতর চোট পেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হল ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর শুটিং। খবর অনুযায়ী, পরশু দিনের শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। গোটা সপ্তাহজুড়ে ক্যামেরা চলার কথা থাকলেও আপাতত ডেট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিক কীভাবে চোট লাগল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। পরিচালক পথিকৃৎ বসুও জানাতে পারেননি কবে ফের শুরু হবে শুটিং। যদিও প্রযোজনা সূত্রের দাবি, জিৎ-এর হাতে পাওয়া চোট আশঙ্কাজনক নয়। তবু, এই মুহূর্তে বিশ্রামই একমাত্র পথ।
এই ছবিতে জিৎ যে চরিত্রে ধরা দেবেন, তা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সাহসী অধ্যায়—অনন্ত সিংহ। অ্যাকশন ও আবেগে ঠাসা এই পিরিয়ড ড্রামায় তিনি হয়ে উঠছেন সেই মানুষটি, যাঁর নাম ইতিহাসে বড় করে লেখা না থাকলেও, সময়ের স্রোতে যিনি হয়ে উঠেছিলেন এক রহস্যময় কিংবদন্তি। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক অনন্ত সিংহের জন্ম ১৯০৩ সালের ১ ডিসেম্বর, চট্টগ্রামে। স্কুলজীবনেই মাস্টারদা সূর্য সেনের সংস্পর্শে এসে বিপ্লবের পথে হাঁটা শুরু। অচিরেই হয়ে ওঠেন তাঁর ঘনিষ্ঠ, বিশ্বাসভাজন সঙ্গী। সেই বিপ্লবের মাশুল হিসেবে আসে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর। জেল থেকে মুক্তির পর জীবনের মোড় ঘোরে—চলচ্চিত্র ও মোটরগাড়ির ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। তাঁর প্রযোজিত ছবির তালিকায় রয়েছে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত কালজয়ী ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’। শোনা যায়, একসময় তিনি নকশালপন্থী দলও গড়ে তুলেছিলেন।
কিন্তু ইতিহাস তাঁকে শান্ত থাকতে দেয়নি। ১৯৬০-এর দশকে কলকাতায় ধারাবাহিক ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের জদুগড় থেকে গ্রেপ্তার হন অনন্ত সিংহ। ফের আট বছর কাটে কারাগারে। লোককথা বলে, এই ডাকাতির অর্থ তিনি নিজের জন্য নয়, বরং বাংলার অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রেখে যান এক অমীমাংসিত প্রশ্ন—তিনি আসলে কে ছিলেন?
এই প্রশ্নকেই সামনে এনে শুরু হয়েছে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর ঝলমলে রয়্যাল রিভিল ভিডিও। “স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, পেয়েও গিয়েছিলেন। তাহলে নতুন করে ডাকাতির অভিযোগ কেন?”—ইন্সপেক্টর দুর্গা রায়ের এই সংলাপের মধ্য দিয়েই অন্ধকার ভেদ করে পর্দায় আবির্ভাব ঘটে অনন্ত সিংহের। টোটা রায় চৌধুরীর কণ্ঠে উচ্চারিত প্রশ্ন যেন দর্শককেও টেনে নেয় দ্বিধার কেন্দ্রে। মাত্র ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতেই স্পষ্ট—এই অনন্তকে কোনো এক খাঁচায় বন্দি করা যায় না। বিপ্লবী? নাকি দস্যু? উত্তর মেলে না।
নিজের জন্মদিনে এই প্রথম ঝলক তুলে দিয়ে জিৎ যেন ইঙ্গিত দিয়েছেন—তিনি এবার একেবারেই অন্য রকম। অচেনা, গাঢ়, ছায়াময়। পরিচালক পথিকৃৎ বসুও সেটাই মনে করিয়ে দেন। তাঁর মতে, অনন্ত সিংহ এমন এক যোদ্ধা, যাঁর অবদান বিস্মৃত হলেও গুরুত্ব কমে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এই গল্প পৌঁছনো জরুরি। ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে রয়েছে এই ছবিতে—সহকারী পরিচালক থাকাকালীন জিৎ তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। আজ নিজের পরিচালনায় তাঁকে মুখ্য চরিত্রে পাওয়া পথিকৃতের কাছে স্বপ্নপূরণের সমান।
চিত্রনাট্যে কলম ধরেছেন অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্পণ গুপ্ত। বহুদিন পর বাংলা ছবিতে ফিরছেন সুরকার শান্তনু মৈত্র। মেকআপে সোমনাথ কুণ্ডুর হাতে গড়ে উঠছে ষাটের দশকের অনন্ত। কলকাতা, ঝাড়খণ্ড, ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম—বিভিন্ন ল্যান্ডস্কেপে ছড়িয়ে আছে এই ছবির শুটিং। গল্পে দেখা যাবে, মাস্টারদা সূর্য সেনের তত্ত্বাবধানে কীভাবে অনন্ত ধীরে ধীরে নিজেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন। স্বাধীনতার পর সামাজিক দুর্নীতি ও ব্যর্থতার যন্ত্রণাই তাঁকে ঠেলে দেয় ব্যাংক ডাকাতির পথে—কিন্তু লোভের জন্য নয়, বঞ্চিতদের হাতে সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মানসেই। অন্যদিকে, ইন্সপেক্টর দুর্গা রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ নেমে পড়ে তাঁর খোঁজে। বিশ্বাসঘাতকতা, রাজনৈতিক বুদ্ধি, আদর্শ বনাম বাস্তবতার সংঘর্ষে গল্প এগোয় চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে।
নন্দী মুভিজ প্রযোজিত এই পিরিয়ড ড্রামা কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে, তা এখনও অনিশ্চিত। ২০২৬ সাল থেকে নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার মেনে ছবি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে, তার ওপর বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বছরের শুরুতে মুক্তির ভিড় কম থাকার সম্ভাবনাও ভাবাচ্ছে নির্মাতাদের। আপাতত দর্শক অপেক্ষায়—জিৎকে আবার বড় পর্দায় দেখার জন্য।