রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে আচমকাই উত্তেজনার আবহ। টেলিপর্দার জনপ্রিয় মুখ সায়ন্তনী মল্লিক এবং তাঁর স্বামী রুদ্রনীল মল্লিকের জন্য যেন অপ্রত্যাশিত বিপত্তি অপেক্ষা করছিল মাঝরাস্তায়।

সায়ন্তনী-রুদ্রনীল।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে আচমকাই উত্তেজনার আবহ। টেলিপর্দার জনপ্রিয় মুখ সায়ন্তনী মল্লিক এবং তাঁর স্বামী রুদ্রনীল মল্লিকের জন্য যেন অপ্রত্যাশিত বিপত্তি অপেক্ষা করছিল মাঝরাস্তায়। শহরের রাজডাঙায় পথকুকুরদের জন্য খাবার নিয়ে পৌঁছেছিলেন তারা—আর সেই মানবিক কাজই মুহূর্তে রূপ নিল তীব্র বিবাদে। মাঝরাতে রাস্তায় কেন? ঠিক তখনই কী ঘটল? সেই উত্তরেই লুকিয়ে আছে ঘটনা ঘিরে এক অস্বস্তিকর বাস্তব।
সায়ন্তনী ফেসবুক লাইভে এসে জানান, পথকুকুরদের খেতে দিতে গিয়েই হঠাৎ কয়েকজন বয়স্ক স্থানীয় মানুষের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। অভিযোগ, রাস্তায় কেন কুকুরদের খাওয়ানো হচ্ছে—তা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিতে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই তিরিক্ষি হয়ে ওঠে যে একসময় ওই বয়স্করা ইন্দ্রনীলের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে আসেন। লাইভ ভিডিওতেই দেখা যায়, উত্তেজিত ভিড়ের ধাক্কাধাক্কি, অনেকের তীব্র ভাষায় সমালোচনা, আর সায়ন্তনীর আতঙ্কিত কণ্ঠে অনুরোধ—“কলকাতা পুলিশ, দয়া করে দেখুন। আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন এঁরা, অকথ্য ভাষায় কথা বলছেন। আমরা কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করব।”
লাইভের দৃশ্য আরও স্পষ্ট করে দেয়—সায়ন্তনী-ইন্দ্রনীল ছাড়াও তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনও এই গোলযোগের মধ্যে পড়েন। কমেন্ট বক্সে দর্শকরা একযোগে সাপোর্ট জানান অভিনেত্রীকে এবং পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলেন। এর আগেই সায়ন্তনীর সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরি ঘেঁটে বোঝা যায়—গতরাতে বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় ডিনারে গিয়েছিলেন সায়ন্তনী ও ইন্দ্রনীল। সেখান থেকে বেরোনোর পর পথকুকুরদের খেতে দেওয়ার আনন্দের মুহূর্তটিও ভিডিও করে পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। আর ঠিক সেই পোস্টের পরই শুরু হয় বিপত্তি। পরের স্টোরিতেই স্পষ্ট দেখা যায় স্থানীয়দের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।
এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথকুকুরদের নিয়ে একই ধরনের বিরোধ বহুবার দেখা গেছে। তবে সায়ন্তনী-ইন্দ্রনীলের এ ঘটনার পরে ফের সামনে উঠে এল সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ, যেখানে রাস্তায় পথকুকুরদের অবস্থান নিয়ে কড়া মন্তব্য করা হয়েছিল। প্রশ্ন আবারও সামনে—সমাজে অপরাধীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ালেও কেন নিরীহ প্রাণীদের নিয়ে এত আক্রোশ? মানুষের এই অসচেতনতা কি ক্রমেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?