সাফল্য, প্রতিপত্তি, ‘ভাল থাকা’ - এই তিনের পেছনে ছুটতে ছুটতে কোথাও কি ফসকে যাচ্ছে সম্পর্ক, সময় আর নিজের মানুষগুলো? এই প্রশ্নকেই কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে বাংলা ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 00:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহর বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে মানুষের সংজ্ঞাও। সাফল্য, প্রতিপত্তি, ‘ভাল থাকা’ - এই তিনের পেছনে ছুটতে ছুটতে কোথাও কি ফসকে যাচ্ছে সম্পর্ক, সময় আর নিজের মানুষগুলো? এই প্রশ্নকেই কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে বাংলা ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’ (Bengali movie Pratyabartan)।
শ্রী অভিজ্ঞান ড্রিমওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায়, সমর্পণ সেনগুপ্তের (Samarpan Sengupta) চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটি প্রযোজনা করছেন অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চিত্রগ্রহণে গোপী ভগত, শিল্প নির্দেশনায় তন্ময় চক্রবর্তী, সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন বনি চক্রবর্তী। সহ-চিত্রনাট্যে অনির্বাণ ঘোষাল ও অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সংলাপ লিখেছেন সমর্পণ নিজেই।
কাহিনী যা বলছে...
গল্পের কেন্দ্রে ডঃ দীপঙ্কর সান্যাল। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি মফস্বলের মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসরের চাকরি ছেড়ে স্ত্রী শালিনী ও তিন বছরের কন্যাকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি দেন। লক্ষ্য - আরও ভাল জীবন, আরও সুযোগ, সন্তানের জন্য আরও ‘উন্নত’ ভবিষ্যৎ তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহুরে সাফল্যের মোহ গ্রাস করে দম্পতিকে। বারো বছরে অজান্তেই বদলে যায় পরিবারের ভিত। একমাত্র মেয়ে দিশা ক্রমশ একা হয়ে পড়ে।
নিজের পরিচয় খুঁজতে দিশা আশ্রয় নেয় সাইবার জগতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল অস্তিত্বে। আর সেখান থেকেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিপত্তি, যা দীপঙ্কর-শালিনীর সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। সমাজ আর সুযোগ দিতে চায় না, চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
এই অবস্থাতেই নিজেদের ভুলের মুখোমুখি দাঁড়ান তাঁরা। পালানোর বদলে ফিরে যান শিকড়ের কাছে। শুরু হয় লড়াই - নিজেদের সঙ্গে, তারপর সমাজের সঙ্গে।
পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের কথায়, “আপনি সময়কে গুরুত্ব দেবেন, না আপনার গুরুত্বগুলোকে সময় দেবেন?”—এই প্রশ্নেরই প্রতিফলন ‘প্রত্যাবর্তন’। তাঁর দাবি, ছবির চরিত্ররা কাল্পনিক নয়; তারা আমাদের চারপাশের মানুষ, আমাদেরই প্রতিবিম্ব।
ছবিতে অভিনয় করেছেন অঞ্জন দত্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শিলাজিৎ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একঝাঁক পরিচিত মুখ। সঙ্গে রয়েছেন গৌরব তপাদার, অরুণাভ খাসনবিশ, দীপাঞ্জন ঘোষ (আরজে দীপ) এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা। বিশেষ পরিচিতি পাচ্ছে মিষ্টু।
পরিচালকের কথায়, এটি কোনও ‘মেসেজ’ দেওয়ার ছবি নয়; বরং দর্শককে আয়নার সামনে দাঁড় করানোর চেষ্টা। যেন হল থেকে বেরিয়ে প্রত্যেকে নিজের জীবন, সম্পর্ক আর ‘ভাল লাগা’-র সংজ্ঞাটা নতুন করে ভাবতে পারেন।