এখন কৌতূহলের ব্যাপার হল, ইম্পার বৈঠকের পর দেবে কথাবার্তা নিয়ে বাইরে যা কিছু চাউর হচ্ছে, তা ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে তাঁরও কিছু নিশ্চয়ই বলার রয়েছে। এ ব্যাপারে তাই দেবকে ফোন করা হয়। তাঁকে মেসেজও করা হয়। তিনি এখনও উত্তর দেননি। দেব এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানালে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

শেষ আপডেট: 29 January 2026 20:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সন্ধ্যার ঘটনা। শহর কলকাতায় তখন স্ক্রিনিং কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। বাইরে থেকে দেখলে সেটি ছিল তারকায় মোড়া এক সভা—প্রথমে হাজির জিৎ, তার পর দেব। একে একে পৌঁছন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রীকান্ত মোহতা, নীলরতন দত্ত, বাবলু দামানি নিসপাল সিং রানে, রানা সরকার, বনি সেনগুপ্ত-সহ টলিউডের প্রথম সারির সব মুখ। তবে ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই সেই বৈঠকের খবর বাইরে। ভিতরে পরিবেশ যে বেশ কিছুটা গম্ভীর ছিল, তার ছাপ অনেকের মুখেই ছিল স্পষ্ট। তবে ঠিক কী ঘটে, তার খানিকটা বাইরে বেরিয়ে পড়ায় শুরু হয়ে যায় শোরগোল। কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যে, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, দ্য ওয়াল-এর রিপোর্ট ঘিরে।
‘ধূমকেতু’, ‘রঘুডাকাত’, ‘দেশু-সেভেন’ (DESU7) খ্যাত দেবের হঠাৎ কী হল যে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে তিনি ‘চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে ফেললেন! এমন কিছু কথা দুম করে বলে ফেললেন, চার দেওয়ালের মধ্যে বিস্ফোরণের মতো শোনাল। যে কথা সদ্য পদ্মশ্রী পুরস্কার (Padmashree) পাওয়া প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee) জন্যও অসম্মানজনক। টলিউডের আর এক হিরো জিৎ-এর জন্য অস্বস্তির।
বুধবার ইম্পার দফতরে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক ঘিরে তাই সরগরম সিনেপাড়া। যে সভার নেতৃত্বে ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও।
কিন্তু সৌজন্যের আবহই দ্রুত বদলে বদলে যায়। বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে যান দেব। মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। বাইরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সামনে তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ শব্দে বলেন—“মিটিং নিয়ে বলার জন্য অনেক বড় বড় মাথা আছেন। ওঁরাই বলবেন।”
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনার মধ্যে দেব একাধিকবার প্রসেনজিৎ, জিৎ, পিয়া সেনগুপ্ত এবং নিসপাল সিং রানেকে এমন ভাষায় আক্রমণ করেন, যা অনেকের কাছেই অপমানজনক ঠেকে। কথোপকথনে স্তব্ধ হয়ে যান উপস্থিত সদস্যরা।
গোটা ঘটনার পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সবটা শোনেন। তার খুব নরম গলায় বলেন,“এই বিষয়ে আমি বাইরে কিছু বলব না। আমি এটাই বরাবর মেনটেন করেছি। আমার শিক্ষা ও সংস্কৃতি আমাকে সেভাবেই চালিত করে।” এদিন সন্ধ্যায় দ্য ওয়াল অভিনেতা বনি সেনগুপ্তকে সামনে পেয়ে ঘটনার বিষয় বিস্তারে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ‘কতটা কী ঘটেছে, সেটা ভিতরের ঘটনা, ব্যক্তিগত জায়গা। যাঁদের সঙ্গে ঘটেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁরা মুখ খুলছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিষয় কিছু বলা ঠিক হবে না। যেটুকু দেখেছি, কিছু জিনিস হয়তো সামলে বলা যেতে পারত। সেটা হয়তো সবার কানে ভাল নাও লাগতে পারে। আমার মনে হয়, যেটুকুই বলুক, একটু ভেবে চিন্তে বললে ভাল হয়।’
সূত্রের দাবি, বৈঠকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এক সময়ে বিনীতভাবে বলেছিলেন, “আমরা সবাই মিলে এই স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি করেছি। যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিলে তা ইন্ডাস্ট্রির ভালই করবে।” এই মন্তব্যের জবাবে দেব নাকি বলেন, “আজকাল তো তোমার কথাই শুনতে হবে। কারণ তোমার ছবি এখন দারুণ চলছে—(বিজয়নগরের হিরে), তার উপর আবার পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী পেয়েছ।”
পদ্মশ্রী-‘টদ্মশ্রী’শব্দচয়ন প্রসঙ্গে এদিন বনি বলেন, “অন্যভাবে সেটা বলা হয়েছিল। এটা যাঁদের মধ্যে হয়েছে তাঁদের মধ্যে থাকাটাই শ্রেয়। আমি কেন নিজে বিতর্কে জড়াব।” এই বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বনি। তাই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন তিনিও। তবে অন্দরের বিষয় বাইরে না আসাই ভাল বলে ইতি টানেন অভিনেতা। টলিপাড়ার একশ্রেণির দাবিও তাই। সিনেপাড়ার অন্দরে প্রশ্ন ওঠে, যাই ঘটে থাকুক, টলিপাড়ার অন্দরের বিষয় বাইরে কেন আসবে? প্রযোজক-পরিচালক রানা সরকারের গলায়ও একই সুর। দ্য ওয়ালকে তিনি বলেন, ‘সত্যি যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে সেটা স্ক্রিনিং কমিটির ভিতরেই থাকা উচিত ছিল। এক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে আমাদের মধ্যে একতার অভাব। নইলে এই খবর বাইরে আসবে কেন? স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে যদি কিছু ঘটে থাকে, তবে সেটা সেখানেই মিটিয়ে নেওয়া হবে। তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আমার মনে হয় না টলিপাড়ার জন্যে খুব একটা সুখকর হতে পারে।’
এখন কৌতূহলের ব্যাপার হল, ইম্পার বৈঠকের পর দেবে কথাবার্তা নিয়ে বাইরে যা কিছু চাউর হচ্ছে, তা ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে তাঁরও কিছু নিশ্চয়ই বলার রয়েছে। এ ব্যাপারে তাই দেবকে ফোন করা হয়। তাঁকে মেসেজও করা হয়। তিনি এখনও উত্তর দেননি। দেব এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানালে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।