চন্দ্র, চাঁদু, বশিষ্ঠ— ভালবাসার একাধিক নামে ডাকা হত তাঁকে। ফসিল্সের (Fossils 7) বেসিস্ট চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস (Chandramouli Biswas) ‘ছিলেন’? না কি ‘আছেন’?

চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস ও রূপম ইসলাম
শেষ আপডেট: 12 February 2026 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্র, চাঁদু, বশিষ্ঠ— ভালবাসার একাধিক নামে ডাকা হত তাঁকে। ফসিল্সের (Fossils 7) বেসিস্ট চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস (Chandramouli Biswas) ‘ছিলেন’? না কি ‘আছেন’? শারীরিকভাবে অনুপস্থিত হলেও তিনি যেন থেকে গিয়েছেন রূপম, অ্যালেন, দীপ, তন্ময়দের সঙ্গেই। লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় সেই উপস্থিতিই যেন টের পাওয়া গেল রূপমের (Rupam Islam) কণ্ঠে।
বহুপ্রতীক্ষিত ‘ফসিল্স ৭’ (Fossils News Album) প্রকাশের আগে আয়োজন হয়েছে এক অভিনব 'লিসনিং পার্টি' (Fossils 7 Listening Party)। শুধু গান শোনার জন্য ভক্তদের এমন সমাবেশ— এ দেশে বিরল। সেই অনভ্যস্ত অথচ আকর্ষণীয় পথেই হেঁটেছেন রূপমরা। আর সেই ঘরোয়া, প্রায় পারিবারিক আবহেই ফিরে এলেন চন্দ্রমৌলি। রূপম জানালেন, “আমার পক্ষ থেকে এই অ্যালবামটা চন্দ্রর জন্য।”
গত বছরের জানুয়ারির এক রবিবার সন্ধ্যায় আচমকাই ছড়িয়ে পড়েছিল চন্দ্রমৌলির মৃত্যুসংবাদ। প্রথমে অনেকে তা গুজব ভেবেছিলেন। কিন্তু কল্যাণীর এক কনসার্টে মঞ্চে দাঁড়িয়েই রূপম জানিয়ে দেন— ‘কমরেড’ আর নেই। সে দিন শো থামেনি। গলা ধরে এসেছিল রূপমের, অ্যালেন কেঁদে ভেঙে পড়েছিলেন। ব্যাকড্রপের বিশাল পর্দায় গিটার হাতে সাদা-কালো চন্দ্র— যেন বহু আলোকবর্ষ দূরে।
পরে জানা যায়, চন্দ্রমৌলি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” তবু প্রশ্ন, শোক আর নানা জল্পনা ঘিরে ফেলেছিল ঘটনাটিকে। সেই সময় রূপম একটি খোলা চিঠি লেখেন, যা দ্রুতই ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে সকলের।
২০১৮ সালে ফসিল্স ছেড়েছিলেন চন্দ্রমৌলি। ঝগড়া বা মনোমালিন্যের গসিপ ছিল না সেখানে। বরং নতুন ব্যান্ড ও প্রকল্পের নানা ভাবনা ভাগ করে নিতেন রূপমের সঙ্গে। ভয়েস মেসেজ, অসমাপ্ত আলাপ, আবার ‘ঘরে ফেরার’ ইঙ্গিত— সেই কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরে রূপম লিখেছিলেন, তাঁদের আলোচনা সব সময়েই সৃজনশীল ছিল। জ্যাজ ও ক্লাসিক্যালের মিশ্রণে কিছু গান নিয়ে কাজের পরিকল্পনাও হয়েছিল। “সময় লাগবে”— বলেছিলেন চন্দ্র। সেই অপেক্ষার আর শেষ হল না।
রূপম লিখেছিলেন, “হইহই করা হাসির ব্র্যান্ড হয়েই তুই আমার কাছে থাক। ওই মৃতদেহের মুখে আমি তোকে চিনব না… তোকে নিয়ে গোটা বই লিখে ফেলতে পারি। হয়তো কোনওদিন লিখেও ফেলব। রক অন।”
চন্দ্রমৌলি আর গিটারের তার ছুঁতে পারবেন না, হাসনুহানা ফুটলেও তা আর দেখবেন না— তবু তিনি থেকে গেছেন। যেমন থেকে গেলেন ‘ফসিল্স ৭’-এর লিসনিং পার্টির আড্ডায়, গান আর স্মৃতির ভাঁজে।