পুজোর আলোর উৎসব শেষ হতেই টলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি রিদ্ধিমা ঘোষ ও গৌরব ঘোষ পাড়ি দিয়েছেন এক টুকরো স্বপ্নের খোঁজে— দূর ইন্দোনেশিয়ায়।

দূর ইন্দোনেশিয়ায়...
শেষ আপডেট: 4 October 2025 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আলোর উৎসব শেষ হতেই টলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি রিদ্ধিমা ঘোষ ও গৌরব ঘোষ পাড়ি দিয়েছেন এক টুকরো স্বপ্নের খোঁজে— দূর ইন্দোনেশিয়ায়। কাজের ব্যস্ততা, শহরের কোলাহল আর আলো ঝলমলে পুজোর ভিড়ের পর এবার তাঁদের সময় শুধু নিজের জন্য, আর সঙ্গে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ— একমাত্র পুত্রসন্তান ধীর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ছবি পোস্ট করেছেন রিদ্ধিমা। ছবিতে কখনও হাতির পাশে ছোট্ট ধীরের উচ্ছ্বাস, কখনও জিরাফের দিকে বিস্ময়ে ভরা চাহনি। কোথাও আবার মা-বাবার সঙ্গে এক ফ্রেমে ধীরের মিষ্টি হাসি। প্রতিটি ছবির মধ্যেই যেন মিশে আছে পরিবারের নির্ভেজাল আনন্দ, ভালোবাসা আর একটুখানি জাদুর ছোঁয়া।
এই সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন কাটিয়েছেন তাঁরা তামান সাফারি-তে। ইন্দোনেশিয়ার পাহাড় ও জঙ্গলের কোলে গড়ে ওঠা এই বিস্তীর্ণ প্রাণীবিশ্ব যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত আশ্চর্য। এখানে হাতি, জিরাফ, সিংহ, বাঘ, হরিণ— নানা প্রাণী নিজেদের মতো করে ঘুরে বেড়ায় মুক্ত বাতাসে। গাছপালায় ঘেরা সেই সাফারি পার্কে মানুষও যেন ভুলে যায় শহরের কংক্রিট, ফিরে যায় নিজের সহজ স্বভাবে।
এই দিন নিয়েই রিদ্ধিমা লিখেছেন— দিনটা ছিল বিস্ময়ে ভরা। ধীর প্রথমবার হাতিকে এত কাছে দেখল। সে নিজে হাতে খাওয়াল হাতি আর জিরাফকে। এই মুহূর্তগুলো তার কাছে ছিল একেবারে জাদুর মতো। প্রাণীদের প্রতি ধীরের ভালোবাসা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর বাবা-মা হিসেবে আমাদের একটাই ইচ্ছে— যেন আমরা তার সেই ছোট ছোট স্বপ্নগুলো সত্যি করে দিতে পারি। এই সফর কেবল তারই শুরু। আর সেই পথ চলার মাঝেও আমরা দু’জনে চুরি করে নিয়েছিলাম কিছু মুহূর্ত, শুধুমাত্র নিজেদের জন্য।
এই কয়েকটি বাক্যেই যেন ফুটে ওঠে এক মায়ের মনের গভীরতা— যেখানে সন্তান, প্রকৃতি আর ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ধীরের চোখে প্রথম বিস্ময়, গৌরবের মুখে মৃদু হাসি, আর রিদ্ধিমার স্নেহভরা দৃষ্টি— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অমূল্য স্মৃতি।
তামান সাফারির এ দিন যেন শুধু এক ভ্রমণ নয়, বরং জীবনের এক অনুভব— যেখানে এক শিশুর হাসিতে ঝরে পড়ে প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা, আর বাবা-মায়ের ভালোবাসায় ধরা দেয় জীবনের আসল সুখের মানে।