প্রয়াত হলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী বীরেন্দ্রপ্রসাদ হাজারি। অরিজিৎ সিং-য়ের গুরুজি ছিলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

গুরুজির সঙ্গে অরিজিৎ
শেষ আপডেট: 4 October 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী বীরেন্দ্রপ্রসাদ হাজারি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮। বিজয়া দশমীর সকালে, বৃহস্পতিবার, দেবীপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে বহু ছাত্রছাত্রীকে তালিম দিয়েছেন বীরেন্দ্রবাবু, যাঁদের মধ্যে অন্যতম আজকের প্রখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং।
শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু জেলার সঙ্গীত মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও। কারণ, এই শিল্পী শুধু গুরু হিসেবে সকলের কাছের ছিলেন, এমন নয়, এক প্রজন্মের কাছে সঙ্গীত জীবনের পথপ্রদর্শক ছিলেন।
পণ্ডিত রাজেন্দ্রপ্রসাদ হাজারি ও ধীরেন্দ্রপ্রসাদ হাজারির ছোট ভাই। জেলার বাইরেও বহু ছেলে-মেয়ে তাঁর কাছে গান শিখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
বীরেন্দ্রপ্রসাদ হাজারির প্রতিষ্ঠিত 'মূর্ছনা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়' দীর্ঘদিন ধরেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতচর্চার কেন্দ্রস্থল। এখানেই তালিম নিয়েছিলেন অরিজিৎ সিংয়ের মা-ও। আর মায়ের হাত ধরেই ছোট্ট অরিজিৎ যেতেন গুরুজির কাছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে গুরুজি জানিয়েছিলেন, 'তখন ও (অরিজিৎ) খুব ছোট। হারমোনিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমি ওকে ‘সা’ বলতে বললে, ও ‘তা’ বলত।' সেই কথা থেকেই স্পষ্ট, শৈশব থেকেই অরিজিৎকে কোলে-পিঠে বসিয়ে গান শিখিয়েছেন তিনি।
এহেন গুরুদেবের প্রয়াণে জিয়াগঞ্জ শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং অরিজিৎ সিং, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে।
জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে বীরেন্দ্রপ্রসাদ হাজারির অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার ধরা পড়ে। সেদিন থেকেই চিকিৎসা চলছিল বেঙ্গালুরুতে। তবে শেষরক্ষা হল না। অগণিত ছাত্রছাত্রী ও অনুরাগীকে রেখে চলে গেলেন পরলোকে।